অরূপ বিশ্বাস ফিরতেই বিস্ফোরক মোহন বসু জানালেন পুরভোটে দল টিকিট না দিলে গোঁজ প্রার্থী হবেন

জলপাইগুড়ি পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যানের মানভঞ্জন করতে বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতে যান অরূপ বিশ্বাস। দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ঘরে কথা হয় দুজনের। অরূপ বিশ্বাসের দাবি, তাঁকে আলাদা করে কোনও ক্ষোভের কথা জানাননি মোহনবাবু। কিন্তু মোহনবাবু জানান, দল যদি টিকিট না দেয় প্রয়োজনে ত্রিশুল চিহ্নে দাঁড়িয়ে ভোটে জিতে দেখাবেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: পর্যবেক্ষক ফিরে যেতেই ফের বিস্ফোরক মোহন বসু। পুরভোটে দল তাঁকে টিকিট না দিলে গোঁজ প্রার্থী হতে পিছপা হবেন না। জানিয়ে দিলেন জলপাইগুড়ি পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান।

গত কিছু দিন ধরেই নানা ইস্যুতে মোহন বসুর সঙ্গে দলের সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই তৃণমূল পরিচালিত জলপাইগুড়ি পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান মোহন বসুর বিরুদ্ধে রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছিলেন জেলার যুব তৃণমূল সভাপতি সৈকত চট্টোপাধ্যায়। দলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণীর কাছের লোক হিসেবেই পরিচিত সৈকত। সাংবাদিক সম্মেলবে যুব নেতা অভিযোগ করেছিলেন, মেয়াদ শেষের দিন অর্থাৎ ১৬ মে ডিবিসি রোডে বিজেপির পার্টি অফিসের প্ল্যান পাশ করে গিয়েছেন মোহনবাবু। শাসকদলের অন্য কাউন্সিলরদের অন্ধকারে রেখেই বিজেপির পার্টি অফিসের প্ল্যান পাশ করার অনুমোদন দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

বুধবার রাজ্যের তিন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, গৌতম দেব ও মলয় ঘটকের উপস্থিতিতে জলপাইগুড়ি জেলা ও ব্লক স্তরের কমিটিগুলি তৈরি করা হয়। পরে সাংবাদিক বৈঠক করে কমিটিতে জায়গা পাওয়া দলের সদস্যদের নাম ঘোষণা হয়। জেলা কমিটিতে নাম রাখা হয়নি মোহন বসুর। তারপরেই অবশ্য জলপাইগুড়ি পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যানের মানভঞ্জন করতে বৃহস্পতিবার তাঁর বাড়িতে যান অরূপ বিশ্বাস। দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ঘরে কথা হয় দুজনের।

বেরিয়ে এসে অরূপ বিশ্বাস দাবি করেন, ‘‘মোহনবাবু অসুস্থ। তাঁকে দেখতেই তাঁর বাড়িতে আসা।’’ বেশ কিছুদিন ধরেই দলের জেলা কমিটির বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভের কথা জানিয়ে আসছেন জলপাইগুড়ি পুরসভার বিদায়ী চেয়ারম্যান। যদি অরূপ বিশ্বাসের দাবি, তাঁকে আলাদা করে কোনও ক্ষোভের কথা জানাননি মোহনবাবু।

এদিকে মোহনবাবু জানান, যা বলার তিনি অরূপ বিশ্বাসকে বলে দিয়েছেন। বিষয়টি দেখার জন্য সময় চেয়ে নিয়েছেন দলের জলপাইগুড়ি জেলার পর্যবেক্ষক অরূপ বিশ্বাস। আবার পাশাপাশি এটাও জানিয়ে দেন ফের পুরভোটে প্রার্থী হবেন তিনি। বলেন, ‘‘দল যদি টিকিট না দেয় তাহলে প্রয়োজনে ত্রিশুল চিহ্নে দাঁড়িয়ে ভোটে জিতে দেখাব। পুরভোট আসন্ন ধরে নিয়ে জলপাইগুড়ি পুর এলাকায় ২৫ টি ওয়ার্ডে অনুগামীদের নিয়ে কাজও শুরু করে দিয়েছি।’’

এতে তৃণমূলের জেলা যুব সভাপতি তথা পৌর প্রশাসক বোর্ডের সদস্য সৈকত চ্যাটার্জী বলেন, ‘‘মোহন বসু মহাশয় আমাদের চেয়ে বয়সে অনেক বড়। তাই কটুক্তি করা শোভা পায় না। তবে এটুকু বলতে পারি ঘাসফুল বাদে অন্য সিম্বলে দাঁড়ালে লড়াইতে তিনি দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে থাকবেন।’’

বুধবার দলের জেলা ও ব্লক কমিটি গঠন নিয়ে রীতিমতো তেতে উঠেছিল জেলা তৃণমূলের কার্যালয়। ময়নাগুড়ির ব্লক সভাপতি হিসেবে মনোজ রায়ের নাম ঘোষণা হতেই ময়নাগুড়ির তৃণমূল নেতা ডালিম রায়ের অনুগামীদের নেতৃত্বে বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই বিক্ষোভ সামাল দিতে হিমশিম খান দলীয় নেতৃত্ব। কোনওক্রমে ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যান গৌতম দেব। কিন্তু অরূপ এবং মলয় আটকে পড়েন পার্টি অফিসে। তাঁদের আটকে রেখেই বাইরে স্লোগান ওঠে, ‘মমতা ব্যানার্জী জিন্দাবাদ, শুভেন্দু অধিকারী জিন্দাবাদ।’ এদিন মোহনবাবুর বক্তব্য স্পষ্ট করে দিল দলের অন্দরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব জিইয়ে রয়েছে তাঁদের আড়ালেও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More