কস্তুরী মৃগনাভি পাচারের আগেই গ্রেফতার চোরাচালানকারী, চক্রের খোঁজে চলছে জেরা

অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী জানান, সোমবার এসএসবি সুত্রে খবর পেয়ে ধূপগুড়ি গধেয়াকুটি এলাকায় অভিযান চালান তাঁরা। খোকারাম রায় নামে এক ব্যক্তির কাছে মেলে কস্তুরী মৃগনাভি। তাকে গ্রেফতার করে রেঞ্জ অফিসে নিয়ে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই ওই ব্যক্তি জানায় তার বাড়িতে আরও একটি কস্তুরী মৃগনাভি লুকিয়ে রাখা আছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: প্রাণী দেহাংশ পাচার রোধে ফের বড়সড় সাফল্য পেল বন দফতর। কস্তুরী মৃগনাভি বাড়িতে লুকিয়ে রেখে পাচারের চেষ্টা চলছে খবর পেয়ে অভিযান চালাল যৌথ বাহিনী। উদ্ধার হল দু’টি কস্তুরি মৃগ নাভি। গ্রেফতার করা হল একজনকে। চাঞ্চল্য ধূপগুড়িতে।

    মঙ্গলবার দুপুরে ধূপগুড়িতে একই বাড়িতে পৃথকভাবে অভিযান চালায় বন দফতর ও এসএসবির ১৭ নম্বর ব্যাটেলিয়নের কর্মীরা। দু’ দফায় উদ্ধার হয় দুটি কস্তুরী মৃগ নাভি। বন দফতর সুত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট সূত্রে দফতরের আধিকারিকরা খবর পান ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের ভান্ডানি এলাকায় খোকারাম রায় নামে এক ব্যক্তির কাছে একটি কস্তুরী মৃগনাভি রাখা আছে। পাচারের উদ্দেশে ক্রেতার খোঁজ করছিল সে। খবর পেয়ে অভিযানে নামে অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী ও যৌথ বাহিনী। এসএসবি আধিকারিক আর কে শ্রীবাস্তব জানান, সোর্স মারফত তাঁরা খবর পান বিন্নাগুড়ি রেঞ্জের অধীন এলাকায় এক ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে কস্তুরি মৃগনাভি লুকিয়ে রেখেছেন। পাচারের জন্য ক্রেতারও খোঁজ চালাচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরেই তাঁরা বন দফতরকে খবর দেন।

     

    অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরী জানান, সোমবার এসএসবি সুত্রে খবর পেয়ে ধূপগুড়ি গধেয়াকুটি এলাকায় অভিযান চালান তাঁরা। কিন্ত সেখানে কাউকে না পেয়ে ফিরে আসেন। এরপর মঙ্গলবার এসএসবি এবং বন দফতর মিলে যৌথ অভিযানে নামে। খোকারাম রায় নামে এক ব্যক্তির কাছে মেলে কস্তুরী মৃগনাভি। তাকে গ্রেফতার করে রেঞ্জ অফিসে নিয়ে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই ওই ব্যক্তি জানায় তার বাড়িতে আরও একটি কস্তুরী মৃগনাভি লুকিয়ে রাখা আছে। এরপর ফের তার বাড়ি থেকে আরও একটি মৃগনাভি উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। কোথা থেকে ওই ব্যক্তি এই মৃগনাভি পেল, আরও কারা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত তা জানতে ধৃতকে আগামীকাল আদালতে তুলে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে জানান তিনি।

    কস্তুরী মৃগনাভি আসলে কী? মাস্ক ডিয়ার নামে এক শ্রেণির পুরুষ হরিণের নাভিতে জন্মায় এই কস্তুরী। কিন্তু সমস্ত মাস্ক ডিয়ারের নাভিতে এই সুগন্ধি হয় না। অন্তত ১০ বছর বয়স হলে হাতে গোনা কিছু পুরুষ মাস্ক ডিয়ারের নাভিতে জন্মায় এই দুর্মূল্য সুগন্ধি যা যৌন উত্তেজনা বর্ধক বলে বাজারে পরিচিত। একটি নাভি থেকে ৬০ থেকে ৬৫ গ্রাম পর্যন্ত কস্তুরী পাওয়া যায়। যেই হরিণের নাভিতে এই কস্তুরী জন্মায় সে তীব্র গন্ধের উৎস খুঁজতে ছুটে বেড়াতে থাকে। আর দূর থেকে গন্ধ পায় চোরাশিকারীরা। এরপর সেই হরিণকে হত্যা করে তার নাভি সংগ্রহ করে চোরা বাজারে প্রচুর দামে বিক্রি করে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More