লকডাউনে কমেছে চুরি-ছিনতাই-ডাকাতিও, রাজ্যে অপরাধের গ্রাফ নামছে হুহু করে

বিভিন্ন থানার হিসেব অনুযায়ী, শতকরা ৯০ শতাংশ অপরাধ কমে গেছে গত এক সপ্তাহে

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: সবকিছুরই বোধহয় একটা ভাল দিক থাকে। তেমনটাই মনে হচ্ছে রাজ্যের পুলিশ কর্তাদের। কারণ উদ্বেগজনক করোনা পরিস্থিতির জেরে একেবারে তলানিতে এসে ঠেকেছে এ রাজ্যে অপরাধের গ্রাফ।
    উত্তর থেকে দক্ষিণ রাজ্যের বেশিরভাগ থানাতেই গত এক সপ্তাহে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি বা খুন-ধর্ষণের কোনও অভিযোগই দায়ের হয়নি। সমাজবিরোধীদের সংস্পর্ষ ছেড়ে তাই জনহিতকর কাজে মন দিতে পারছে পুলিশ। লকডাউনের জেরে এমনটা হওয়ারই ছিল বলে মনে করছেন পুলিশকর্তাদের অনেকেই। আবার পরিস্থিতির জেরে অপরাধ যে এতটা কমে যাবে তা ভাবতে পারেননি অনেকে।
    জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন থানার হিসেব অনুযায়ী, শতকরা ৯০ শতাংশ অপরাধ কমে গেছে গত এক সপ্তাহে। আগে মানুষের আনাগোনায় যেখানে জমজমাট থাকতো থানা, সেখানে এখন শুনশান। অভিযোগ লেখা, অভিযুক্তদের খোঁজে যাওয়া, তাদের ধরে এনে জেরা করা, কোর্টে পাঠানো, এমন হরেক ব্যস্ততায় নাওয়া-খাওয়ার সময় থাকতো না অনেক সময়। গত এক সপ্তাহে সেই ছবি ভুলতে বসেছেন পুলিশকর্মীরা। আধিকারিকদের বক্তব্য একাধারে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক, অন্যদিকে লকডাউন ভেঙে বাইরে আসার ব্যপারে প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এই দুইয়ের জেরে দুষ্কৃতীরাও গৃহবন্দি। তাই কমেছে অপরাধ। গৃহ বিবাদ নিয়ে থানায় আসেন যাঁরা, তাঁরাও লকডাউনে ঘরবন্দি। তাই সবমিলিয়েই দায়ের হওয়া অপরাধের নালিশ এখন নেই বললেই চলে।

    পূর্ব বর্ধমানের থানাগুলি থেকে যে ছবি পাওয়া যাচ্ছে সেখানেও অপরাধের গ্রাফ নিম্নমুখী। চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধ একেবারে তলানিতে বলে জানালেন বিভিন্ন থানার আইসিরা। তলানিতে ঠেকেছে পারিবারিক হিংসার অভিযোগও। পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বলেন, অপরাধটা কনভার্ট হয়ে গেছে। চুরি-ডাকাতি-খুন নেই বললেই চলে। যা কেস হচ্ছে, তার সবই হয় লকডাউন ভেঙে বাইরে বেরোনোয়, অথবা বাজারে বেশি দামে জিনিস বিক্রি করার।’’
    শুধু জেলা পুলিশের আওতায় থাকা এলাকাই নয়, কমিশনারেটগুলিতেও একই ছবি। গত এক সপ্তাহে অপরাধ যে অনেক কমে গেছে তা মেনে নিলেন চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবীরও। তিনি বলেন, ‘‘লকডাউন শুরু হওয়ার পরে চন্দননগর কমিশনারেটের কোনও থানায় খুন-ডাকাতির মতো কোনও অপরাধই নথিভুক্ত হয়নি। এর থেকেই বোঝা যায় অপরাধের গ্রাফ কোথায় নেমেছে।’’ চন্দননগর কমিশনারেটে বিভিন্ন থানার ছবিটা কমিশনারের সেই বক্তব্যকেই প্রতিষ্ঠিত করে। রবিবার ছিল জনতা কারফিউ। সোমবার থেকে শুরু হয়েছে লকডাউন। আজ শুক্রবার পর্যন্ত কোনও বড়মাপের অপরাধের ঘটনা ঘটেনি এই থানাগুলিতে।
    একইসঙ্গে পুলিশকর্তারা জানান, লকডাউনের জেরে অভিযুক্তদের কোর্টে তুলতে, জেলে পাঠাতে অসুবিধা হচ্ছে। তাই খুব গুরুতর অভিযোগ ছাড়া গ্রেফতারও করা হচ্ছে না কাউকেই। তাই সব থানাতেই লকআপ মোটের উপর ফাঁকা। অপরাধদমনও জনহিতকর কাজই, তবুও প্রত্যক্ষ অপরাধের সংস্পর্ষ থেকে বেরিয়ে এখন মানুষের একেবারে দৈনন্দিন প্রয়োজনে হাত বাড়িয়ে দিতে পেরে খুশির হাওয়া পুলিশ মহলে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More