প্রসূতির মৃত্যু ঘিরে ঝাড়গ্রাম হাসপাতালে উত্তেজনা, জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ পরিবারের

ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েশারানি এ বলেন, ‘‘আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে বলেছি পুরো বিষয়টার তদন্ত করতে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনার উত্তেজনা ছড়াল ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। মৃত প্রসূতির নাম দীপা মণ্ডল(২৩)।

    দীপার স্বামী মিঠুন মণ্ডল জানান, বৃহস্পতিবার রাত একটা নাগাদ তাঁর স্ত্রীর প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। গাড়ি করে স্ত্রীকে ঝাড়গ্রাম জেলা হাসপাতালে নিয়ে এসে রাত  দেড়টা নাগাদ ভর্তি করেন। তখনই স্ত্রীকে লেবার রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। মিঠুন বলেন,  ‘‘আমার স্ত্রী বাড়িতেও বমি করেছিল এবং লেবার রুমেও বমি করে। আমার মা স্ত্রীর জন্য খাবার জল নিয়ে গেলে লেবার রুমে থাকা নার্সরা দুর্ব্যবহার করেন। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার কোনও চিকিৎসক এসে দেখেনি স্ত্রীকে। রাতেও সে অনেক বার বমি করেছে বলে জানতে পেরেছি। কিন্তু আমাদের কিছু জানানো হয়নি।’’

    মিঠুনের অভিযোগ, শুক্রবার সকাল ন’টায় ডাক্তার এসে বলেন বাচ্চা নড়াচড়া করছে না। তাই সিজার করতে হবে। সেই মতো তাঁরা কাগজে সই করে দেন। পাঁচ মিনিট পরেই চিকিৎসক বেরিয়ে এসে বলেন রোগীর শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। সিসিইউতে নিয়ে যেতে হবে। সিসিইউতে ভর্তির পর জানানো হয় তাঁর স্ত্রীর জ্ঞান নেই।

    দুপুর দেড়টা নাগাদ হাসপাতাল থেকে তাঁদের বলা হয়, রোগীর অন্য কোনও রোগ ছিল। লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। তারপরেই তাঁদের জানানো হয় মৃত্যু হয়েছে দীপার। ঘটনার কথা জানতে পেরে মৃতার পরিজনেরা ভিড় জমায়। সিসিইউর সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। কান্নায় ভেঙে পড়েন দীপার স্বামী মিঠুন মণ্ডল ও তাঁর মা দিপালী মণ্ডল।

    জানা গেছে, বিনপুর থানার অন্তর্গত আঁধারিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন দীপা। তাঁর স্বামী মিঠুন পেশায় ওষুধের দোকানের কর্মী। তিন বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল। গোটা ঘটনা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুখ খোলেনি। তবে জেলাশাসককে লিখিতভাবে পুরো বিষয়টি জানিয়েছে মৃতের পরিবার। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক আয়েশারানি এ বলেন, ‘‘আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে বলেছি পুরো বিষয়টার তদন্ত করতে।’’

    জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মির্ধা বলেন, ‘‘এনকোয়ারি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টে কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে অবশ্যই দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More