তৃণমূল ও বাম-কংগ্রেস জোটের সমর্থকদের তুমুল সংঘর্ষে ফের উত্তপ্ত চোপড়া, বোমায় জখম ১

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ বাম-কংগ্রেস জোটের কর্মীরা পরিকল্পিত হামলা করে তাদের কর্মীদের ওপর। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাঁদের পাল্টা দাবি, প্রশাসনের মদতে এলাকায় সন্ত্রাস করার লক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা জমায়েত হচ্ছিল। তাদের নিজেদের আনা বোমা ফেটেই তারা আহত হয়েছে।

৩২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: ফের উত্তপ্ত চোপড়া। তৃণমূল ও বাম-কংগ্রেস জোটের সমর্থকদের মধ্যে তুমুল বোমাবাজিতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় লক্ষ্মীপুর। ঘটনায় এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়াও দু’পক্ষের আরও তিন-চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বিশাল বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন ইসলামপুর পুলিশ জেলার পুলিশ কর্তারা।

তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ বাম-কংগ্রেস জোটের কর্মীরা পরিকল্পিত হামলা করে তাদের কর্মীদের ওপর। এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। তাঁদের পাল্টা দাবি, প্রশাসনের মদতে এলাকায় সন্ত্রাস করার লক্ষ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা জমায়েত হচ্ছিল। তাদের নিজেদের আনা বোমা ফেটেই তারা আহত হয়েছে।

গ্রাম পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর থেকেই উত্তপ্ত ছিল চোপড়া থানার লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। দীর্ঘদিন লক্ষ্মীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে তালা মেরে রেখে দিয়েছিল বাম-কংগ্রেস জোটের সমর্থকরা। দীর্ঘ প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় পরে প্রশাসনের মধ্যস্থতায় পঞ্চায়েতের কাজকর্ম সাবলীল করার লক্ষ্যে সর্বদলীয় একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হচ্ছিল জানা গেছে।

শনিবার বিকেলে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ পক্ষে হাথরাস কাণ্ড ও কেন্দ্রীয় কৃষি আইনের বিরোধিতায় বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। এই কর্মসূচিতে জমায়েত হওয়া শুরু হতেই বাম-কংগ্রেস জোটের কর্মী-সমর্থকরা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মহাম্মদ আজহারউদ্দিন বলেন, ‘‘পাইপগান, ম্যাসকট, বোমা নিয়ে হামলা চালায় ওরা। বোমার আঘাতে আমাদের কর্মী মহম্মদ রফিকুল গুরুতর আহত হন। রাজ্যের সর্বত্র অশান্তির আবহ  তৈরি করছে বিরোধীরা।’’ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এই জমায়েতে বাম-কংগ্রেস জোটের সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবেই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের।

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। লক্ষ্মীপুরের কংগ্রেস সভাপতি সইদুল ইসলাম বলেন, ‘‘পুজোর আগে এলাকায় কোনও রাজনৈতিক দলকে কোনও কর্মসূচির অনুমতি প্রশাসন যেন না দেয় তার জন্য বলে আসছিলাম আমরা। কিন্তু চোপড়া থানার পুলিশ আমাদের অনুরোধ শোনেনি। আমাদের এলাকায় তৃণমূল ছাত্র পরিষদ নেই তাও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নামে তৃণমূল কংগ্রেসকে জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়। যিনি আহত হয়েছেন তিনি আমাদের আক্রমণ করার জন্য বোমা নিয়ে আসছিলেন। সেই বোমা ফেটেই তিনি আহত হয়েছেন।’’

অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ উত্তপ্ত চোপড়া লক্ষ্মীপুর। এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন৷ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর প্রশাসনের মধ্যস্থতায় কমিটি গঠন করে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করা হয়েছে। তাই শান্তি যাতে বজায় থাকে তা দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More