রাজ্যপাল নিযুক্ত অধ্যাপককে সরিয়ে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ উপাচার্য পদের দায়িত্ব নিলেন নবান্ন নিযুক্ত অধ্যাপক

সোমবার বিকেলে একটি নির্দেশিকা জারি করেন রাজ্যপাল তথা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীপ ধনকড়। তাতে আইনের ধারা উল্লেখ করে তিনি প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপক গৌতম চন্দ্রকে সহ উপাচার্য (প্রশাসন ও শিক্ষা) হিসেবে নিয়োগ করেন। এরপর রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সংঘাত চরম জায়গায় পৌঁছয়।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: রাজ্যপাল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীপ ধনকড়ের নির্দেশিকাকে নস্যাৎ করে সহ উপাচার্য নিয়োগ করে ফেলল নবান্ন। তীব্র সংঘাতের আবহেই নতুন সহ উপাচার্য নিয়োগ হল বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ে। মঙ্গলবার সহ উপাচার্য হিসেবে কার্যভার গ্রহণ করলেন ডঃ আশিস কুমার পানিগ্রাহী।

    সোমবার বিকেলে একটি নির্দেশিকা জারি করেন রাজ্যপাল তথা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য জগদীপ ধনকড়। তাতে আইনের ধারা উল্লেখ করে তিনি প্রাণীবিদ্যার অধ্যাপক গৌতম চন্দ্রকে সহ উপাচার্য (প্রশাসন ও শিক্ষা) হিসেবে নিয়োগ করেন। এরপর রাজ্য বনাম রাজ্যপালের সংঘাত চরম জায়গায় পৌঁছয়।

    সাংবাদিক বৈঠক ডেকে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বিজেপির লোককে বসিয়েছেন রাজ্যপাল। অধ্যাপক গৌতম চন্দ্রকে সহ-উপাচার্য হিসেবে কোন ভাবেই মানবে না রাজ্য সরকার।

    বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্যের পদটি খালি রয়েছে বেশ কয়েক মাস ধরেই। এমনিতে নিয়ম হচ্ছে রাজ্য সরকার বা শিক্ষা দফতর একটি নাম পাঠায় রাজভবনে। রাজ্যপাল তথা আচার্য তাতে সিলমোহর দেন। কিন্তু সাংবাদিক বৈঠকে শিক্ষা মন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, রাজ্য সরকার যে নাম দিয়েছিল তা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

    বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যার প্রধান গৌতম চন্দ্রকে রাজ্যপাল সহ উপাচার্য নিয়োগ করেন গতকাল। কিন্তু এদিন রাজ্যপালের মনোনীত ব্যক্তিকে সরিয়ে রাজ্যের উচ্চ শিক্ষা দফতরের মনোনীত কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যার প্রধান ডঃ আশিস কুমার পানিগ্রাহী এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্যের দায়িত্বভার নিলেন। দায়িত্বভার নিয়ে তিনি অবশ্য রাজ্য রাজ্যপালের সংঘাত নিয়ে কিছু বলতে অস্বীকার করেন। একই ভাবে গোটা বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিমাই চন্দ্র সাহাও। তিনি বলেন, ‘‘সহ উপাচার্য হিসেবে ডঃ আশিস কুমার পানিগ্রাহী এদিন নিযুক্ত হয়েছেন। ব্যাস ওই টুকুই।’’

    এই বিষয়ে গৌতম চন্দ্র বলেন, ‘‘রাজ্যপাল নিশ্চয় সাটিফিকেট দেখেই আমার নাম দিয়েছিলেন। তবে আশিসবাবুর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ভালো।’’

    এ দিকে রাজ্যপাল ফোন করে উপাচার্যদের ভয় দেখাচ্ছেন বলে মঙ্গলবার নজিরবিহীন অভিযোগ করেছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যপাল ‘মাস্তান সুলভ আচরণ’ করছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। স্মরণকালে পশ্চিমবঙ্গে কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ উপাচার্য নিয়োগ ঘিরে এই ধরণের সংঘাতের নজির নেই।

    পর্যবেক্ষকদের মতে, এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা প্রশাসনে চূড়ান্ত জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ ব্যাপারে বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন, “বাংলায় মাৎস্যনায় চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সংবিধান ছুড়ে ফেলে দিয়ে তৃণমূলের দলদাসকে শিক্ষা প্রশাসনে বসাচ্ছে।”

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More