জলপাইগুড়িতে ইন্ডাকশন ওভেন পৌঁছতে এসে শ্বশুরবাড়ির বিপদ বাড়ালেন করোনা আক্রান্ত জামাই

অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাক্তার সুশান্ত রায় জানান, জেলায় নতুন করে ১৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সকলকেই জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। পাশাপাশি এ দিন সুস্থ হয়ে কোভিড হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন দু’জন। এদের মধ্যে একজন আশা কর্মী, অন্যজন নার্সিংয়ের ছাত্রী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: ইন্ডাকশন ওভেন পৌঁছে দিতে এসে শ্বশুরবাড়ির বিপদ বাড়ালেন জামাই। করোনার আতঙ্ক ছড়ালো জলপাইগুড়ি পাহারপুর এলাকায়।

    জলপাইগুড়ি স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্মীর শ্বশুরবাড়ি জলপাইগুড়ি রোড স্টেশন লাগোয়া শেশাপাড়া গ্রামে। গত শনিবার তিনি  শ্বশুরবাড়িতে এসে একটি ইন্ডাকশন ওভেন পৌঁছে দিয়ে যান। স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী হবার সুবাদে তাঁর রুটিন করোনা পরীক্ষা হয়। শুক্রবার রিপোর্ট আসলে দেখা যায় তিনি করোনা পজেটিভ। রিপোর্ট আসার সঙ্গে সঙ্গে এদিন রাতেই তাকে জলপাইগুড়ি করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরেই শুরু হয় গত কয়েকদিন ধরে কোথায় কোথায় গিয়ে তিনি কাদের সঙ্গে দেখা করেছেন তার তালিকা তৈরির কাজ।

    এসময় দেখা যায় তিনি তার শ্বশুরবাড়ি গিয়েছিলেন। সেই বাড়িতে ১৩ জন লোক আছেন। তড়িঘড়ি স্বাস্থ্য দফতর থেকে এলাকার আশা কর্মীকে জানানো হয়। ওই পরিবারের ১৩ জনেরই লালারস পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়। করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বশুর বলেন, ‘‘জামাই এসে বাড়িতেও ঢোকেনি। বাইরে থেকে আমাদের হাতে ওভেন দিয়ে চলে যায়। গতকাল তাঁর করোনা ধরা পড়ে। এখন করোনা হাসপাতালে ভর্তি। আশা কর্মী জানালেন আমাদের বাড়ির সবার করোনা পরীক্ষা করা হবে।’’

    এদিকে করোনায় আক্রান্ত হলেন জলপাইগুড়ির এক জেলবন্দি। কোয়ারেন্টাইনে গেলেন নিরাপত্তায় থাকা ৬ পুলিশ কর্মী। নতুন করে জলপাইগুড়ি জেলায় আক্রান্ত হলেন ১৩ জন।

    জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ওই বন্দির শরীরে করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি মেলে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, গত ১৫ মে শারীরিক সমস্যা নিয়ে ওই বন্দিকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ২৭ মে তাঁকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানেই গতকাল তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। শনিবার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। তাঁকে শিলিগুড়ি করোনা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই বন্দির প্রহরায় নিযুক্ত ছ’জন নিরাপত্তা রক্ষীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে বলে জানান অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাক্তার সুশান্ত রায়।

    তিনি জানান, জেলায় নতুন করে ১৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের সকলকেই জলপাইগুড়ি কোভিড হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে। পাশাপাশি এ দিন সুস্থ হয়ে কোভিড হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন দু’জন। এদের মধ্যে একজন আশা কর্মী, অন্যজন নার্সিংয়ের ছাত্রী।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More