ডুয়ার্সের পাটখেতে পাইথন দেখে ভয়ে ছুট মারলেন সাফাই করতে আসা দুই চাষি

তাদের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন আশেপাশের জমির চাষি ও গ্রামের মানুষজন। এমন পরিস্থিতিতে বহু ক্ষেত্রেই পিটিয়ে সাপ মেরেছেন গ্রামের মানুষ। এ যাত্রা কিন্তু তাঁরা খবর দেন ময়নাগুড়ির পরিবেশ কর্মী নন্দু রায়কে। তিনি তাঁর টিম নিয়ে এসে পাইথনটি ধরে বন দফতরের কর্মীদের হাতে তুলে দেন।

১০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: কাজে আসল লাগাতার সচেতনতা প্রচার। পাট খেতে পাইথন দেখে তাকে না মেরে পরিবেশ কর্মীদের খবর দিলেন চাষিরা। রক্ষা পেল বন্যপ্রাণ।

রবিবার ময়নাগুড়ি ব্যাঙকান্দি এলাকায় পাট খেতে আগাছা সাফাই করতে ঢুকেছিলেন মঙ্গলা রায় ও সঞ্জিত রায়। আগাছা সাফাই করতে করতে আচমকাই দেখতে পান কুণ্ডলী পাকিয়ে বসে আছে একটি বিশাল পাইথন। সঙ্গে সঙ্গে কাজ ফেলে চিৎকার করতে করতে ছুটে পালান তাঁরা।

তাদের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন আশেপাশের জমির চাষি ও গ্রামের মানুষজন। এমন পরিস্থিতিতে বহু ক্ষেত্রেই পিটিয়ে সাপ মেরেছেন গ্রামের মানুষ। এ যাত্রা কিন্তু তাঁরা খবর দেন ময়নাগুড়ির পরিবেশ কর্মী নন্দু রায়কে। তিনি তাঁর টিম নিয়ে এসে পাইথনটি ধরে বন দফতরের কর্মীদের হাতে তুলে দেন।

নন্দু রায় বলেন, ‘‘এই এলাকায় চা বাগান থাকায় মাঝেমধ্যেই চিতাবাঘ, খরগোশ, পাইথন- সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী চলে আসে। এই সমস্ত প্রাণীর যাতে কোনও ক্ষতি না হয় তারজন্য এখানকার বাসিন্দাদের মধ্যে মাঝেমধ্যেই সচেতনতা প্রচার চালাই আমরা। তারই ফল মিলল। সাপটিকে না মেরে আমাদের খবর দেওয়ায় একটি বন্যপ্রাণী রক্ষা পেল। এটি একটি ইন্ডিয়ান রক পাইথন ছিল। আমরা সাপটিকে অক্ষত অবস্থায় ধরে রামশাই রেঞ্জ অফিসের বনকর্মীদের হাতে তুলে দিয়েছি।’’

তিনদিন আগে এই ব্যাঙকান্দির বাসিন্দা গৌরাঙ্গ রায়ের বাড়ির পাশে খেলে বেড়াচ্ছিল বাদামী রঙের একটি ইন্ডিয়ান হেয়ারের ছানা। তাকে ধরে ছোট একটি খাঁচায় পুরে ঘাস, ছোলা ইত্যাদি খাইয়ে চলছিল লালনপালন। খবর পেয়েই ছুটে যান নন্দু রায়। ছানাটিকে উদ্ধার করে ময়নাগুড়ি রামশাই রেঞ্জ অফিসের বনকর্মীদের হাতে তুলে দেন তিনি।

এই পরিবেশ কর্মী বলেন, ‘‘যে কোনও বন্যপ্রাণীকে মারা বা বাড়িতে আটকে রাখা দুটোই অপরাধ। এই বোধটা এলাকার মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে। বিশেষ প্রজাতির খরগোশ ধরা পড়ার পরেও আমাদের খবর দিয়েছিলেন এলাকার মানুষ। পাট খেতে পাইথন ধরা পড়ার পরেও গ্রামের মানুষ আমাদের জানান। দু’টি বন্যপ্রাণীকেই অক্ষত অবস্থায় প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More