উমফানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগে হাওড়ার তিন নেতাকে সাসপেন্ড করল তৃণমূল

এরা হলেন সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য জয়ন্ত ঘোষ, পাতিহাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বেচারাম বোস ও উত্তর ঝাপরদহের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী সুমন ঘোষাল।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: এতদিন চলছিল শোকজ পর্ব। এবার উমফানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতি সামনে আসায় হাওড়ার তিন তৃণমূল নেতাকে সাসপেন্ড করল দল। এরা হলেন সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য জয়ন্ত ঘোষ, পাতিহাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বেচারাম বসু ও উত্তর ঝাপরদহের পঞ্চায়েত প্রধানের স্বামী সুমন ঘোষাল।

    বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এ কথা জানালেন হাওড়া জেলার তৃণমূল সভাপতি অরূপ রায়। তিনি বলেন, ‘‘দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এই সমস্ত নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে যে পদে তাঁরা রয়েছেন সেই পদ থেকে তাঁদের অবিলম্বে পদত্যাগ করার কথা বলা হয়েছে। না করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’

    অরূপবাবু জানান,এ ছাড়াও উমফানের ক্ষতিপূরণ বিলি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় শোকজ করা হয়েছে বড়গাছিয়া দু’নম্বর পঞ্চায়েতের প্রধান শবনম সুলতানা এবং জগৎবল্লভপুর একনম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ নুর হোসেনকে । তিনি বলেন, ‘‘উমফানের ক্ষতিপূরণ নিয়ে রাজ্যজুড়ে দুর্নীতি চলছে বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে বিরোধীরা। এটাই তাদের কাজ। হাতেগোনা যে ক’টি ক্ষেত্রে আমাদের দলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যথার্থ অভিযোগ রয়েছে তার প্রতিটা ক্ষেত্রে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ খতিয়ে দেখে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট না হলে সাসপেন্ড করাও চলছে।’’

    ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ৩০ জুন হাওড়ার পাঁচজন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা এবং কর্মীকে শোকজ করেছিল দল। এঁরা হলেন ডোমজুড়ের মাকড়দহ এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান কাজল সর্দার, উত্তর ঝাপরদহ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান সুভাষ পাত্র এবং গ্রাম পঞ্চায়েতের উপ-প্রধানের স্বামী সুমন ঘোষাল, জগতবল্লভপুরের পাঁতিহাল গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বেচারাম বসু, সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত ঘোষ। অরূপবাবু জানিয়েছিলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বিলি নিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে দলের কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। তদন্ত করার পর তাঁদের শোকজ নোটিস দেওয়া হয়। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর দিতে বলা হয়েছে। তারপরই দল তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

    কিছুদিন আগে মাকড়দহ ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে লাঠি-জুতো নিয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। ঘেরাও করেন পঞ্চায়েত অফিস। অভিযোগ, তাঁদের ক্ষতিপূরণ না দিয়ে স্বজনপোষণ করেছেন পঞ্চায়েত প্রধান। প্রধান কাজল সর্দার অবশ্য পাল্টা দাবি করেন, তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকা পাঠালেও প্রশাসনের অসহযোগিতায় গন্ডগোল হয়েছে। সমবায় মন্ত্রী অরূপ রায় বলেন, ‘‘যাদের অনৈতিকভাবে টাকা দেওয়া হয়েছে তা ফেরত নেওয়া হবে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদেরই টাকা দেওয়া হবে।’’

    বাংলায় করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর থেকেই রেশন দুর্নীতির অভিযোগ উঠতে শুরু করেছিল শাসক দলের একাধিক নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে। স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে হয়েছিল, ত্রাণ দিতে হলে নিজের পকেট থেকে দিন! ঘূর্ণিঝড় উমফানের তাণ্ডবের পর অভিযোগ উঠতে শুরু করে ত্রাণের টাকা নিয়ে অনিয়মের। এমন পরিস্থিতিতেই এবার শাস্তির খাঁড়া।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More