‘পুলিশকাকুর’ কথায় মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা দিল দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম ছাত্রী

পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে  সোমবার সকালে কচুবেড়িয়া মোড়ে উল্টে যায় টোটো

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে  সোমবার সকালে উল্টে যায় টোটো। দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয় চার মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তাদের মধ্যে সবথেকে বেশি চোট লাগে তাহেরা খাতুনের। মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষায় আর বসা হবে, এমন আশা ছেড়েই দিয়েছিল তাহেরা খাতুন। কিন্তু শেষপর্যন্ত হাসপাতালের শয্যায় বসে পরীক্ষা দিল সে। আগাগোড়া পাশে ছিলেন কুলপি থানার আইসি তরুণ রায়।

    সোমবার মাধ্যমিকের অঙ্ক পরীক্ষা দিতে কচুবেড়িয়া থেকে টোটো করে চার সহপাঠীর সঙ্গে বাগাড়িয়া যাচ্ছিল তাহেরা। কলাগাছিয়া হাইস্কুলের ছাত্রী তাহেরাদের সিট পড়েছিল বাগাড়িয়া কালিকা আদর্শ বিদ্যামন্দির স্কুলে। কচুবেড়িয়া মোড়ে উল্টে যায় টোটোটি। সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসেন আশেপাশের লোকজন। খবর যায় কুল্পি থানাতেও। কুল্পি থানার ভারপ্রাপ্ত আইসি তরুণ রায় খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। আহতদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় কুল্পি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।

    প্রাথমিক চিকিৎসার পর তিন ছাত্রী পরীক্ষা দিতে চলে গেলেও মনোবল হারিয়ে ফেলেছিল তাহেরা। পরীক্ষা দেওয়ার ইচ্ছেই হারিয়ে ফেলেছিল চোটের যন্ত্রণায় কাতর এই ছাত্রী। এই সংকট মুহূর্তেই তরুণবাবু ওই ছাত্রীর দিকে বাড়িয়ে দেন হাত। অনেক বুঝিয়ে পরীক্ষায় বসতে রাজি করান। তারপর কুল্পির বিডিও এবং ডায়মন্ডহারবারের এসডিওকে জানিয়ে কুল্পি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই নিজের তত্ত্বাবধানে পথ দুর্ঘটনায় আহত ছাত্রী তাহেরা খাতুনকে পরীক্ষায় বসার ব্যবস্থা করে দেন। বলেন, “যন্ত্রণায় খুব কষ্ট হচ্ছিল ওর। তবুও আমি ওকে বারবার সাহস দিয়েছি। যদি পরীক্ষাটা দিতে পারে। এতদিনের পরিশ্রম না হলে বিফলে যেত।”

    পরীক্ষা মোটের উপর ভালই হয়েছে ওই ছাত্রীর। পরে তাহেরা বলে, “তখন পরীক্ষা দিতে পারব বলে ভাবিনি। পুলিশকাকুর জন্যই আমার একটা বছর বেঁচে গেল।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More