দুই গোষ্ঠীর তুমুল সংঘর্ষ আরামবাগে, বোমার আঘাতে মৃত্যু এক যুব তৃণমূল কর্মীর

তৃণমূলের জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব বলেন, ‘‘আরামবাগে সংঘর্ষে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। কী থেকে কী হয়েছে তা জানতে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলব। তাহলেই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে তুমুল সংঘর্ষে মৃত্যু হল এক যুব তৃণমূল কর্মীর। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আরামবাগের হরিণখোলা। মুড়িমুড়কির মতো বোমা পড়তে থাকে। চলে গুলিও। বোমার আঘাতে মৃত্যু হয় শেখ ইব্রাহিম ওরফে শেখ চন্দন (৩৫) নামে এক যুব তৃণমূল কর্মীর।

আরামবাগের হরিণখোলা ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ঘোল তাজপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ ইব্রাহিম। স্থানীয় তৃণমূল নেতা লাল্টু খানের অনুগামী হিসাবে পরিচিত ছিলেন নিহত তৃণমূল কর্মী। আরামবাগের হরিণখোলা এলাকার দখল নিয়ে স্থানীয় তৃণমূল নেতা শেখ লাল্টু এবং পুরশুড়ার প্রাক্তন বিধায়ক পারভেজ রহমানের লড়াই দীর্ঘদিনের। এলাকার বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ধরে সেই বিবাদ চরম আকার নেয়। বুধবারও দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

রাতটুকু বন্ধ থাকার পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পরের পর বোমার শব্দে কাঁপতে থাকে গোটা এলাকা। এলাকার বাসিন্দারা জানান, সকালে কেউ কাজে যেতে পারেননি। বোমা-গুলির লড়াইয়ের মধ্যে পড়ে আতঙ্কে সিঁটিয়ে আছেন সবাই। সবার চোখের সামনেই বোমা গুলি নিয়ে চলে তাণ্ডব। বোমার আঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় যুব তৃণমূল কর্মী শেখ ইব্রাহিমের। তারপরেই আরও তেতে ওঠে গোটা এলাকা। খবর পেয়ে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী।

বোমার আঘাতে আহত বেশ কয়েককে জন আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের আঘাত গুরুতর। ব্যাপক উত্তেজনা থাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ঘোলতাজপুরে। পুলিশ জানিয়েছে, সংঘর্ষ ও ওই যুব তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকার বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি।

এই ঘটনা সম্পর্কে তৃণমূলের জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব বলেন, ‘‘আরামবাগে সংঘর্ষে এক তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। কী থেকে কী হয়েছে তা জানতে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলব। তাহলেই পুরো বিষয়টি স্পষ্ট হবে। যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। প্রশাসন যে ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে। পাশাপাশি দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে সাংগঠনিকভাবে যা ব্যবস্থা নেওয়ার তা নেওয়া হবে।’’ ঘটনার খবর পেয়ে উত্তরপাড়া থেকে আরামবাগের দিকে রওনা হয়েছেন দলের জেলা সভাপতি।

উত্তেজনা থাকায় গোটা গ্রামে টহল দিচ্ছে বিশাল পুলিশবাহিনী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More