‘রেফার টু অপচিকিৎসা’, মনোরোগীকে ওঝার ঝাঁড়ফুক, রেগে গিয়ে লিখলেন ডাক্তার

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, বীরভূম : মানসিক রোগের শিকার এক তরুণীর প্রেসক্রিপশনে ‘রেফার টু অপচিকিৎসা’ লিখে বিতর্কে জড়ালেন সিউড়ি সদর হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।

    সিউড়ির কুখুডিহি গ্রামে বাড়ি ১৭ বছরের ওই তরুণীর। মানসিক কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ায় গত জানুয়ারি মাস থেকে সিউড়ি সদর হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে তার। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পাশাপাশি ওই তরুণীকে গুণিনের কাছে নিয়ে গিয়ে ঝাঁড়ফুক করানোও জারি রেখেছে তার পরিবার। এটা জানতে পেরে রাগ করেই সিউড়ি হাসপাতালের চিকিৎসক জিষ্ণু ভট্টাচার্য তাঁর প্রেসক্রিপশনে ‘রেফার টু অপচিকিৎসা’ লিখে দেন বলে অভিযোগ।

    ওই তরুণীর বাবা এনামুল হক মিধ্যা বলেন, “”আমরা গুণিনের কাছে যাই শুনে রেগে গিয়ে আমার মেয়েকে আর দেখেননি উনি। প্রেসক্রিপশনে ওই কথাগুলি লিখে দেন। কোনও ডাক্তারবাবু কি এমন কাজ করতে পারেন ?

    মনোরোগ বিভাগের ডাক্তার জিষ্ণু ভট্টাচার্যের পাল্টা দাবি, মেয়েটি বাইপোলার ডিসঅর্ডারের রোগী। প্রতি দেড়মাস অন্তর ফলো-আপের জন্য রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে আসার কথা থাকলেও তাঁরা নিয়মমতো আসতেন না। যখন খুশি তখন আসতেন। ওঝার কাছে গিয়েও যে মেয়ের চিকিৎসা করানো হচ্ছে, কথা প্রসঙ্গে বেশ কয়েকবার তার বাবা-মা তা জানিয়েছেন।  তিনি বলেন, “আজও ওরা যখন এসেছিল আমি মেয়েটির শরীরে ওঝার মারের দাগ দেখতে পাই। তখনও ওর বাবা-মাকে আবারও ওঝার কাছে নিয়ে যেতে বারণ করি। তখন ওরা বলে সরকারি ওষুধে কোনও কাজ হচ্ছে না। আপনি শুধু ঘুমের ওষুধ লিখে দিন। ওঝার মারে মেয়েটির যদি কোনও ক্ষতি হয়, তখন তার দায় কে নেবে? কারণ সরকারি ভাবে আমিই তো ওর চিকিৎসা করছি। তাই ডকুমেন্টেশনের জন্য ওই কথাগুলি লিখে দিয়েছিলাম।”

    ওই তরুণীর বাবা জানান, তাঁরা হাসপাতালের সুপারকে পুরো ঘটনা জানিয়েছেন। জানানো হয়েছে জেলা সভাধিপতিকেও।

    বীরভূমের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক হিমাদ্রি আড়ি জানান, বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন তাঁরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More