তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেতাকে গ্রেফতারের খবরে উত্তাল চাঁচল, থানার সামনে তুমুল বিক্ষোভ

চাঁচল থানার পুলিশ জানিয়েছেন, ট্রাফিক অফিসারকে নিগ্রহ করার অভিযোগে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ওই নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিন দুপুরে চাঁচল মহাকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথেই ওই সংগঠনের কর্মী, সমর্থকরা চাঁচল থানার সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পুলিশের গাড়ি থেকে অভিযুক্ত নেতাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে।

৯৩৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবস্থান-বিক্ষোভ ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল চাঁচল থানার সামনে। গ্রেফতার হওয়া তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক নেতাকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছাড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে পুলিশ। নামানো হয় কমব্যাট ফোর্স।

ওই তৃণমূল ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে পুলিশ কর্মীদের নিগ্রহ করার অভিযোগ আনা হয়েছে‌। পুলিশের বিরুদ্ধে দাদাগিরির পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চাঁচলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত যুবক হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি বিমান ঝা। সোমবার দশমীর রাতে চাঁচলের শান্তিপুর মোড়ে যানজট এড়াতে পুলিশ নজরদারির ব্যবস্থা করে। অভিযোগ, মোটরবাইক নিয়ে ওই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতা জোর করে ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তখনই কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা তাঁকে আটকান। কিন্তু সেই সময় ওই ছাত্রনেতা পুলিশদের গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ‌। বাধা দিতে এসে নিগৃহিত হন চাঁচলের এক ট্রাফিক অফিসার। তারপরেই পুলিশ ওই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

এই গ্রেফতারের খবর জানাজানি হতেই মঙ্গলবার সকালে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লক জুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট ব্লকের তৃণমূল ছাত্র যুব সংগঠনের নেতাকর্মীরা চাঁচল থানার সামনে এসে পুলিশের বিরুদ্ধে অন্যায় ভাবে সংগঠনের সভাপতি বিমান ঝাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ চলতে থাকে বিক্ষোভ। এরইমধ্যে ধৃত ওই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতাকে চাঁচল মহকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় চরমে ওঠে বিক্ষোভ। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে। পুলিশের লাঠির আঘাতে চারজন তৃণমূল ছাত্র ও যুব সংগঠনের কর্মী জখম হয়েছেন বলে জানিয়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। দুপুর দুটো পর্যন্ত চাঁচল থানা ঘেরাও করে রাখে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ ও যুব সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতির কথা জানতে পেরে চাঁচল মহকুমার পদস্থ পুলিশ কর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন। দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূলের যুব নেতা স্বপন চৌধুরী বলেন,  ‘‘অন্যায় ভাবে ছাত্র সংগঠনের সভাপতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার প্রতিবাদ জানাতে গেলে চাঁচল থানার পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে।’’

চাঁচল মহকুমা আদালতে যাওয়ার পথে ধৃত তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি বলেন, ‘‘আমি কোনও দোষ করিনি। মোটরবাইক নিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমার বাইক আটকায়। আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে। এরপরই বাকবিতণ্ডার মধ্যেই আমাকে গ্রেফতার করা হয়। বিক্ষোভ দেখানোয় আমাদের দলের সমর্থকদেরও লাঠিপেটা করে।’’

এদিকে চাঁচল থানার পুলিশ জানিয়েছেন, ট্রাফিক অফিসারকে নিগ্রহ করার অভিযোগে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ওই নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদিন দুপুরে চাঁচল মহাকুমা আদালতে নিয়ে যাওয়ার পথেই ওই সংগঠনের কর্মী, সমর্থকরা চাঁচল থানার সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। পুলিশের গাড়ি থেকে অভিযুক্ত নেতাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। বাধ্য হয়ে লাঠিচার্জ করতে হয়েছে। চাঁচলের এসডিপিও সজলকান্তি বিশ্বাস বলেন, ‘‘নিয়ম সবার জন্য এক। যে ঘটনা ঘটেছে তার তদন্ত চলছে। আপাতত পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More