মাথাভাঙায় তৃণমূল কর্মীকে কুপিয়ে খুন, অস্ত্রের আঘাতে জখম দাদা-বৌদিও

তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই খুনের সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সম্পাদক বিপুল রায়ের দাবি, ‘‘দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকেই এই ঘটনা। জমি নিয়ে এলাকার অন্য একটি পরিবারের সঙ্গে তাঁদের অশান্তি চলছিল। তার জেরেই খুন।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার : মাথাভাঙায় খুন হলেন এক তৃণমূল কর্মী। দুষ্কৃতীদের আক্রমণে জখম হয়েছেন তাঁর দাদা-বৌদিও। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের ‌নাম গণেশ সরকার (৪০)। তিনি এলাকায় দীর্ঘদিনের তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত।

মাথাভাঙার হাজরাহাটের বালাসি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন গণেশবাবু। প্রতিবেশীরা জানান, বুধবার গভীর রাতে একদল দুষ্কৃতী গণেশবাবুর বাড়িতে হামলা চালায়। তাঁর নাম ধরে ডাকাডাকি করায় বেরিয়ে আসেন তিনি। তখন ধারালো অস্ত্র দিয়ে  এলোপাথাড়ি কোপায় তাঁকে। চিৎকার শুনে ভাইকে বাঁচাতে এগিয়ে যান তাঁর দাদা বিমল সরকার ও বৌদি মমতা। তখন তাঁদের উপরেও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাস্থলেই গণেশ মারা যান। বাকি দুজনের অবস্থাও গুরুতর। তাঁদের আর্তচিৎকার শুনে পড়শিরা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। বিমলবাবু ও তাঁর স্ত্রীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই খুনের সঙ্গে জড়িত। জেলা তৃণমূল সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়ের অভিযোগ, ‘‘খুন জখম করে এলাকায় সন্ত্রাসের আবহ তৈরি করে রেখেছে বিজেপি। গণেশবাবু দীর্ঘদিনের তৃণমূল কর্মী। তাঁর উপর বারবার বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। তিনি কিছুতেই দল না ছাড়ায় পৃথিবী থেকেই সরিয়ে দেওয়া হল তাঁকে। গণেশবাবুর দাদা-বৌদির অবস্থাও আশঙ্কাজনক।আমরা পরিবারটির পাশে রয়েছি।’’

অন্যদিকে বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সম্পাদক বিপুল রায়ের দাবি, ‘‘দীর্ঘদিনের পারিবারিক দ্বন্দ্ব থেকেই এই ঘটনা। জমি নিয়ে এলাকার অন্য একটি পরিবারের সঙ্গে তাঁদের অশান্তি চলছিল। তার জেরেই খুন হয়েছেন গণেশবাবু, আক্রান্ত হয়েছেন তাঁর আত্মীয়রা। এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। তৃণমূলের নীতিই হল বিজেপি কর্মীদের মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া। এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে।’’

এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই জমি নিয়ে গনেশ সরকারদের পরিবারের সাথে দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তবে কী কারণে খুন তা নিয়ে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। মাথাভাঙা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সমস্ত অভিযোগই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More