টানা বর্ষণে জলমগ্ন বর্ধমানের বহু এলাকা, ভেসে গেল ফসলের জমি, মাছ চাষের পুকুরও

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জেসিবি দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করে সাময়িক সমাধান করার চেষ্টা করছেন। বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক নিশীথকুমার মালিক বলেন, ‘‘ড্রেনের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। জল নিকাশির বিষয়েও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করব।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: টানা ভারী বর্ষণে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন জায়গা। কারও উঠোনে হাঁটু সমান জল, জল ঢুকেছে ঘরেও।

বর্ধমান ২ ব্লকে ২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে আমড়া গ্রাম। আমড়া গ্রামের দাসপাড়ায় ৫০ ঘরের বাস। নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই জল জমে যায় পাড়ার বেশিরভাগ বাড়িতে। গত কয়েক দিন ধরে লাগাতার বৃষ্টিতে আশেপাশের মাঠ ঘাট জলে ভরে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় এবার জল ঢুকেছে ঘরের ভিতরেও। এলাকার বাসিন্দা বন্দনা রুইদাস বলেন, ‘‘একটু বৃষ্টি হলেই জল জমে যায় রাস্তাঘাটে। ঘরের ভিতর নোংরা জল থইথই করছে। শৌচাগারে ডুবেছে। ডুবেছে কলও। কবে এই জল নামবে জানি না কিছুই।’’

দাসপাড়ার আরেক বাসিন্দা বাবলু রুইদাস বলেন, ‘‘করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে লকডাউন। এরমধ্যেই বাড়িতে বৃষ্টির জল ঢুকে গোটা পাড়ার বাসিন্দাদের সঙ্গীন অবস্থা। এতদিন এলাকার জল ২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশের ড্রেন দিয়ে বের হতো। বহুদিন ড্রেন সংস্কার না হওয়ায় নিকাশি হচ্ছে না ঠিক মত। তাই এই বিপত্তি। ড্রেনে জমেছে প্লাস্টিকের প্যাকেট, মাটির ভাঁড়।’’

জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ জেসিবি দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করে সাময়িক সমাধান করার চেষ্টা করছেন। বর্ধমান উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক নিশীথকুমার মালিক বলেন, ‘‘ড্রেনের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। জল নিকাশির বিষয়েও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করব।’’

অন্যদিকে টানা বৃষ্টিতে জেলার আউশগ্রামের কয়রাপুর গ্রামও জলমগ্ন। বিঘের পর বিঘে চাষের জমি জলের নীচে। ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। গ্রামের ঢালাই রাস্তার উপর দিয়েও বইছে জলের স্রোত। জমিতে জল থৈ থৈ করায় চাষিদের মাথায় হাত। ,টানা বৃষ্টিতে পুকুর, ক্যানেল, ড্রেনের জল মিশে গেছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষিরাও। কয়রাপুরের বাসিন্দা শেখ আব্বাস বলেন, ‘‘পুকুরে মাছ চাষ করা হয়েছিল। কিন্তু পুকুর উপচে পড়ে চারামাছ তো বটেই বড়মাছও সব বেরিয়ে গেছে।

একনাগাড়ে বৃষ্টি চলছে। নরম হয়ে গেছে মাটি। তাই বাড়ি ভাঙার আশঙ্কায় রাতের ঘুম গিয়েছে গ্রামে যাঁদের মাটির বাড়ি সেই সব বাসিন্দাদের।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More