যুবকের শরীরে করোনাভাইরাস মিলতেই জল বন্ধ করা হল পড়শিদেরও, পুলিশ গেলেও সুরাহা হয়নি

যেহেতু গ্রামে পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহের কোনও ব্যবস্থা নেই, তাই পাশের গ্রামের বিভিন্ন মানুষদের বাড়ি থেকেই খাবার জল সংগ্রহ করতেন হাইস্কুলপাড়ার দুঃস্থ পরিবারগুলি। কিন্তু করোনা আক্রান্তের খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই এখন তাঁদের জল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদহ: এলাকায় এক যুবকের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ায় সামাজিক বয়কটের মুখে তাঁর প্রতিবেশীদের একাংশ। আশেপাশের লোকজন তাঁদের পানীয় জল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে চরম সমস্যার পড়েছেন পুরাতন মালদহ থানার মঙ্গলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের কালোয়ারি হাইস্কুলপাড়ার কিছু মানুষ।

    ওই গ্রামের বাসিন্দা এক পরিযায়ী শ্রমিক গত মঙ্গলবার দিল্লি থেকে ফেরেন। সেদিনই তাঁর লালারসের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। রাতে রিপোর্ট এলে দেখা যায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ওই যুবক। বুধবার খুব ভোরে স্বাস্থ্যকর্মীরা এসে তাঁকে পুরাতন মালদহের কোভিড হাসপাতালে নিয়ে যায়। এখন সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।

    বিষয়টি জানাজানি হতেই সে দিন থেকেই করোনা আক্রান্ত ওই যুবকের পরিবার ও তাঁর প্রতিবেশীদের এক ঘরে করে রাখার  অভিযোগ ওঠে গ্রামবাসীদের একাংশের বিরুদ্ধে। যেহেতু ওই পাড়ায় পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহের কোনও ব্যবস্থা নেই, তাই পাশের পাড়ার বিভিন্ন মানুষদের বাড়ি থেকেই খাবার জল সংগ্রহ করতেন হাইস্কুলপাড়ার দুঃস্থ পরিবারগুলি। কিন্তু করোনা আক্রান্তের খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই এখন তাঁদের জল বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হাইস্কুলপাড়ার বাসিন্দারা জানান,জল আনতে ওই পাড়ায় ঢুকতে বারণ করা হয়েছে তাঁদের। তাঁরা বলেন, আমাদের এখানকার লোক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে জানতে পেরেই আর জল দিচ্ছে না ওঁরা। আমরা ওখানে গেলে করোনা হবে এই ভয়ে ওই পাড়াতেই যেতে বারণ করে দিয়েছে।’’

    এই ঘটনার খবর পেয়ে কালোয়ারি হাইস্কুল পাড়া এলাকায় তদন্তে যায় পুরাতন মালদহ থানার পুলিশ।  পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই গ্রামে সচেতনতা শিবির করা হয়। কিন্তু তারপরেও গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে ওঠাতে পারেনি পুলিস।  পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, যিনি করোনা আক্রান্ত, তাঁর বাড়িতে যারা রয়েছেন তাঁদের পুলিশি নজরদারিতে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু আশেপাশে যে সব মানুষেরা রয়েছেন তাদের তো কোনও সমস্যা নেই। কেন তাঁদের পানীয় জল পাওয়ার জন্য অসুবিধায় পড়তে হবে?

    ওইসব পরিবারগুলির পানীয় জলের সরবরাহ যাতে কোনওভাবেই বন্ধ করা না হয়, তার জন্য গ্রামের একটা বড় অংশের মানুষকে এখনও বোঝাচ্ছে পুলিশ।

    গ্রাম পঞ্চায়েতের সভাপতি মৃণালিনী মণ্ডল বলেন, ‘‘গোটা বিষয় আমাদের কানে এসেছে। যা হচ্ছে তা চলতে পারে না। এতগুলি মানুষের যাতে জলের সমস্যা না হয় তা আমরা দেখছি।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More