ফের মালদহে কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ-নীহার ঘোষের কাজিয়া প্রকাশ্যে,অস্বস্তিতে তৃণমূল

রিভাইস বাজেট নিয়ে তুমুল বিতণ্ডায় জড়ালেন ইংরেজবাজার পুরসভার প্রাক্তন ও বর্তমান চেয়ারম্যান

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: ইংরেজবাজার পুরসভার রিভাইস বাজেটকে ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল।  বাজেটে দুর্নীতি ও সরকারি নিয়ম না মানার অভিযোগ তুলে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সরব হলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা কাউন্সিলর কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। সভাকক্ষেই বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লেন বর্তমান এবং প্রাক্তন চেয়ারম্যান।

    শুক্রবার দুপুরে ইংরেজবাজার পুরসভার ২০১৯-২০ অর্থবর্ষের রিভাইস বাজেট পেশ হয়। ২১১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়। তারপরেই এই বাজেট নিয়মবহির্ভূত ভাবে হয়েছে বলে সভায় সরব হন প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা ১০ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী। তিনি বলেন, “সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন এবং পুর-আইন মেনে এদিনের রিভাইস বাজেট করা হয়নি। এদিন আমার কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে দিয়ে রিভাইস বাজেট করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই বাজেট কতটা নিয়ম মেনে করা হচ্ছে তা আগে দেখতে হবে। বর্তমান পুরবোর্ড সরকারি কোনও নিয়ম মেনে রিভার্স বাজেট করেনি।

    যদিও প্রাক্তন চেয়ারম্যান ও বর্তমান কাউন্সিলর কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরীর এমন অভিযোগ একেবারেই ভিত্তিহীন এবং অযৌক্তিক বলে পাল্টা দাবি করেছেন পুর চেয়ারম্যান নীহার ঘোষ। তিনি জানান, সরকারের নির্দেশ রয়েছে বলেই পুরসভায় এদিন রিভাইস বাজেট পেশ হয়েছে। পুর আইনের বাইরে গিয়ে কাজ করা যায় না। তবুও অদ্ভুতভাবে জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, “রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে একটি নির্দেশ এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরসভার রিভাইস বাজেট পেশ করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে শুক্রবার ২১১ কোটি টাকার বাজেট পেশ করা হয়েছে। অথচ প্রাক্তন চেয়ারম্যান উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে বিভিন্ন ভাবে বিরোধিতা করে আসছেন। এটা দল কখনই ভালো চোখে দেখছে না।”

    ইংরেজবাজার পুরসভার কনফারেন্স হলে এদিন ২৯ টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের নিয়ে রিভাইস বাজেট পেশ হয়। পুরসভার চেয়ারম্যান জানান, গত বছর ২১০ কোটি টাকার খসড়া বাজেট পেশ হয়েছিল। পরবর্তীতে লোকসভা ভোটের জন্য নির্বাচনী বিধি লাগু থাকায় মূল বাজেট পেশ করা করা যায়নি। ডিসেম্বর মাসে পুরসভার অডিট চলার কারণে  নতুন করে রিভাইজ বাজেট করা যায়নি। এনিয়ে রাজ্য সরকারকে জানানো হয়েছিল‌। সম্প্রতি সরকারের নির্দেশ আসে ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পুরসভার রিভাইস বাজেট পেশ করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে এদিন বাজেট পেশ করা হয়েছে। তবে ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে এই বাজেটে সামান্য কিছু টাকা বেড়ে ২১০ কোটি থেকে ২১১ কোটি টাকা হয়েছে। উপস্থিত কাউন্সিলরদের সর্বসম্মতিক্রমে এই বাজেট পাশ হয়েছে। শুধুমাত্র বিরোধিতা করেছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান।

    প্রাক্তন ও বর্তমান চেয়ারম্যানের এই সংঘাত অবশ্য মালদহের মানুষের কাছে নতুন নয়। কয়েক দিন আগেই কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী বলেছিলেন, “ওয়ার্ডে ভোট চাইতে গেলে মানুষ আমাদের জুতো মারবেন। কারণ, এই তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডে শুধু দুর্নীতি হয়েছে। মানুষের কোনও কাজ হয়নি।” তাঁর সেই মন্তব্য ঘিরেও শোরগোল পড়ে গিয়েছিল।

    যাঁকে তোপ দেগে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান এমন বেফাঁস মন্তব্য সেই নীহাররঞ্জন ঘোষ পাল্টা বলেন, “যদি কোনও কাউন্সিলর নিজের ওয়ার্ডে কাজ না করে তবে সাধারণ মানুষের কাছে জুতো ঝাঁটা খেতেই হবে। আগের বোর্ডের তুলনায় এই বোর্ড অনেক উন্নয়নের কাজ করেছে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More