সাইকেলের গুঁতোয় চিতাবাঘ ঠেকিয়ে প্রাণে বাঁচলেন ডুয়ার্সের ওয়াশাবাড়ির চা শ্রমিক

মাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্তোষ বলেন, ‘‘আমি পড়ে যাই। চিতাবাঘ তখন থাবা মারার চেষ্টা করে আমার মাথায় ও ঘাড়ে। বেগতিক দেখে কোনওরকমে ভাবে উঠে বসে সাইকেল দিয়ে সমানে গুঁতো মারতে থাকি চিতাবাঘের গায়ে। এরপরেই লাফিয়ে চিতাবাঘটি ঢুকে যায় লাগোয়া ঝোপে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ভাগ্যিস সাইকেলে করে যাচ্ছিলেন! সেই সাইকেলের গুঁতো দিয়ে চিতাবাঘ তাড়িয়ে প্রাণে বাঁচলেন ওয়াশাবাড়ি চা বাগানের আপার লাইনের বাসিন্দা এক শ্রমিক।

    সোমবার সন্ধেবেলা সাইকেল নিয়ে চা বাগানের ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন ডুয়ার্সের ওয়াশাবাড়ি চা বাগানের শ্রমিক বস্তির বাসিন্দা বছর ৩৮ এর সন্তোষ সোনার। রেলগেটের কাছে আসতেই ঝোপে লুকিয়ে থাকা চিতাবাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁর উপর। মাল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্তোষ বলেন, ‘‘আমি পড়ে যাই। চিতাবাঘ তখন থাবা মারার চেষ্টা করে আমার মাথায় ও ঘাড়ে। বেগতিক দেখে কোনওরকমে ভাবে উঠে বসে সাইকেল দিয়ে সমানে গুঁতো মারতে থাকি চিতাবাঘের গায়ে। এরপরেই লাফিয়ে চিতাবাঘটি ঢুকে যায় লাগোয়া ঝোপে।’’

    সন্তোষের আর্ত চিৎকার শুনে ছুটে আসেন লাগোয়া এলাকার লোকজন। তাঁরাই রক্তাক্ত সন্তোষকে নিয়ে আসেন মাল হাসপাতালে। এখন সেখানেই চিকিৎসা চলছে সন্তোষ সোনারের। তিনি জানান, বাড়িতে ৫ জন সদস্য। তাঁর একার উপার্জনে সংসার চলে। লকডাউনে কাজ নেই। তাই মঙ্গলবার বাগানে কাজ হবে কি না জানতে সাইকেল নিয়ে বের হয়েছিলেন। তিনি বলেন,‘‘ আমি তো এখন বে রোজগার হয়ে গেলাম। জানি না কতদিনে সুস্থ হয়ে উঠতে পারব।’’

    এ দিকে এই ঘটনার পরেই চিতাবাঘের আতঙ্ক গ্রাস করেছে ওয়াশাবাড়ি চা বাগান এলাকাকে। এলাকার বাসিন্দা বসন্ত রাই বলেন, ‘‘এলাকায় চিতাবাঘের উপদ্রব বেড়েছে। কাল কোনওমতে প্রাণে বেঁচেছে সন্তোষ। রাতে আমরাই ওঁকে মাল হাসপাতালে নিয়ে যাই। এখন সেখানে চিকিৎসা চলছে। এখনই এখানে খাঁচা পাতার ব্যবস্থা করুক বনদফতর।’’

    মাল ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের রেঞ্জার বিভূতিভূষণ দাস বলেন, ‘‘চিতাবাঘের হামলায় জখম ব্যক্তির চিকিৎসার যাবতীয় খরচ বহন করবে বন দফতর। এই হাহাকারের সময় আমরা স্থানীয় ভাবে ওই পরিবারকে নিশ্চয়ই কিছু সাহায্য করব। পাশাপাশি ঐ পরিবার যদি আরও কিছু বাড়তি সাহায্য চায়, তবে তা লিখিত আকারে দিলে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষর কাছে তা অবশ্যই পাঠাবো। খাঁচা পাতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More