কুমারীর কোভিড টেস্টের পরে পুজো হল জয়রামবাটির মাতৃমন্দিরে

শ্রীশ্রী সারদাদেবীর জন্মস্থান বাঁকুড়ার পূণ্যভূমি জয়রামবাটিতে শনিবার ভোর ৫ টা ১৬ মিনিটে অষ্টমীর পুজো শুরু হয়। এরপর ঠিক সকাল ৯টায় শুরু হয় কুমারী পুজো। এবার জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরে কুমারী রূপে পূজিতা হলেন ৫ বছর ৩ মাসের দীপান্বিতা ভট্টাচার্য।

৩৩২

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: করোনা কাঁটায় তটস্থ শারদীয়া উৎসবের প্রাঙ্গন। তাই কুমারী পুজো করা যাবে কি না তা নিয়ে ছিল সংশয়। শেষপর্যন্ত অবশ্য যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রাচীন ঐতিহ্য আর পরম্পরা রক্ষা করে তিথি মেনে কুমারী পুজো অনুষ্ঠিত হল জয়রামবাটির মাতৃমন্দিরে৷

শ্রীশ্রী সারদাদেবীর জন্মস্থান বাঁকুড়ার পূণ্যভূমি জয়রামবাটিতে শনিবার ভোর ৫ টা ১৬ মিনিটে অষ্টমীর পুজো শুরু হয়। এরপর ঠিক সকাল ৯টায় শুরু হয় কুমারী পুজো। এবার জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরে কুমারী রূপে পূজিতা হলেন ৫ বছর ৩ মাসের দীপান্বিতা ভট্টাচার্য।

বিশেষ সূত্রের খবর, চতুর্থীরই দিনই কোভিড টেস্ট করে কুমারী ও তার পরিবারের সদস্যদের জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরে নিয়ে আসা হয়। সেদিন থেকেই তাঁরা এখানেই রয়েছেন। পুজোর পরে বাড়ি যাবেন তাঁরা

প্রত্যেক বছর জয়রামবাটির সারদা মায়ের পুরানো বাড়ি থেকে সিংহাসনে বসিয়ে বাজনা বাজিয়ে শোভাযাত্রা করে মঠের সন্ন্যাসীরা কুমারীকে নিয়ে মাতৃ মন্দিরের মণ্ডপে আসেন। সেখানেই বৈদিক মন্ত্রোচারণের মধ্য দিয়ে চলে কুমারী পুজা। এমনিতেই দুর্গাপুজোর সময় জয়রামবাটি মাতৃমন্দিরে চার দিন অসংখ্য ভক্ত হাজির হন। কুমারী পুজো উপলক্ষে অষ্টমীর সকালে সেই সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে এবার সেই সুযোগ নেই। করোনা পরিস্থিতির জন্য সমারোহ বাতিল। তৈরি হয়নি মণ্ডপ। নাট মন্দিরে নিয়মরক্ষার পুজো হচ্ছে। দর্শনার্থীদের প্রবেশের উপরেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। এদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো এলাকা জুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

১৮৫৩ সালে জয়রামবাটি মুখোপাধ্যায় পরিবারে জন্ম নেন সারদাদেবী। অল্প বয়সে বিয়ে হয় কামারপুকুরের গদাধর চট্টোপাধ্যায় অর্থাৎ শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণদেবের সঙ্গে। বিয়ের পর জয়রামবাটিতে বেশ কয়েক বছর ছিলেন সারদাদেবী। পরে কামারপুকুর এবং কলকাতার বাগবাজারে। জয়রামবাটির পুরানো বাড়িতে ও পরে নতুন বাড়িতে দীর্ঘ কয়েক বছর কাটিয়ে ছিলেন তিনি। জয়রামবাটীতে দুর্গাপুজা হতো না। তবে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু হয়েছিল বহু কাল আগে। জানা যায়, সারদাদেবীর মা শ্যামাসুন্দরী দেবী শুরু করেছিলেন জগদ্ধাত্রী পুজো। ধুমধাম করে আজও মহাসমারোহে পালিত হয় সেই জগদ্ধাত্রী পুজো। ১৯২৩ সালে বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজ স্বামী সারদানন্দজীর উদ্যোগে সারদাদেবীর দুটি বাড়িকেই অক্ষত রেখে জয়রামবাটিতে প্রতিষ্ঠা হয় মিশন। ১৯২৫ সালে ঘটে পটে দুর্গাপুজা শুরু হয় জয়রামবাটিতে। পরবর্তী কালে  ১৯৫৩ সালে মাতৃ মন্দির চত্বরে মণ্ডপ করে মহাসমারোহে মাটির প্রতিমা তৈরি করে দেবী বন্দনা শুরু হয়। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে মন্ত্র, বিধি ও তিথি নিয়মানুসারে আজও জয়রামবাটী মাতৃমন্দিরে দুর্গাপুজো হয়। অষ্টমীর দিন তিথি মেনে  কুমারী পুজো হয় জয়রামবাটিতে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More