বর্ধমানে কোভিড সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে চিন্তার মেঘ, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু তিনজনের

জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেন, ‘‘করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই সুস্থতার হারও বেড়েছে। তবে একটা জিনিস নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। শহর ও গ্রামের দিকে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। এতে সংক্রমণ বাড়ছে। আমরা বারবার বিষয়টি নিয়ে মানুষকে ওয়াকিবহাল করছি। কিন্তু তারপরেও সতর্ক হচ্ছেন না মানুষ।’’

১,৪৫৫

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: কোভিডে মৃত্যুর সংখ্যা একশো পেরিয়ে গেল বর্ধমানে। আক্রান্তের সংখ্যা যেমন লাফিয়ে  বাড়ছে তেমনি বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। তাই পুজো শেষ হতেই উদ্বেগ জেলাজুড়ে।

গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব বর্ধমানে ৮৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে জেলায় মারা গিয়েছেন ১০২ জন। এখনও পর্যন্ত জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৭ হাজার ৩৭ জন। তবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ২৯১ জন। ৬৪৪ জনের চিকিৎসা চলছে।

আনলক অবস্থায় পূর্ব বর্ধমান জেলায় করোনা সংক্রমণের হার ওঠানামা করছে। তবে গত কয়েকদিনের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে পূর্ব বর্ধমান জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা আনুপাতিক হারে ঊর্ধ্বমুখী। জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য দফতরের নিয়মনীতি না মানার ফলেই যে সংক্রমণ বাড়ছে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। গত ২৪ ঘণ্টায় পূর্ব বর্ধমান জেলায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৫ জন। তারমধ্যে বর্ধমান পুর এলাকায় ১৩ জন, গুসকরায় ২ জন, কাটোয়া পুর এলাকায় ২ জন, কালনা পুর এলাকায় ১ জন, মেমারি পুর এলাকায় ২ জন, আউসগ্রাম ১ নম্বর ব্লকে ২ জন, আউসগ্রাম ২ নম্বর ব্লকে ১ জন, ভাতাড়ে ৪ জন, বর্ধমান ১ নম্বর ব্লকে ৬ জন, বর্ধমান ২ নম্বর ব্লকে ৫ জন, গলসি ২ নম্বর ব্লকে ২ জন, জামালপুরে ২ জন, কালনা ১ নম্বর ব্লকে ৯ জন,  কাটোয়া ১ নম্বর ব্লকে ২ জন, কেতুগ্রাম ১ নম্বর ব্লকে ১ জন, খণ্ডঘোষে ৪ জন, মেমারি ১ নম্বর ব্লকে ১ জন, মেমারি ২ নম্বর ব্লকে ৬ জন, মন্তেশ্বরে ১ জন,  পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকে ৭ জন, পূর্বস্থলী ২ নম্বর  ব্লকে ৭ জন এবং রায়না ১ নম্বর  ব্লকে ৪ জন এবং রায়না ২ নম্বর ব্লকে ১ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

সরকারি রিপোর্টে জানানো হয়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলায় এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৩৭ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে ৬৪৪ জনের চিকিৎসা চলছে। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। পরিস্থিতির নিরিখে স্বাস্থ্য দফতরের নিয়মনীতি মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন প্রশাসনিক কর্তারা। জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেন, ‘‘করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনই সুস্থতার হারও বেড়েছে। তবে একটা জিনিস নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। শহর ও গ্রামের দিকে অনেকেই মাস্ক ব্যবহার করছেন না। এতে সংক্রমণ বাড়ছে। আমরা বারবার বিষয়টি নিয়ে মানুষকে ওয়াকিবহাল করছি। কিন্তু তারপরেও সতর্ক হচ্ছেন না মানুষ।’’

জেলা পরিষদের সভাধিপতি শম্পা ধাড়া বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত গুলিকে আরও জোরদার প্রচার কর্মসূচি নিতে বলা হয়েছে। মানুষকে মাস্ক ব্যবহার করতেই হবে। গ্রামেই হোক বা শহরে, সংক্রমণ ঠেকাতে এ ছাড়া উপায় নেই।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More