গুরুং বহালতবিয়তে ঘুরছেন কলকাতায়, পুলিশের হলটা কী? উত্তর খুঁজছে পাহাড়

তাঁর বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় একাধিক মামলা। এই সেদিনও রাজ্য পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়িয়েছে বিমল গুরুংকে। সেই বিমল গুরুংই বুধবার সটান হাজির একেবারে রাজ্যের রাজধানীতে। পুলিশ তাঁকে দেখেও না দেখায় অবাক পাহাড়ের মানুষ।

৪২৩

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৭ সালের ৮ জুন। দার্জিলিঙে ক্যাবিনেট বৈঠক করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওইদিনই পৃথক রাজ্যের দাবিতে  ভানুভবনে অবস্থানে বসেছিলেন বিমল গুরুং-রোশন গিরিরা। সেই অবস্থান থেকেই হামলা চালানো হয় পুলিশের উপর। তার পরবর্তীতে পৃথক রাজ্যের দাবিতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে থাকে পাহাড়। ১০৪ দিনের টানা বনধ, বিক্ষোভ, মিছিল, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তেতে ওঠে দার্জিলিং ও লাগোয়া এলাকা। তখন থেকেই গা ঢাকা দেন তখনকার মোর্চা সুপ্রিমো বিমল গুরুং ও রোশন গিরি।

২০১৭ সালের ১৫ অগস্ট। সেদিন দার্জিলিঙে দলীয় অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা তুলেছিলেন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সুপ্রিমো। এরপর থেকেই ফেরার বিমল। সঙ্গে রোশন গিরিও। তাদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় শতাধিক মামলা রয়েছে রাজ্য সরকারের। পুলিশ তাদের পাকড়াও করার অনেক চেষ্টাও করেও বিফল হয়েছে। ছোঁয়া যায়নি দুজনকেই। এমনকী বিমল-রোশনের খোঁজে সিকিমে ঢুকে পড়ে সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর তোপের মুখেও পড়তে হয়েছিল রাজ্য পুলিশকে। ওই বছরেরই ১৩ অক্টোবর বিমলকে ধরতে গিয়ে গুলিতে মৃত্যু হয় রাজ্য পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর অমিতাভ মালিকের। এরপরেই লুক আউট নোটিশ জারি হয় বিমলের বিরুদ্ধে। তখন থেকেই ফেরার বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে তাঁরা দিল্লিতে আত্মগোপন করেন বলে জানা যায়। একসময়ের জোটসঙ্গীকে বিজেপির সর্বোচ্চ নেতৃত্বই আশ্রয় দিয়েছেন বলেও মনে করে রাজনৈতিক মহল। চলতি বছরের মার্চ মাসে বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানের একটি ছবি ভাইরাল হতেই সেই ধারনাই মজবুত হয় আরও। নবদম্পতি ও নাড্ডার সঙ্গে ছবিতে দেখা যায় বিমল গুরুং, রোশন গিরিকে।

কিন্তু এই সম্পর্কে ফাটল প্রকাশ্যে আসে চলতি বছরের অগস্ট মাসে। বিজেপিকে বিঁধে গুরুংপন্থী মোর্চার দেওয়া প্রেস বিবৃতি ঘিরে তুমুল আলোড়ন পড়ে যায় পাহাড়ে। পাহাড় ও ডুয়ার্সে সংগঠন বিস্তারে উদ্যোগী হওয়াতেই মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরির তোপের মুখে পড়েন বিজেপি নেতৃত্ব। নাম করে কটাক্ষ করা হয় দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্তকেও।

ওই প্রেস বিবৃতিতে রোশন জানিয়েছিলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৯- টানা দশ বছর বিজেপি সাংসদদের জিতিয়ে এনেছেন বিমল গুরুংয়ের নেতৃত্বাধীন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। যশবন্ত সিংহ বা সুরিন্দর সিংহ আলুওয়ালিয়া দার্জিলিংয়ের বিজেপি সাংসদ থাকার সময় পাহাড়ে সংগঠন বিস্তারের কোনও চেষ্টা করেনি বিজেপি। কিন্তু সম্প্রতি পাহাড় ও ডুয়ার্সে সেই চেষ্টা শুরু করেছে বিজেপি। রোশনের অভিযোগ, এমন একটা সময় যখন মোর্চা নেতারা আড়ালে থাকতে বাধ্য হচ্ছেন তখনই পরিস্থিতির সুযোগ নিচ্ছে বিজেপি। বিজেপি তাদের দলের হয়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযানের কথাও ঘোষণা করেছে। দার্জিলিংয়ের সাংসদ সেই কর্মসূচিকে উৎসাহের সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোশন। বিজেপিকে গেঁথে রোশন এমন পরামর্শও দেন যে, সদস্য বৃদ্ধি না করে বিজেপি পাহাড় সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা পালন করুক।

বিজেপির সঙ্গে মধুচন্দ্রিমা যে শেষের পথে তা এই প্রেস বিজ্ঞপ্তির পরে অনেকটাই খোলসা হয়ে যায় পাহাড়বাসীর কাছে। দার্জিলিঙে ফিরতে না পারলে যে রাজনৈতিক কেরিয়ারও শেষ গত তিন বছরে তা বেমালুম বুঝে গেছেন বিমল গুরুং-রোশন গিরিরা। তাই রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আবহকেই তাঁরা হাতিয়ার করতে মরিয়া বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন রাজ্যের সঙ্গে সমঝোতা করে নিলে পাহাড়ে হারানো জমি ফিরে পেতে যে তাঁদের সুবিধা হবে তা বুঝে গিয়েছেন তাঁরা। অন্যদিকে পাহাড়ের একসময়ের অবিসংবাদী নেতার সঙ্গে সমঝোতা হলে যে লাভ বই ক্ষতি নেই রাজ্যের শাসকদলের, এটাও এখন দিনের আলোর মতোই পরিষ্কার।

তাই পাহাড়ের ফেরার নেতাকে বুধবার শহর কলকাতার এ মাথা ও মাথা চষে ফেলতে দেখেই রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশের ধারণা মঞ্চ তৈরি হয়েই আছে। এখন কুশীলবদের শুধু মঞ্চে ওঠার পালা।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More