খুনে অভিযুক্ত পরিচারিকা বিজেপি হলে কি গ্রেফতার করত দিনহাটা থানা? প্রশ্ন তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহর

বিজেপি বিরোধী দল। পুলিশকে দুষতেই পারে তারা। কিন্তু শাসকদলের বিধায়কও পুলিশকে কাঠগড়ায় তোলায় চাঞ্চল্য পড়ে গেছে জেলা জুড়ে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

তপলব্ধ পালিত, কোচবিহার: পুলিশের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন দিনহাটার বিধায়ক উদয়ন গুহ। বুধবার দিনহাটার পুলিশ ছ’বছর আগে বৃদ্ধ দম্পতিকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে প্রাণে মারার চেষ্টার অভিযোগে রায়গঞ্জ থেকে গ্রেফতার করে তাঁদের পরিচারিকাকে। বন্ধ হয়ে যাওয়া মামলাটি নতুন করে খুল‌ে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের এই ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় পুলিশের দারুণ প্রশংসা করেছিলেন উদয়নবাবুর এক ফেসবুক ফ্রেন্ড। আর তাতেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হল দিনহাটার বিধায়কের।

এই পোস্ট দেখেই সাম্প্রতিক কালে ঘটে যাওয়া বেশ কিছু ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন উদয়নবাবু। প্রশ্ন তুললেন ওই মহিলা বা তাঁর কোনও আত্মীয় যদি বিজেপির কর্মী হত, তাহলে কি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করত? দিনহাটার বিধায়কের এটাও প্রশ্ন ভেটাগুড়িতে যারা পুলিশের গাড়িতে বোমা ছুড়েছিল, তাদের গ্রেফতার করা হল না কেন? দিনহাটা থানায় যারা পাথর ছুড়েছিল তারাই বা কেন এখনও অধরা? একটি খুনে অভিযুক্তকে গ্রেফতারের পর দিনহাটার বিধায়কের এই ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে।

বিজেপির অবশ্য পাল্টা বক্তব্য, ছ’বছর আগের মামলা খুঁচিয়ে বার করে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারলেও দিনহাটার পুলিশ সাম্প্রতিক কালে এক শিক্ষিকাকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তথা জেলাপরিষদের কর্মাধ্যক্ষ নুর আলম হোসেনকে গ্রেফতার করতে পারেনি। প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তার খোঁজ পাচ্ছে না বলে অভিযোগ বিজেপি নেতৃত্বের। নেতারা।

বিজেপি বিরোধী দল। পুলিশকে দুষতেই পারে তারা। কিন্তু শাসকদলের বিধায়কও পুলিশকে কাঠগড়ায় তোলায় চাঞ্চল্য পড়ে গেছে জেলা জুড়ে।

২০১৪ সালে এক রাতে কোচবিহারের দিনহাটার বাসিন্দা সুবোধ চক্রবর্তী ও আরতী চক্রবর্তীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে খুনের চেষ্টা করা হয়। আরতীদেবীর মৃত্যু হলেও হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে কোনওমতে বেঁচে যান সুবোধবাবু। সেই ঘটনার পরেই পালিয়ে যায় ওই দম্পতির বাড়ির পরিচারিকা মঞ্জু সাহা। দিনহাটা থানার পুলিশের তদন্তে অন্যতম অভিযুক্ত হিসেবে মঞ্জু সাহার নাম উঠে আসলেও অনেক তল্লাশি চালিয়েও তার খোঁজ পায়নি।

সম্প্রতি দিনহাটার পুলিশ গোপন সূত্রে খবর পায় অভিযুক্ত পরিচারিকা মঞ্জু সাহা নাম পরিবর্তন করে পূর্ণিমা সাহা নামে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জের চণ্ডীতলায় তাঁর বোন সরস্বতী ঘোষের বাড়িতে রয়েছেন। এরপরেই রায়গঞ্জ থানাকে বিষয়টি জানায় দিনহাটা থানার পুলিশ। রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার অনুপম সিং জানিয়েছেন, দিনহাটা পুলিশের কাছ থেকে সূত্র পেয়ে রায়গঞ্জ থানার আইসি সুরজ থাপার নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী চণ্ডীতলায় তল্লাশি চালিয়ে সরস্বতী ঘোষের বাড়ি থেকে খুনের অভিযুক্ত পরিচারিকা মঞ্জু সাহা ওরফে পূর্ণিমাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার করা হয় তার বোন সরস্বতীকেও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More