মামলা তুলতে চাপ দিচ্ছে অভিযুক্তরা, পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ মালদহের নির্যাতিতা

সাড়ে তিন বছর আগে গণধর্ষণের অভিযোগ, এখনও নিষ্পত্তি হয়নি মামলার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ : সাড়ে তিন বছর আগে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছিল। একটি কন্যা সন্তানেরও জন্ম দিতে হয়েছে নির্যাতিতাকে। কিন্তু সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি এখনও। উপরন্তু গণধর্ষণকাণ্ডে জামিনে ছাড়া পেয়ে এখন ধর্ষিতা যুবতী ও তার পরিবারকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য অভিযুক্তরা খুনের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনকি নির্যাতিতা যুবতীর দুই ভাইকেও মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয় বলে অভিযোগ। বর্তমানে জেলে রয়েছেন তাঁরা। উপায় না পেয়ে মালদহের পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হলেন হরিশ্চন্দ্রপুর থানার কাউয়ামারি গ্রামের বাসিন্দা অসহায় ওই যুবতী।

    তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়ার সঙ্গে দেখা করেন নির্যাতিতা ও তাঁর পরিবার। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন মালদহের আইনজীবী তথা গৌড়বঙ্গ হিউম্যান রাইটস্ অ্যাওয়ারনেস সেন্টারের সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় দাস। পুরো ঘটনাটি জানার পর পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এই ঘটনায় হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ ছড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রামবাসীরাও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

    প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে স্কুলে পড়াকালীন কাউয়ামারী গ্রামের ওই যুবতীকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে প্রতিবেশী সাইদুর রহমান, তাহির আলি ও তোরাব আলি। সেই সময় নির্যাতিতা ওই যুবতী নাবালিকা ছিলেন। এই ঘটনার পর অভিযোগের ভিত্তিতে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তারা জামিনে ছাড়া পেয়ে যায়। 

    ২০১৭ সালের পয়লা ফেব্রুয়ারি এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। মাঝখানে অভিযুক্তরা কিছুদিনের জন্য জেল খেটেছে। পরবর্তীতে জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নির্যাতিতা ওই যুবতীর পরিবারকে তারা প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি নির্যাতিতা ওই যুবতীর পরিবার নতুন করে অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। পরবর্তীতে ২ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্তরা নির্যাতিতার পরিবারের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করে। আর সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতিতা ওই যুবতীর দুই ভাই আব্দুল মালেক এবং সিরাজুল হককে গ্রেফতার করে পুলিশ। যা নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।  

    নির্যাতিতা ওই যুবতী বলেন, আমাকে ২০১৭ সালে স্কুল যাওয়ার সময় অভিযুক্ত ওই তিনজন তুলে নিয়ে যায়। তারা ধর্ষণ করে। এরপর আমি একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দিয়েছি।  জামিনে ছাড়া পেয়ে এখন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ওরা ক্রমাগত আমাদের খুনের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি মিথ্যা মামলা সাজিয়ে আমার দুই ভাইকে গ্রেফতার করিয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ কোনও ব্যাবস্থা নিচ্ছে না। তাই পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়েছি। নতুন করে আবার আদালতের দ্বারস্থ হব। বিচার না পেলে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানাব।

    নির্যাতিতা ওই যুবতীর মা বলেন, ২৫ জানুয়ারি হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করেছি। আমরা আতঙ্কে আছি। প্রাণভয়ে বাড়িতে থাকতে পারছি না। দুই ছেলেকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পুরেছে ওরা। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশ অভিযুক্তদের মদত যোগাচ্ছে। আমরা এর বিচার চাই।

    আইনজীবী তথা গৌড়বঙ্গ হিউম্যান রাইটস অ্যাওয়ারনেস সেন্টারের সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় দাস বলেন, গণধর্ষণের পর ওই তরুণী মা হয়েছেন। অথচ ডিএনএ টেস্ট করা হয়নি। অভিযুক্তরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য এখন হুমকি দিচ্ছে। সমস্ত অভিযোগের কথা পুলিশ সুপারকে জানিয়েছি। আমরা চাই দ্রুত এর বিচার হোক। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি হোক।

    পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া বলেন, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পুলিশকে পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ওই যুবতীর অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখে  আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

     

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More