দামের সঙ্গে যুদ্ধ করেই লক্ষ্মী আরাধনার প্রস্তুতি চলছে বর্ধমানের ঘরে ঘরে

রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। করোনা আবহে গত সাত মাস ধরে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা অচল। করোনা আবহেই শেষ হয়েছে দুর্গাপুজো। কোভিড মাথায় নিয়ে লক্ষ্মীর আরাধনা কতটা হবে তা নিয়ে সংশয়ে ছি‌ল পটুয়াপাড়া। কিন্তু লক্ষ্মীলাভে বাধা হল না বলেই জানাচ্ছেন পটুয়াপাড়ার বাসিন্দারা।

২০৬

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ২০ টাকার শশা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। পাল্লা দিয়ে দাম বেড়েছে আপেল, পেয়ারা, লেবু, কলা, নাসপাতির। কিন্তু লক্ষ্মীর আরাধনা যে। দামের সঙ্গে রীতিমতো যুদ্ধ করেই ঘরে ঘরে চলছে পুজোর প্রস্তুতি।

দাম বেড়েছে। কিন্তু তা উপেক্ষা করেই লক্ষ্মীপুজোয় অবশেষে লক্ষ্মী লাভ। বাড়ল বিক্রিবাটা। তাই খানিকটা হলেও লাভের মুখ দেখলেন মৃৎশিল্পীরা। করোনা ভাইরাস ও দীর্ঘ লকডাউনের জেরে চরম সংকটে বর্ধমানের প্রতিমাশিল্পীরা। একের পর উৎসব কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। তাই বরাত আসেনি মূর্তি গড়ার। নিজেরা যা তৈরি করেছেন বিক্রি হয়নি তাও। রুজিতে টান পড়েছে পটুয়াপাড়ার সব বাসিন্দাদেরই। লক্ষ্মীপুজোয় লক্ষ্মীলাভের আশায় তাই বুক বেঁধেছিলেন বর্ধমানের নীলপুরের মৃৎশিল্পীরা। একেবারে আশাহত হতে হল না তাঁদের। বরং বিক্রিবাটা বেশ ভাল বলেই জানাচ্ছেন তাঁরা।

রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। করোনা আবহে গত সাত মাস ধরে স্বাভাবিক জীবন যাত্রা অচল। করোনা আবহেই শেষ হয়েছে দুর্গাপুজো। কোভিড মাথায় নিয়ে লক্ষ্মীর আরাধনা কতটা হবে তা নিয়ে সংশয়ে ছি‌ল পটুয়াপাড়া। কিন্তু লক্ষ্মীলাভে বাধা হল না বলেই জানাচ্ছেন পটুয়াপাড়ার বাসিন্দারা। মৃৎশিল্পী জয়ন্ত কর্মকার বলেন, ‘‘প্রতিমার দাম বেড়েছে। ছোট প্রতিমার দাম আগের বছর যেখানে পঞ্চাশ টাকা ছিল, এবার সেখানে দাম বেড়ে হয়েছে আশি টাকা। দেড়শো টাকার প্রতিমা দু’শো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবুও বিক্রি তো হচ্ছে।’’

শুধু কী প্রতিমা, ফল থেকে সবজি সবেরই আকাশছোঁয়া দাম। হাত পুড়ছে গৃহস্থের, তবুও সাধ্যের বাইরে গিয়েও পুজোর আয়োজনে সামিল হয়েছেন মানুষ। বুধবার থেকেই বর্ধমান শহরের কোর্ট কম্পাউণ্ড, বিসি রোডের দু’ধারে লক্ষ্মীপ্রতিমার পসরা নিয়ে বসেছেন মৃৎশিল্পীরা। বাজারে ভিড় বেড়েছে। বেড়েছে লক্ষ্মী প্রতিমা কেনার আগ্রহও।

রাজ্যের শস্যগোলা হিসেবে পরিচিতি বর্ধমান জেলার। তাই লক্ষ্মী আরাধনার সঙ্গে এ জেলার নিবিড় যোগ। তবে এখানকার আদি বাসিন্দা যাঁরা তাঁদের ঘরে কিন্তু লক্ষ্মী আরাধনা হয় কা‌লীপুজোর রাতে। অলক্ষ্মী বিদায়ের পর। পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষদের ঘরে হয় কোজাগরী লক্ষ্মীর সাধনা। বর্ধমানের নীলপুর, ইছলাবাদ, নাড়ি কলোনি, কাঞ্চননগরে পূর্ববঙ্গ থেকে আসা মানুষের বাস। সেখানে কোজাগরী লক্ষ্মী পুজোর তাই ব্যাপক প্রচলন। ইতিহাসবিদ সর্বজিৎ যশ বলেন, ‘‘দেশভাগের ফলে ভিটেমাটি হারিয়ে এপারে এসে নতুন করে জীবনযুদ্ধ লড়তে হয়েছিল তাঁদের। তাই লক্ষীর আরাধনা তাঁদের ঘরে ঘরে। এবং কোজাগরীর রাতেই লক্ষ্মীপুজো করেন তাঁরা। বর্তমানে অবশ্য এই পুজো এখানকার আদি বাসিন্দাদের অনেকেও করছেন।’’

 

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More