স্কুল বন্ধ, তাই চা বাগানের ছেলেমেয়েদের ১০ টাকায় টিউশন পড়াচ্ছেন শিলিগুড়ির দম্পতি

খড়গপুর আইআইটিতে কর্মরত শিলিগুড়ির বাসিন্দা অনির্বাণ নন্দী। তাঁর স্ত্রী পৌলমী চাকী নন্দী ২০১৭ সাল থেকে গবেষণার কাজে ঘোরাঘুরি শুরু করেন উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত গ্রামে। তখনই গ্রামের মানুষদের দুঃখ দুর্দশার ছবিটা খুব কাছ থেকে দেখেন। এই মানুষদের পাশে দাঁড়াতে গড়ে তোলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি : করোনা পরিস্থিতিতে স্কুলে যাওয়া বন্ধ। ক্লাস চলছে অনলাইনে। কিন্তু মোবাইল ফোন কেনার সামর্থ্য নেই যাদের? সেই সমস্ত পড়ুয়ার কথা মাথায় রেখেই এগিয়ে এলেন শিলিগুড়ির অনির্বাণ নন্দী এবং তাঁর স্ত্রী পৌলমী চাকী নন্দী। শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া বিস্তীর্ণ চা বাগান এলাকা। বাগান বস্তিতে বসবাসকারী শিশু-কিশোরদের অধিকাংশই স্কুল বন্ধ থাকায় পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন। কারণ অ্যান্ডরয়েড ফোন, অনলাইন ক্লাস এ সমস্ত কিছুই তাঁদের বেশিরভাগের কাছেই আকাশকুসুম। এমন পরিস্থিতিতে এই ছেলেমেয়েদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলেন এই দম্পতি।

শিলিগুড়ি লাগোয়া বিভিন্ন চা–বাগান এলাকায় তাঁদের একটা পরিচিতি আছে। সবাই তাঁদের চেনেন ‘প্যাডম্যান দম্পতি’ হিসেবে। মহিলাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখতে চা বাগান এলাকার শ্রমিক বস্তিগুলিতে গিয়ে বিনামূল্যে স্যানিটারি প্যাড বিলি করেন তাঁরা। এখানেই থেমে না থেকে রুগ্ন চা–বাগান, গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে শুরু করেন ভ্রাম্যমান গ্রন্থাগার পরিষেবাও।

এবার এই দম্পতিই বাগান বস্তির ছেলেমেয়েদের টিউশন পড়ানোর দায়িত্ব নিতে এগিয়ে এলেন।  শিলিগুড়ির অদূরে মেরিভিউ, গঙ্গারাম এবং কিরণচন্দ্র চা–বাগান এলাকায় চলতি মাস থেকেই টিউশন দিতে শুরু করেছেন তাঁরা। এরজন্য প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হবে মাসে দশ টাকা করে। প্রতি সপ্তাহে দু’দিন করে বাগানের আদিবাসী মহল্লার পিছিয়ে পড়া ছেলেমেয়েদের বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হবে। দেওয়া হবে কম্পিউটার প্রশিক্ষণও। সেই প্রশিক্ষণ নিয়ে ওই ছেলেমেয়েরা যাতে কিছু কাজকর্ম করতে সক্ষম হয় তার জন্য শংসাপত্র দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন অনির্বাণ নন্দী। তিনি বলেন, ‘‘‌উদ্যোগটা শুরু হয়েছিল এক বছর আগে। কিন্তু শুরুতে সেভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি। এবার আবার নতুন করে নতুন উদ্যমে নেমে পড়েছি আমরা। গ্রামাঞ্চলে, চা–বাগান এলাকায় আমরা দেখেছি শিক্ষাকে সেখানকার মানুষ যতটা পারে দূরে সরিয়ে রাখতে চায়। এখন করোনা পরিস্থিতিতে বিষয়টি আরও বেশি মাত্রায় প্রকট হয়েছে। কোনওভাবেই যাতে তারা পড়াশোনার সঙ্গ না ছাড়ে তার জন্যই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’‌’

অনির্বাণবাবুদের ৮ জনের টিম আছে। তাদের কেউ গৃহশিক্ষকতা করেন, কেউ স্কুল শিক্ষক। ঠিক হয়েছে রবিবার এবং বুধবার করে এই টিউশন দেওয়া হবে। মেরিভিউ চা বাগানে ১৪০ জন, গঙ্গারাম চা বাগানে থেকে ২০০ জন এবং কিরণচন্দ্র চা বাগানে ৬৮ জনকে পড়াবেন তাঁরা।

খড়গপুর আইআইটিতে কর্মরত শিলিগুড়ির বাসিন্দা অনির্বাণ নন্দী। তাঁর স্ত্রী পৌলমী চাকী নন্দী ২০১৭ সাল থেকে গবেষণার কাজে ঘোরাঘুরি শুরু করেন উত্তরবঙ্গের প্রত্যন্ত গ্রামে। তখনই গ্রামের মানুষদের দুঃখ দুর্দশার ছবিটা খুব কাছ থেকে দেখেন। এই মানুষদের পাশে দাঁড়াতে গড়ে তোলেন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা।

চা বাগানের শ্রমিক বস্তিগুলিতে এখন ধীরে ধীরে নিজেদের কর্মকাণ্ডের পরিধি বাড়াচ্ছেন অনির্বাণ আর পৌলমী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More