প্রথা মেনে প্রতিপদে ঘটস্থাপন হল সর্বমঙ্গলা মন্দিরে, পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ল বর্ধমানে

প্রতিপদে রাজাদের খনন করা গহীন জলের দিঘি কৃষ্ণসায়র থেকে জল ভরা হল ঘটে। হল ঘটস্থাপন। সর্বমঙ্গলা মন্দিরে প্রথার সঙ্গে এবার গুরুত্ব পেল স্বাস্থ্যবিধিও।

৩৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: পুজোর ঢাকে কাঠি পড়ে গেল বর্ধমানে। রাজ-আমল থেক চলে আসা প্রথা মেনে শনিবার প্রতিপদে রাজাদের খনন করা গহীন জলের দিঘি কৃষ্ণসায়র থেকে জল ভরা হল ঘটে। হল ঘটস্থাপন। প্রথার সঙ্গে এবার গুরুত্ব পেল স্বাস্থ্যবিধিও। সব মেনেই মর্যাদার সঙ্গে পালিত হল এই লোকাচার।

বর্ধমানের রাজারা জন্মসূত্রে ছিলেন পাঞ্জাবী। পরে বধু হিসেবে নানা রাজ্যের মেয়েরা এসেছেন পরিবারে। নানা সংস্কৃতি, লোকাচারের মিশেল হয়েছে এখানে। প্রতিবার প্রতিপদে শুরু হয় রাঢ়-জননী সর্বমঙ্গলার পুজো। কৃষ্ণসায়র থেকে আচার মেনে জল ভরা হয়। এরপর হয়  ঘটস্থাপন। পুজো চলবে নবমী অর্থাৎ নবরাত্রি অবধি। ঘোড়ার গাড়ি, ঢাক-ঢোল-বাদ্যি সবই ছিল পূজারম্ভে। রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ, দেবীর প্রধান পুরোহিত থেকে সব পুরোহিত এবং শহরের কিছু বিশিষ্ট মানুষ অংশ নিয়েছিলেন এই অনুষ্ঠানে। সবই হল স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুজো করতে হবে এবার। কেবল ‘স্বাস্থ্য আগে, শাস্ত্র পরে’ এই এবারের মূলমন্ত্র। তাই বলে রাজার আমল থেকে চলে আসা প্রথার কোনও হেরফের হবে না বর্ধমানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলার পুজোয়। সবার আগে তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পুজো হবে বর্ধমানের মঙ্গলাবাড়িতে।

পূর্ব বর্ধমানের সবচেয়ে প্রাচীন আর জাগ্রত বলে পরিচিতি দেবী সর্বমঙ্গলা মন্দিরের। রাজা তেজচন্দের আমলে এই মন্দির নির্মাণ হয়েছিল। মন্দির ঘিরে অনেক উপকথা। চুনুরী বাড়ির মেয়েরা নাকি দেবীর পাষাণপ্রতিমায় গুগলি থেতো করতেন। স্বপ্নাদেশ পেয়ে দেবীকে এই প্রাচীন মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

দেবী দুর্গা এখানে সর্বমঙ্গলা রূপে পুজিতা। সারাবছর বিরাজ করেন তিনি। সব ক’টি উৎসব রাজ-আমল থেকেই মহাসমারোহে পালিত হয়ে আসছে। পুজোর চারদিন ষোড়শোপচারে দেবী আরাধনা হয় সর্বমঙ্গলা মন্দিরে। আগে মহিষ ও পাঁঠা বলি হত। পূর্বতন জেলাশাসকের উদ্যোগে এখন বলি বন্ধ। আগে সন্ধিপুজোর মহালগ্নে কামান দাগা হত। ১৯৯৭ এ  বিস্ফোরণের পর থেকে বন্ধ হয়ে যায় সেই প্রথা। তবে দেবী আরাধনা ঘিরে ভক্তদের আবেগ এখনও একইরকম। পুজোর পাঁচদিন এখানে তিলধারণের জায়গা থাকে না। হাজারে হাজারে ভক্ত সমবেত হন। মাছের টক সহ নানা উপাচারে মায়ের ভোগ দেওয়া হয়। মালসাভোগ নিতে ভক্তরা ভিড় করেন। নবমীতে কয়েক হাজার মানুষকে ভোগ বিলি করা হয়।

এবার বেশ কয়েকমাস বন্ধ থাকার পর মন্দির খুলেছে। তবে বিধি মেনে প্রবেশ করতে হচ্ছে ভক্তদের। তাই জনসমাগম খুব কম। মন্দিরের প্রধান পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘মলমাস কাটিয়ে দেবীপক্ষের সূচনা হল আজ। নির্ঘণ্ট মেনে শনিবার ঘট উত্তোলন হল রাজার প্রতিষ্ঠিত কৃষ্ণসায়রে। প্রতিস্থাপিত হল ঘট। দেবীকে এদিন রাজবেশ পরানো হয়। এর মধ্য দিয়েই শুরু হল রাঢ়ের অধিষ্ঠাত্রী দেবীর আরাধনা। পায়েস, পোলাও, ও মাছের টক দিয়ে ভোগ নিবেদন করা হয় দেবীর।’’

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানান, করোনা পরিস্থিতিতে এবার ভাঁড়ারে টান। তবুও রাজ-আমল থেকে চলে আসা কোনকিছুরই ব্যতিক্রম হবে না। শুধু শাস্ত্রের বিধানের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধির নিদান মেনে চলতে হবে এবার। গোল দাগের মধ্য থেকে দুরত্ব মেনে পুজো দিতে হবে। নির্দিষ্ট স্থানে পুরোহিতের হাতে ডালা দিতে হবে। স্যানিটাইজেশন করা হবে। সীমিত সংখক মানুষকে ভোগ বিতরণ করা হবে। এই বিধিনিষেধে জেরে অখুশি নন ভক্তরাও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More