গুরুংয়ের ডিগবাজির পর অবস্থান নিয়ে দোলাচলে ডুয়ার্সের মোর্চা নেতৃত্বও

পাহাড়ের পাশাপাশি ডুয়ার্সের নাগরাকাটা, মাদারিহাট, কালচিনি ও কুমারগ্রাম এই চার বিধানসভা এলাকায় গোর্খা সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট রয়েছে। মুলত গোর্খা সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটের উপরই এই সব বিধানসভায় প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হয়। তাই বিমল গুরুং এনডিএ ছাড়ার ঘোষণার পরে গোর্খা ভোট কোন দিকে যায় তা দেখার অপেক্ষায় গোটা ডুয়ার্স।

৬৩৬

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: এনডিএর সঙ্গ ত্যাগ করে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে এখন সমঝোতা করতে আগ্রহী বিমল গুরুং। তাঁর এমন অবস্থানে দোলাচলে ডুয়ার্স। মোর্চা তো বটেই অন্য রাজনৈতিক দলের নেতারাও হন্যে হয়ে দিশা খুঁজছেন।

পাহাড়ের পাশাপাশি ডুয়ার্সের নাগরাকাটা, মাদারিহাট, কালচিনি ও কুমারগ্রাম এই চার বিধানসভা এলাকায় গোর্খা সম্প্রদায়ের প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট রয়েছে। মুলত গোর্খা সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটের উপরই এই সব বিধানসভায় প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হয়। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েকবছরের ভোটের ফলাফল বিশ্লেষন করলে দেখা যায় গোর্খা সম্প্রদায়ের ভোট সবসময় সঙ্গবদ্ধভাবে একই দিকে পড়ার রীতি রয়েছে। গত ভোটগুলোতে মুলত বিজেপিই গোর্খা ভোটের সুফল বহন করেছে। তাই বিমল গুরুং এনডিএ ছাড়ার ঘোষণার পরে গোর্খা ভোট কোন দিকে যায় তা দেখার অপেক্ষায় গোটা ডুয়ার্স।

ডুয়ার্সের পুরোনো মোর্চা নেতা মধুকর থাপা। বর্তমানে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তিনি। বুধবার মধুকর থাপা বলেন, ‘‘আমাদের নেতা এখনও বিমল গুরুং। তিনি কোথায় কী বলেছেন তা জানি না। তবে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা একটি রাজনৈতিক দল। এই দল সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলে। নবান্নে কে ক্ষমতায় এলো, তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। কিন্তু আমরা এটা বিশ্বাস করি যে গোর্খা সম্প্রদায়ের সমস্যার সমাধান একমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারই করতে পারে। রাজ্যের সেই ক্ষমতাই নেই।’’

নিজেদের বিশ্বাসের কথা জানালেও আগামী ভোটে তাঁদের স্ট্যান্ড নিয়ে এখনও স্পষ্ট কোনও ধারনা যে নেই তাও খোলসা করেন ডুয়ার্সের এই মোর্চা নেতা। বলেন, ‘‘ভোটের লড়াই লড়তে বাকি অনেক। তাই এখনই এ ব্যাপারে কোনও কথা বলতে পারব না।’’

এতদিন পর যাঁদের সঙ্গ ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন বিমল গুরুং, এনডিএর সরিক সেই বিজেপি নেতৃত্বও অবশ্য এখনই বিষয়টাকে আমল দিচ্ছেন না তেমন। আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপির সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘‘আগামী বিধানসভা ভোটে গুরুংয়ের নতুন অবস্থানের কী প্রভাব পড়বে তা সময়ই বলবে। আমি এই বিষয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করব না।”

তবে বিমলের ভোল বদলে খুশির হাওয়া তৃণমূল শিবিরে। আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মৃদুল গোস্বামী বলেন, ‘‘বিজেপি সম্পর্কে মোর্চার মোহভঙ্গ হয়েছে। বিজেপি মানুষের কোনও কাজে লাগতে পারে না। রাজ্যের ভাল যদি কেউ করতে পারেন তা একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল কংগ্রেস একমাত্র রাজ্যের উন্নয়ন করতে পারে। বিমলের এনডিএ ছাড়ার ঘোষণায় ডুয়ার্সের বেশ কিছু বিধানসভা আসনে আমরা অনেক এগিয়ে গেছি। কারণ পাহাড় সমতল মিলিয়ে উত্তরবঙ্গে ১৪ টি বিধানসভা আসনে গোর্খা ভোট একটি ফ্যাক্টর।’’

গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে ২০১৭ সালে নজিরবিহীন হিংসা দেখেছিল পাহাড়। আগুন, লুঠপাট, বনবাংলো জ্বালিয়ে দেওয়া, পুলিশ আধিকারিক খুন, সাধারণ ১৭ জন নাগরিকের জীবনহানি, ১০৪ দিন ধরে লাগাতার বনধ—কী হয়নি পাহাড়ে। তারপরই বিমল গুরুংয়ের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারায় মামলা রুজু হয়। গা ঢাকা দেন বিমল গুরুং, রোশন গিরিরা। তিন বছর গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর পঞ্চমীর বিকেলে হঠাৎ দেখা মেলে বিমল গুরুংয়ের। সটান তাঁরা হাজির হন সল্টলেক সিটি সেন্টারের উল্টোদিকে গোর্খা ভবনে। কিছুক্ষণ পরে কলকাতার একটি হোটেলে বসে সাংবাদিক বৈঠক করে এনডিএর সঙ্গ ছেড়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করার কথা ঘোষণা করেন বিমল। সে খবর পাহাড়ে পৌঁছতে বেশি সময় লাগেনি। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ তৈরি হয় বিনয় তামাংদের শিবিরেও। রাজনৈতিক মহলের ধারনা, গুরুং যে দিন পাহাড়ে পা রাখবেন সেদিন থেকেই জিটিএ-তে তাঁদের রাস আলগা হতে শুরু করবে বলে আশঙ্কা রয়েছে বিনয় তামাংদের। তাই গুরুংয়ের বিরোধিতায় ইতিমধ্যেই রাস্তায় নেমে পড়ে বিনয় তামাং-অনিক থাপাদের অনুগামীরা। গত রবিবার সোনাদায় বিরাট মিছিল করে বিনয় তামাংদের যুব সংগঠন। গুরুংয়ের ডিগবাজিতে পাহাড়ের পর এবার অবস্থান নিয়ে দোলাচলে ডুয়ার্সও।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More