দশ হাজার টাকায় নিজের সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দিয়েছেন মা

অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য কোন্নগরে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে বিধায়ক

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: দশ হাজার টাকার বিনিময়ে সদ্যোজাত সন্তানকে বিক্রি করে দিয়েছেন মা, এমনই অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হল কোন্নগরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযুক্ত মহিলা অবশ্য দাবি করেছেন, কোনও অর্থের বিনিময়ে সন্তানকে বিক্রি করেননি তিনি। শিশুটিকে বড় করে তোলার সঙ্গতি না থাকায়  যে দম্পতির হাতে নিজের সন্তানকে তুলে দিয়েছেন, তাঁরাই চিকিৎসার জন্য ওই টাকা তাঁকে দিয়েছেন।

    বিষয়টা নিয়ে হইচই পড়ায় রবিবার কাঁসারীপুকুর এলাকার অরবিন্দপল্লীতে ওই মহিলার বাড়িতে যান উত্তরপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল। তাঁর কাছেও সন্তান বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন মা।

    জানা গেছে, কোন্নগরের ১৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই মহিলার তিনটি সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি আরেকটি শিশুর জন্ম দেন তিনি। এই শিশুটির ভরণপোষণের ক্ষমতা না থাকায় এক প্রতিবেশীর সাহায্যে এলাকার এক নিঃসন্তান দম্পতির হাতে বাচ্চাটিকে তুলে দেন। শনিবার বিষয়টি জানাজানি হতেই আশেপাশের মানুষজন তাঁর বাড়িতে ভিড় জমান। তাদের কাছে নিজের সন্তানকে দিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি। তবে টাকার বিনিময়ে এ কাজ করেননি বলেই জানান।

    পরে অবশ্য জানান, তাঁর অসুস্থ শরীর ও অন্য তিন বাচ্চার কথা ভেবেই ওই নিঃসন্তান দম্পতি তাঁর হাতে দশ হাজার টাকা দিয়েছেন। তবে তা কোনওভাবেই সন্তান বিক্রি নয়। এ ভাবে যে সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া যায় না তা জানিয়ে এরপরেই পড়শিরা পুলিশে খবর দেন।

    রবিবার ওই মহিলার বাড়িতে গিয়ে উত্তরপাড়ার বিধায়ক প্রবীর ঘোষাল জানান, ওই মহিলার সন্তানদের প্রয়োজনে যে কোনও সাহায্য করা হবে। এই ঘটনাতেও লেগেছে রাজনীতির রঙ। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ শিশু বিক্রিতে মদত রয়েছে ওই এলাকার তৃণমূলের এক মহিলা কর্মীর। তাকে গ্রেফতারের দাবিতে এ দিন কোন্নগর পুলিশ ফাঁড়িতে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি।

    অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল বিধায়ক প্রবীরবাবু দাবি করেন, “ওই মহিলা তৃণমূলের কেউ নন। দোষীদের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। পুরভোটের আগে নোংরা রাজনীতি করছে বিজেপি।”

    পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More