হাসপাতালে পৌঁছে দিল পুলিশ, ঘরের পথে আলিপুরদুয়ারে সন্তানের জন্ম দিলেন অসমের এক মা

রবিবার ৪৮ নং এশিয়ান হাইওয়ে ধরে একটি ট্রাকে চেপে বিহার থেকে গৌহাটি ফিরছিলেন একদল পরিযায়ী শ্রমিক। সেই ট্রাকেই ছিলেন অসমের কোকরাঝাড়ের বাসিন্দা আসন্নপ্রসবা আকলিমা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরে ফেরার সময় এশিয়ান হাইওয়েতে প্রসব যন্ত্রণা উঠল এক পরিযায়ী শ্রমিকের। সঙ্গে সঙ্গে বানারহাট থানার গয়েরকাঁটায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া হল ট্রাক। খবর রটতেই ছুটে এলেন আশেপাশের গ্রামের মানুষ। এগিয়ে এলেন মহিলারা। পথের ধারেই ফুটফুটে এক পুত্রসন্তান প্রসব করলেন মা। খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ ও আশাকর্মীরা। মা ও শিশুকে নিয়ে যাওয়া হল বীরপাড়া হাসপাতালে। সহযাত্রীরা শিশুপুত্রের নাম দিলেন কোভিড।

    স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, রবিবার ৪৮ নং এশিয়ান হাইওয়ে ধরে একটি ট্রাকে চেপে বিহার থেকে গৌহাটি ফিরছিলেন একদল পরিযায়ী শ্রমিক। সেই ট্রাকেই ছিলেন অসমের কোকরাঝাড়ের বাসিন্দা আসন্নপ্রসবা আকলিমা।  গয়েরকাঁটার কাছে আসতেই ট্রাকের মধ্যে প্রসব যন্ত্রণা ওঠে আকলিমার। সঙ্গে সঙ্গে ট্রাক দাঁড় করিয়ে তাঁকে নামিয়ে আনা হয়। নেমে পড়েন সঙ্গের মহিলারা। খবর রটতেই ছুটে আসে এলাকার মহিলারাও। পথের ধারেই হয় প্রসব। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পৌঁছে মা ও শিশুকে বীরপাড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে।

    আকলিমার স্বামী আতোয়ার বলেন , ‘‘পুলিশ সম্পর্কে এতদিন আমার ভুল ধারনা ছিল। তা পাল্টে গেল। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশ খুব সাহায্য করেছে। আমার স্ত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে গেছে। তেল, সাবান, কাপড় সব পুলিশ আমাকে কিনে দিয়েছে। টাকাও দিয়েছে। মা ও ছেলে দুই জনেই সুস্থ আছে।

    আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বলেন, ‘‘মা ও শিশু দুজনেই ভাল আছে। পরে ওঁদের অ্যাম্বুল্যান্সে করে বাড়িতে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হবে। ওই দলটির থাকা খাওয়ার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁরা কোথা থেকে ফিরছেন তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”

    বিষয়টি টুইট করেছে রাজ্যের নারী ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকও।

    প্রায় দেড় মাসের উপর করোনা রুখতে লকডাউন চলছে দেশজুড়ে। এই পরিস্থিতিতে সবথেকে সমস্যায় ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকরা। স্বল্প সময়ের নোটিসে লকডাউন শুরু হয়ে যাওয়ায় বাড়ি ফিরতে পারেননি তাঁরা। এদিকে কাজের জায়গাতেও অনিশ্চয়তার মেঘ। কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আয়ও বন্ধ। সরকারি-বেসরকারি ত্রাণ মিললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কিছুই না। এই পরিস্থিতিতে ঘরে ফিরতে মরিয়া তাঁরা। অথচ ট্রেন-বাস সহ সমস্ত যানবাহন বন্ধ।

    বাধ্য হয়ে কেউ রেলপথ ধরে, কেউ সড়কপথ ধরে হাঁটা শুরু করেছেন ঘরের দিকে। যাঁরা পেরেছেন কোনওমতে উঠে পড়েছেন কোনও পণ্যবাহী ট্রাকে। এই ভিড়ে যেমন রয়েছে পুরুষরা। তেমনই রয়েছেন মহিলা ও শিশুরাও। আসলিমার মতো আসন্নপ্রসবা অনেক শ্রমিকও ঘরের টানে এই ভিড়ে সামিল হয়েছেন। পথেই প্রসব হয়েছে আকলিমার মতো আরও অনেকের। এমন দুর্যোগেও ফুটফুটে সন্তান নিয়ে ঘরে ফিরছেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More