রোগীর আত্মীয়কে মেরে মাথা ফাটানোর অভিযোগ বর্ধমান মেডিক্যালের নিরাপত্তা রক্ষীদের বিরুদ্ধে

হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘সোমবার সব নিরাপত্তারক্ষীদের ডাকা হয়েছে। লাঠি ছাড়া কাজ করার জন্য নিরাপত্তারক্ষীদের বলা হবে। রোগীর আত্মীদের কোনও অভিযোগ থাকলেও সে দিন শুনব।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: এক রোগীর আত্মীয়কে মারধরের অভিযোগ উঠল বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষীদের বিরুদ্ধে। লাঠি দিয়ে মেরে তাঁর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। হাসপাতাল সুপারের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত ব্যক্তি ও তাঁর পরিবার।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার দুপুরে। আউটডোর বিভাগের পাঁচ তলায় অপারেশন চলছিল বুদবুদের বাসিন্দা হীরালাল মিদ্যার। সকাল দশটা নাগাদ তাঁর অপারেশন শুরু হয়। বাইরে তাঁর তিনজন আত্মীয় ছিলেন। দুপুরে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁদের একজনকে থাকতে বলে বাকিদের নীচে নেমে যেতে বলেন। সেই নিয়েই শুরু হয় বচসা। আত্মীদের মধ্যে একজনের মুখে মাস্ক ছিল না বলেও নিরাপত্তারক্ষীদের দাবী। এই বচসার সময় হঠাৎ এক নিরাপত্তারক্ষী সেখ কওসর আলির নামে একজনের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মাথা ফেটে রক্ত বের হতে শুরু করে। অভিযোগকারীদের দাবি, এই ঘটনার পরে তাঁদের টেনে হিঁচড়ে নীচে নামিয়ে দেয় নিরাপত্তারক্ষীরা।

ঘটনার পর হাসপাতালের সুপারের অফিসে গিয়ে লিখিত অভিযোগ করেন সেখ কওসর আলি। তিনি বলেন, ‘‘রোগীর রক্তের দরকার হতে পারে। তাই আমাদের ওখানে থাকতে বলা হয়েছিল। সকালের দিকে সমস্যা না হলেও দুপুরের পরে নিরাপত্তারক্ষীরা আমাদের গালাগালি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে নীচে নামাতে থাকে। প্রতিবাদ করায় পিছন থেকে হঠাৎ কেউ লাঠি দিয়ে আঘাত করে। মাটিতে লুটিয়ে পড়লেও ওরা গলা ধরে সিঁড়ি দিয়ে টেনে হিঁচড়ে নামিয়ে দেয়।’’

অপর এক আত্মীয় নজর আলি বলেন, ‘‘পাঁচ-ছ’জন নিরাপত্তারক্ষী তাঁদের উপর চড়াও হয়ে এই কাণ্ড ঘটায়। এইভাবে সরকারি হাসপাতালে যদি আমরা আক্রান্ত হই, তাহলে কোথায় নিরাপত্তা পাব?’’

ঘটনার পর নিরাপত্তারক্ষীদের একাংশ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে রোগীর আত্মীয়দের নামে পাল্টা খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ করেন। সেখানে অভিযোগকারীদের ডেকে এনে আলোচনা হয়। হাসপাতালের সুপার প্রবীর সেনগুপ্ত এদিন হাসপাতালে ছিলেন না। ফোনে তিনি বলেন, ‘‘সোমবার সব নিরাপত্তারক্ষীদের ডাকা হয়েছে। লাঠি ছাড়া কাজ করার জন্য নিরাপত্তারক্ষীদের বলা হবে। রোগীর আত্মীদের কোনও অভিযোগ থাকলেও সে দিন শুনব।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More