অশান্ত দিল্লি ছেড়ে ঘরের পথে ছেলেরা, স্বস্তি ফিরল নওদায়

নিউরিতলার মায়েরা জানতে পেরে গেছেন হাওড়া থেকে পুলিশ এসকর্ট করে সড়কপথে ঘরে ফিরিয়ে দিচ্ছে তাঁদের ছেলেদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো : অশান্ত দিল্লি ছেড়ে এসেছে ঘরের ছেলেরা। ট্রেন থেকে নেমে পড়েছে হাওড়ায়। মোবাইল ফোনে সেই খবর আসতেই চেপে রাখা উদ্বেগ সরিয়ে আনন্দের অশ্রু গড়িয়ে পড়ল মায়েদের চোখ থেকে। অপেক্ষা শুরু হয়ে গেছে মুর্শিদাবাদের নওদার নিউরিতলা গ্রামে। কখন ঘরে ফিরবে ছেলে।

    নিউরিতলার মায়েরা জানতে পেরে গেছেন হাওড়া থেকে পুলিশ এসকর্ট করে সড়কপথে ঘরে ফিরিয়ে দিচ্ছে তাঁদের ছেলেদের। তাই চারদিন পর শুক্রবার হেঁসেলে ঢুকছেন মমতাজ বেওয়ারা। হাতে সময় বেশি নেই। বিকেলের মধ্যেই তৈরি করে ফেলতে হবে ছেলেদের পছন্দের খাবার।

    আলমগীর শেখের যখন ১২ বছর বয়স, তখন মারা যান তাঁর বাবা গোলাম শেখ। মা ও ভাইবোনের নিয়ে অচল হয়ে পড়া সংসারের চাকাটাকে সচল রাখতে দিল্লি চলে গিয়েছিল সে। কাজ নিয়েছিল জাফরাবাদের একটি ফ্যান তৈরির কারখানায়। সেখানে ফ্যানের কনডেন্সার তৈরির কাজে লাগানো হয়েছিল ১২ বছরের আলমগীরকে। আলমগীর এখন ২০। তাঁর হাত ধরে পরে সেই ফ্যান তৈরির কারখানায় কাজ নেয় ভাই শাহাবুলও। শুধু তাঁরাই নয়, নিউড়িপাড়ার বিভিন্ন ঘরের মোট ১৩ জন ছিলেন জাফরাবাদে। বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকের কাজ করতেন তাঁরা।

    গোষ্ঠী সংঘর্ষে দিল্লি রক্তাক্ত হয়ে উঠতেই প্রাণের ভয়ে ঘুম ছুটেছিল তাঁদের। প্রতিটা মুহূর্তকে মনে হয়েছে শেষ না হওয়া এক একটি প্রহর। এদিকে ছেলেদের চিন্তায় রাতের ঘুম চলে গিয়েছিল নিউড়িপাড়াতেও। অবশেষে একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের উদ্যোগে আটকে পড়া ১৩ জন বাঙালি শ্রমিকদের বুধবার রাতের কালকা মেলে তুলে দেওয়া হয়। সকালে হাওড়া পৌঁছোন তাঁরা। এরপরেই হাওড়া স্টেশন থেকে মুর্শিদাবাদ রওনা হন ওই শ্রমিকরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More