আয়লা, বুলবুলের ক্ষত শুকোয়নি এখনও, আমফানের আতঙ্কে কাঁটা হয়ে আছে সুন্দরবন

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জেলাশাসক পি উল্গানাথন জানান, প্রতিটি ব্লকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও সাগর ব্লকে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। আয়লা ও বুলবুলের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে, ঘূর্ণিঝড় আমফানের ক্ষয়ক্ষতি রুখতে সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আয়লার ক্ষতের স্মৃতি এখনও দগদগে। বুলবুলের ধ্বংসের স্মৃতিও টাটকা। তাই ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় আমফান, এই খবর জানতে পারার পর থেকেই ভয়ে কাঁটা হয়ে আছেন সুন্দরবনের মানুষ।

    বুধবার সন্ধে নাগাদ এই ঘূর্ণিঝড় স্থলভূমিতে আছড়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। এই বিপর্যয় থেকে সুন্দরবনের মানুষকে বাঁচাতে চূড়ান্ত তৎপরতা চলছে প্রশাসনিক মহলে। সোমবার বিকেল থেকেই সুন্দরবনের নদীবাঁধ সংলগ্ন এলাকাগুলি থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। এখনও পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার হাজার বাসিন্দাকে বিভিন্ন স্কুলে ও বিপর্যয় কেন্দ্রগুলিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

    আয়লার পরে এই এলাকায় ৪০০টি ফ্লাড সেন্টার তৈরি করা হয়। এখানেই নিয়ে আসা হচ্ছে বাসিন্দাদের। মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত সুন্দরবনের নদী বাঁধ সংলগ্ন এলাকাগুলি থেকে প্রায় এক লক্ষ বাসিন্দাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী মন্টুরাম পাখিরা।

    দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জেলাশাসক পি উল্গানাথন জানান, প্রতিটি ব্লকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও সাগর ব্লকে বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি  বলেন, ‘‘আয়লা ও বুলবুলের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে, ঘূর্ণিঝড় আমফানের ক্ষয়ক্ষতি রুখতে সব রকমের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’’ কাকদ্বীপে বসে সমস্ত পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন তিনি।

    সাগরের কেওরাখালি, পাথরপ্রতিমা, গোবর্ধনপুর, সীতারামপুর, বুড়োবুড়ির চরের মানুষকে সমস্ত মূল্যবান জিনিসপত্র সহ ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে। ঘোড়ামারা দ্বীপ থেকে রাতেই বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে আসা হয় ফ্লাড সেন্টারে।

    আয়লার ঝড়ের সময় আড়াই ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হয়ে ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বহু গ্রাম। সেই অভিজ্ঞতার কথা এখনও মনে রেখেছেন রায়দিঘির দমকল সীমানা ঘাটের বাসিন্দারা। তাঁরা জানালেন, সে সময় কোনও মতে শুধু বাঁচাতে পেরেছিলেন প্রাণটুকু। কিন্তু হারিয়ে গেছে অনেক কিছু। হারিয়েছেন পরিজন। হারিয়েছেন ঘরবাড়ি। আবার আসছে ঝড়। এবার কী হবে কে জানে!

    তাঁদের  যোগাযোগের উপায় সীমানার জেটিঘাট আগেই নদী ভাঙনের কবলে পড়েছে। বর্তমানে এই জেটিকে বাঁশ দিয়ে মূল স্থলভাগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। জেটি  সংলগ্ন প্রায় ৩ কিমি নদীবাঁধ ভেঙে গিয়েছে। গ্রামবাসীদের আশঙ্কা, ঝড় আসলে সেই নড়বড়ে নদীবাঁধ ভেঙে গ্রামে জল ঢুকবে। আয়লা, বুলবুলের স্মৃতি থেকে বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More