পার্টি অফিসের দখল নিয়ে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বচসায় উত্তপ্ত বর্ধমানের গলসি

দীর্ঘদিন আগে এই পার্টি অফিসটি গ্রামের তৃণমূল নেতাদের দখলে ছিল। কিন্তু যুব ও মাদার দুই গোষ্ঠীর বিবাদের জেরে কয়েক মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয় এই পার্টি অফিসটি। রবিবার সকালে গলসি ২ নং ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজন মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীরা ঘটা করে পার্টি অফিসটির উদ্বোধন করেন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: এ বার পার্টি অফিসের দখল নিয়ে তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে এল গলসিতে। রবিবার  রাত আটটা নাগাদ গলসির বুঁইচাপুলে তৃণমূলের পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বচসা বাধে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে গলসি থানার পুলিশ। দু’পক্ষকেই সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    জানা গেছে, দীর্ঘদিন আগে এই পার্টি অফিসটি গ্রামের তৃণমূল নেতাদের দখলে ছিল। কিন্তু যুব ও মাদার দুই গোষ্ঠীর বিবাদের জেরে কয়েক মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয় এই পার্টি অফিসটি। রবিবার সকালে গলসি ২ নং ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুজন মণ্ডল ও তাঁর অনুগামীরা ঘটা করে পার্টি অফিসটির উদ্বোধন করেন।

    সুজন অনুগামীদের অভিযোগ, তাঁরা নতুন করে পার্টি অফিস খুলে বসার পরেই তাঁদের উপর চড়াও হন এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি, যিনি গলসি (২) নম্বর পঞ্চায়েত সমিতিরও সভাপতি সেই বাসুদেব চৌধুরীর অনুগামীরা। তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা শৈলেন হালদারের অনুগামীরা প্রচুর সংখ্যক লোকজন নিয়ে পাটি অফিসটি দখল করার চেষ্টা করে।  পার্টি অফিসের ভিতরের লোকজনকে টেনে বের করে দেয় বলে তাঁদের অভিযোগ। গ্রামের বাসিন্দা সুজন গোষ্ঠীর অনুগামী গলসি পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ সাহানাজ বেগম বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে পড়েছিল পার্টি অফিসটি। তাঁরা নতুন করে পার্টি অফিস উদ্বোধন করেন। বিকেলের পর থেকে পার্টি অফিসের কিছুটা দূরেই ঝামেলা লাগানোর জন্যই শৈলেন হালদারের অনুগামীরা পিকনিক শুরু করে। রাত আটটা নাগাদ পার্টি অফিস দখল নেওয়ায় চেষ্টা করে তারা।’’

    গলসি পঞ্চায়েতের সদস্য ও অন্য গোষ্ঠীর অনুগামী শেখ আজিজুল হক ওরফে মানিক অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘‘প্রতিবছর এই দিনেই আমরা এখানে পিকনিক করি। এবার নতুন কিছু নয়। কিন্তু তবুও বাধা দেওয়া হয়। তাই নিয়ে ঝামেলা হয়। কেউ কাউকে পার্টি অফিস থেকে বার করে দেয়নি। এই ঝামেলার সঙ্গে অন্য কোনও কিছুর যোগ নেই।’’

    দুই গোষ্ঠীর বচসায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। বিজেপির জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দীর অভিযোগ, গলসিতে তৃণমূলের একাধিক গোষ্ঠী। বালি খাদান, পঞ্চায়েতে টেন্ডার এ সব নিয়ে এই গোষ্ঠীগু‌লির লড়াই লেগেই থাকে। তিনি বলেন, ‘‘আর এ সব নিয়েই অশান্ত হয় এলাকা। আতঙ্কে থাকেন সাধারণ মানুষ।’’

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More