রেশনের জিনিস বাইরে বিক্রি করলেই জেল-জরিমানার শাস্তি দেবে পঞ্চায়েত, প্রচার চলছে বর্ধমানে

এড়াল পঞ্চায়েতের এই ঘোষণা নিয়ে জেলা খাদ্য দফতরের কর্তারা অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: লকডাউনের ফলে গৃহবন্দি একটা বড় অংশের মানুষের ভরসা এখন রেশনে বিলি করা সামগ্রী। আর এই রেশন নিয়েই প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, বিক্ষোভ-বিতর্ক।

এই পরিস্থিতিতে রেশনের খাদ্যসামগ্রী কেউ খোলা বাজারে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জেল ও জরিমানার শাস্তি পেতে হবে বলে আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের এড়াল গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হচ্ছে জনগণকে। গাড়িতে করে মাইক নিয়ে প্রচার চালানো হচ্ছে গোটা এলাকায়।

শুক্রবার এড়াল পঞ্চায়েত এলাকায় রেশনে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হবে। সেই ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি চলে রেশনের খাদ্য সামগ্রী যাতে খোলা বাজারে বিক্রি না করা হয় সেই প্রচার। ব‌লা হচ্ছে, যদি প্রমাণিত হয় কোনও উপভোক্তা রেশনের খাদ্য সামগ্রী খোলা বাজারে বিক্রি করেছেন তবে তাঁকে ৫ বছরের জেল ও জরিমানার শাস্তি পেতে হবে। আর যদি প্রমাণ হয় কোনও ব্যবসায়ী রেশনের খাদ্যসামগ্রী উপভোক্তার কাছ থেকে কিনেছেন তবে সেই ব্যবসায়ীকেও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। যে উপভোক্তাদের রেশনে বিলি হওয়া খাবারের প্রয়োজন নেই তাঁরা যাতে ওই খাবার এলাকার গরীব ও দুঃস্থদের দিয়ে সাহায্য করেন সেই আবেদনও জানানো হয়।

পঞ্চায়েতের উপপ্রধান উজ্জ্বল পালের অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলে এলাকার কিছু বিত্তশালী পরিবার কম দামে খাদ্য সামগ্রী পাওয়ার রেশন কার্ডও জোগাড় করে ফেলেছিলেন। সেই রকম কিছু উপভোক্তা এই কঠিন পরিস্থিতিতেও কম দামে রেশনের খাদ্য সামগ্রী তুলে খোলা বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন। কিছু দোকানদার রেশনের সেইসব খাদ্য সামগ্রী কিনে আবার  চড়া দামে বিক্রি করছেন। কিন্তু নিজের এলাকার গরিব ও দুঃস্থদের সেই খাদ্য সামগ্রী দান করে সহযোগিতা করার মানসিকতা কেউ দেখাচ্ছেন না।

তিনি বলেন, ‘‘কয়েক দিন ধরে এমন অনৈতিক কাজ কারবার নিয়ে একের পর এক অভিযোগ এসেছে। তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় পঞ্চায়েত এলাকার কেউ রেশনের খাদ্য সামগ্রী কেনাবেচায় যুক্ত রয়েছেন প্রমাণ হলে তাঁর জেল ও জরিমানার ব্যবস্থা করা হবে। সে কথাই পঞ্চায়েত এলাকার সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হল।’’

যদিও এড়াল পঞ্চায়েতের এই ঘোষণা নিয়ে জেলা খাদ্য দফতরের কোনও কর্তা কিছু মন্তব্য করতে চাননি। এড়াল গ্রামপঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে শাস্তির নিদান দিয়ে এই প্রচারে সাড়া পড়েছে গোটা এলাকায়। পঞ্চায়েত কারও জেল জরিমানার ব্যবস্থা করতে পারে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More