রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশ শিকেয়, প্রান্তিক মানুষদের উপর ঋণশোধের জন্য চাপ সৃষ্টির নালিশ বর্ধমানে

ঋণদানকারী সংস্থার লোকজন এমন চাপ সৃষ্টির ঘটনাকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশের পরিপন্থী বলে মনে করছেন জেলার লিড ব্যাঙ্কের ম্যানেজার রঞ্জন গুহ। তিনি বলেন, ‘‘রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশ অনুযায়ী, অতিমারি পরিস্থিতি চলাকালীন রেজিস্টার্ড কিংবা আনরেজিস্টার্ড সংস্থায় বেতনভুক নয়, এমন মানুষজনের কাছে ঋণ আদায়ের জন্যে চাপ দেওয়া যাবে না। যদি কোনও সংস্থা  ঋণ আদায়ের জন্যে চাপ দেয়, তাহলে তারা ভুল করছে।“

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনা অতিমারির মধ্যেও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশ অমান্য করে ঋণ শোধ করতে না পারা মানুষজনের উপর চাপ সৃষ্টি করছে ঋণদানকারী সংস্থা। এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসল জেলা প্রশাসন।

অভাবের সংসারেও স্বনির্ভর হাওয়ার জন্য ঋণদানকারী সংস্থা থেকে বহু পুরুষ ও মহিলা ঋণ নিয়েছিলেন। জেলার বহু প্রান্তিক মানুষজনের কেউ দশ হাজার আবার কেউ তিরিশ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণ তারা শোধও করে আসছিলেন। কিন্তু দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকেই সবকিছু উল্টেপাল্টে যায়। এখন ঋণ শোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঋণদানকারী সংস্থার প্রবল চাপে ও হুমকিতে জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠেছে প্রান্তিক মানুষজনের।

করোনা পরিস্থিতিতে জেলার রায়না, জামালপুর, মেমারি, খণ্ডঘোষ- সহ বিভিন্ন ব্লকের মানুষজনের রুটি রুজিতে টান পড়ে । প্রান্তিক  মানুষজন এখনও  কার্যত বাড়িতেই বসে রয়েছেন। সেই কারণে সদিচ্ছা থাকলেও তাঁরা নির্দিষ্ট সময়ে ঋণ শোধ করতে পারছেন না। এই পরিস্থিতিতে হজম করতে হচ্ছে ঋণদানকারী সংস্থার লোকেদের দুর্ব্যবহার ও হুমকি। এই অবস্থা থেকে নিষ্কৃতি পেতে ব্লক ও জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন ঋণ গ্রহীতারা। লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে। জেলার বিভিন্ন ব্লকের বিডিও অফিসে জমা পড়েছে অভিযোগ। কোনও কোনও ঋণ গ্রহীতা আবার সংশ্লিষ্ট থানারও  দ্বারস্থ হন।

রায়না ১ নম্বর ব্লকের নড়ুগ্রাম পঞ্চায়েতের কুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা, আনোয়ার বেগম, সুমিতা সরেনরা  বলেন, করোনা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগে পর্যন্ত আমরা নিয়মিতভাবে ঋণ পরিশোধ করে আসছিলাম। কিন্তু মাসের পর মাস লকডাউন চলায়  কাজকর্ম করতে পারিনি। এখনও কাজকর্ম সেভাবে নেই। ঋণ শোধ করতে না পারায় ঋণদানকারী সংস্থার লোকজন বাড়িতে এসে দুর্ব্যবহার করছেন, হুমকি দিচ্ছেন। এমনকি গালিগালাজ করে যাচ্ছেন।’’

ঋণ গ্রহীতা মাধবী সরেন ও মমতাজ বেগম বলেন, ‘‘ঋণ নিয়ে কেউ চাষে খরচ করেছেন। কেউ ব্যবসার কাজে লাগিয়েছিলেন। আবার কেউ টোটো-রিকশা-ভ্যান কিনেছেন। এবছর চাষে ফলন ভালো হয়নি। যেটুকু ফসল ফলেছে, সেটাও লোকসানে বিক্রি করতে হয়েছে। এখন পেটের খাবার নেই। ঋণ শোধ করব কী করে?’’

ঋণদানকারী সংস্থার লোকজন এমন চাপ সৃষ্টির ঘটনাকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশের পরিপন্থী বলে মনে করছেন জেলার লিড ব্যাঙ্কের ম্যানেজার রঞ্জন গুহ। তিনি বলেন, ‘‘রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশ অনুযায়ী, অতিমারি পরিস্থিতি চলাকালীন রেজিস্টার্ড কিংবা আনরেজিস্টার্ড সংস্থায় বেতনভুক নয়, এমন মানুষজনের কাছে ঋণ আদায়ের জন্যে চাপ দেওয়া যাবে না। যদি কোনও সংস্থা  ঋণ আদায়ের জন্যে চাপ দেয়, তাহলে তারা ভুল করছে।“

প্রশাসনের একটি বিশেষ সূত্র মাধ্যমে জানা গিয়েছে, ১১টি ক্ষুদ্র ঋণদান সংস্থা রয়েছে জেলায়। তারমধ্যে  আরবিআইয়ের রেজিস্টার্ড মাত্র দু’তিনটে সংস্থা। রায়না ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সৌমেন বণিক বলেন, “সব মাইক্রো ফিনান্স সংস্থার লোকদের ডেকে আলোচনা করে উদ্ভুত সমস্যা সমাধানের পথ বের করা হবে।’’ জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি দেবু টুডু বলেন, ‘‘ঋণদানকারী সংস্থার লোকজন রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গাইডলাইন না মানলে সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে প্রশাসন।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More