মাঝপথে খারাপ হয়ে যাওয়ায় অ্যাম্বুল্যান্সে মৃত্যু রোগীর, ক্ষোভে ভাঙচুর চলল বর্ধমানে

অভিযোগ রোগীকে ওঠানোর আগে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যাটারি খারাপ হয়ে যায়। সারিয়ে এনে রোগীকে তুলে রওনা দেয় অ্যাম্বুল্যান্সটি। কিন্তু মাত্র কয়েক কিলোমিটার দুরে গিয়েই ফের বিকল হয়ে যায় অ্যাম্বুল্যান্স। এমনকি ভেন্টিলেটরও কাজ করা বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে রোগী মারা যান।

৪৫

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: এক মধ্যবয়সী রোগীর মৃত্যুর জেরে অ্যাম্বুল্যান্সে ভাঙচুর চালাল জনতা। চালক পলাতক। টেকনিশিয়ানকে আটক করেছে পুলিশ। অক্সিজেনের অভাবে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মৃত রোগীর নাম স্বপন দাস(৪৫)। পূর্ব বর্ধমানের সাতগেছিয়ায় তাঁর বাড়ি।

পয়লা অক্টোবর শ্বাসকষ্ট সহ অন্যান্য সমস্যা হওয়ায় স্বপনবাবুকে দু’নম্বর জাতীয় সড়কের উপর একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন তাঁর পরিজনরা। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলতে থাকে। কিন্তু ওই হাসপাতালে ক্রমাগত বেড়ে চলা ব্যয়ভার সামাল দেওয়া মুশকিল হয় ওই রোগীর পরিবারের। এ ছাড়া ডাক্তারও তাঁকে অন্যত্র আরও ভাল চিকিৎসার জন্য স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। এই অবস্থায় অন্য একটি নার্সিংহোমে তাকে স্থানান্তরিত করার উদ্যোগ নেন পরিজনেরা।

সেইমতো মঙ্গলবার রাতে বামচাঁদাইপুরের অন্য একটি হাসপাতাল থেকে একটি ভেণ্টিলেটর-যুক্ত অ্যাম্বুল্যান্স ভাড়া করা হয়। অভিযোগ রোগীকে ওঠানোর আগে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যাটারি খারাপ হয়ে যায়। সারিয়ে এনে রোগীকে তুলে রওনা দেয় অ্যাম্বুল্যান্সটি। কিন্তু মাত্র কয়েক কিলোমিটার দুরে গিয়েই ফের বিকল হয়ে যায় অ্যাম্বুল্যান্স। এমনকি ভেন্টিলেটরও কাজ করা বন্ধ করে দেয় বলে অভিযোগ। ইতিমধ্যে রোগী মারা যান। একটি জনবহুল এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে। স্বপনবাবুর বাড়ির লোকজন অভিযোগ করেন, অক্সিজেনের অভাবেই মারা গেছেন তিনি। এরপরেই উত্তেজিত কিছু মানুষ অ্যাম্বুল্যান্সটিতে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের রোষ থেকে বাঁচতে ড্রাইভার অরিন্দম দত্ত পালিয়ে যায়। আটক করা হয় টেকনিশিয়ানকে। কান্নায় ভেঙে পড়ে রোগীর আত্মীয়রা বলেন, ‘‘রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে সামান্য দুরত্ব কুড়ি হাজার টাকা ভাড়ায় রাজি হই। তারপরও এই ঘটনা। সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?’’

টেকনিশিয়ান শেখর দে’র পাল্টা দাবি, ‘‘অ্যাম্বুল্যান্স খারাপ হলেও ভেন্টিলেটর চালুই ছিল। তা বন্ধ হয়নি। এই অ্যাম্বুল্যান্সটি বিকল হওয়ায় বিকল্প গাড়ি নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হলেও রোগীর আত্মীয়রা তাতে রাজি হননি। ওই গাড়িতে ভেন্টিলেটর শিফট করা সম্ভব ছিল।’’

স্বপনবাবুর ভাইপো জানান, বেসরকারি হাসপাতালের বিপুল বিল যেমন তাঁদের চিন্তায় ফেলেছিল, তেমনই চিকিৎসার ব্যবস্থাও তাঁদের পছন্দ হচ্ছিল না। তাই অন্যত্র সরানোর চিন্তা করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু এভাবে যে মানুষটাকে হারাতে হবে ভাবতে পারেননি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like
Comments
Loading...

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More