উদ্ধারে গিয়ে ল্যাজ ধরতেই জলপাইগুড়ির পরিবেশকর্মীর শরীর পেঁচিয়ে ধরল বিশালাকার পাইথন

সহযোগীর চেষ্টায় কোনওভাবে নাগপাশ থেকে মুক্ত হন জলপাইগুড়ির পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী।

১০

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: লোকালয়ে সাপ ঢুকলেই উদ্ধারের জন্য ডাক পড়ে। ছুটে যেতে হয়। কখনও অল্প চেষ্টা, কখনও আবার দীর্ঘক্ষণের পরিশ্রমে সে সাপ ধরে জঙ্গলে ফিরিয়ে দিয়ে নজির গড়েন হামেশাই। কিন্তু এবার বিপদ যে এমন ভাবে আসবে ভাবতেই পারেননি। মুহূর্তের অসাবধানতায় গোটা শরীর পেঁচিয়ে ধরে বিশালাকার পাইথন। সহযোগীর চেষ্টায় কোনওভাবে নাগপাশ থেকে মুক্ত হন জলপাইগুড়ির পরিবেশকর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরী।

বর্ষা নামতেই চা বাগান আর বন জঙ্গলে ঘেরা ডুয়ার্সে প্রায় প্রতিদিন লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে সাপ। কখনও গোখরো, কখনও কিং কোবরা, কখনও পাইথন। বুধবার রাতে বিশাল সাইজের একটি পাইথন ঢুকে পড়ে জলপাইগুড়ি শহরের শিরিশতলায়।

শহরের ২১ নং ওয়ার্ডের শিরিশতলা এলাকায় থাকা এক কাঠের মিলের সামনে একটি বিশাল অজগর সাপ দেখে পরিবেশ কর্মী বিশ্বজিৎ দত্ত চৌধুরীকে খবর দেন এলাকাবাসী। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি তার এক সহযোগী নাগেশ্বর সাহাকে সঙ্গে নিয়ে ওই এলাকায় পৌঁছে যান তিনি।

ততক্ষণে পাইথনটি কাঠের মিলের দেওয়াল বেয়ে টিনের চালের ওপর উঠে যায়। অন্ধকারের মধ্যে টর্চের আলো জ্বেলে দেওয়াল বেয়ে টিনের চালের ওপর উঠে পড়েন। বিশ্বজিৎবাবু পাইথনটির ল্যাজ হাতের সামনে পেয়ে টান মারতেই বিপত্তি। মুহূর্তের মধ্যে উল্টো দিক থেকে অজগর সাপটি লাফিয়ে এসে বিশ্বজিৎবাবুকে পেঁচিয়ে ধরে। চিৎকার করে ওঠেন বিশ্বজিৎবাবু। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তার সহযোগী নাগেশ্বর সাহা চালের ওপর উঠে কোনওক্রমে জড়িয়ে ধরা পাইথনটির প্যাঁচ থেকে মুক্ত করেন তাঁকে।

এখানেই সমস্যার শেষ নয়। উদ্ধারের পর টিনের চাল থেকে নামার রাস্তা বা মই না থাকায় রীতিমতো সমস্যায় পড়ে যান তাঁরা। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে ১২ ফিট লম্বা বিশাল ওজনের পাইথনটিকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন তাঁরা। খবর দেওয়া হয় দমকলে। পরে দমকলকর্মীরা সাপ সহ ওই দুই পরিবেশকর্মীকে নীচে নামিয়ে আনেন।

বিশ্বজিৎবাবু বলেন, ‘‘হামেশাই সাপ উদ্ধার করতে যাই। কিন্তু এই ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি আমি কখনও হইনি। নাগেশ্বর সাহা না থাকলে আমি সমস্যায় পড়তাম। আমাকে পেঁচিয়ে ধরেছিল সাপটি। এটি একটি বার্মিজ পাইথন। সাপ উদ্ধারের পর টিনের চাল থেকে নামার রাস্তা বা মই না থাকায় আরও সমস্যায় পড়ে যাই। অত ভারী পাইথনটি সমানে ছটফট করতে থাকে। এই ভাবে ৪৫ দাঁড়িয়েছিলাম। দমকলকর্মীরা এসে নীচে নামায়।’’

খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে সাপটিকে নিয়ে যায়। বনকর্মী সৌভিক মণ্ডল বলেন, ‘‘বার্মিজ পাইথন প্রচণ্ড পরিমানে মাইগ্রেট করে। এরা মাইগ্রেট করতে করতেই ক্রমশ শহরমুখী হচ্ছে। আসলে জঙ্গল ছোট হচ্ছে। এটা তার একটা কারণ।’’

পাইথনটির শারীরিক পরীক্ষার পর গরুমারা জাতীয় উদ্যানে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More