থোড়-মোচা-কচুর শাক, ডালের বড়ার টক দিয়ে জামাইষষ্ঠীতে মহাপ্রভুর ব্যঞ্জন সাজালেন বিষ্ণুপ্রিয়ার পরিবারের উত্তরসূরীরা

প্রতি বছরের মতো এদিনও মহাপ্রভুকে জামাই সাজে সাজান মহাপ্রভুর সহধর্মিনী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর বংশধরেরা। পরানো হয় ধুতি পাঞ্জাবী। তালপাতার পাখা, দূর্বা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় তাঁকে। তারপরেই তাঁর পছন্দের ২১ পদ দিয়ে সাজানো হয় মহাপ্রভুর ভোগের থালা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, নদিয়া: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপের ছন্দ নষ্ট করেছে আগেই। মন্দিরে দেব আরাধনা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে ভক্তদের ঢল নেই। সারাবছর যেখানে ভিড় লেগে থাকে সারা বিশ্বের মানুষের, সেই মন্দির শহর এখন শুনশান। তবে জামাইষষ্ঠীতে মহাপ্রভুর জন্য সাজানো ব্যঞ্জনে কিন্তু তার কোনও ছায়া পড়তে দেননি বিষ্ণুপ্রিয়ার পরিবারের উত্তরসূরীরা। ২১ পদ সাজিয়ে মহাপ্রভুর ভোগ নিবেদন করলেন তাঁরা।

    তবে প্রতিবছর যে উৎসব ঘিরে রীতিমতো জাঁকজমক হয়, আজ শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর সেই জামাইষষ্ঠী পালিত হল একেবারেই অনাড়ম্বরভাবে। শুধু মানা হল প্রথা। প্রতি বছরের মতো এদিনও মহাপ্রভুকে জামাই সাজে সাজান মহাপ্রভুর সহধর্মিনী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর বংশধরেরা। পরানো হয় ধুতি পাঞ্জাবী। তালপাতার পাখা, দূর্বা দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয় তাঁকে।

    তারপরেই তাঁর পছন্দের ২১ পদ দিয়ে সাজানো হয় মহাপ্রভুর ভোগের থালা। পরিবারের তরফে সুদিন গোস্বামী জানান, চৈতন্যদেব ছিলেন তাঁদের বাড়ির জামাই। জামাইষষ্ঠীর দিন যেভাবে সাজিয়ে দেওয়া হত তাঁর পাত, সেই ঐতিহ্য তাঁরা বজায় রেখেছেন এখনও। তিনি বলেন, ‘‘থোড় খেতে ভালবাসতেন চৈতন্যদেব। ভালবাসতেন নারকেল ও ছোলা দিয়ে মোচার ঘণ্ট ও কচুর শাক খেতে। ডালের বড়া ছিল তাঁর অতি পছন্দের তালিকায়। তাই ২১ ব্যঞ্জনে থাকে ডালের বড়ার টক। গরমকালে দই, আদা, লঙ্কাকুচি দিয়ে ঠান্ডা ভাত মেখে খেতে ভালবাসতেন। তাই সেই পদও সাজিয়ে দেওয়া হয়। মিষ্টির মধ্যে যেমন থাকে তালের বড়া, পাশাপাশিই থাকে রসবড়াও।’’

    বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর বংশধর রাধারানী গোস্বামী বলেন, ‘‘মহাপ্রভু আমাদের বংশের জামাই। সেইজন্যই আজকের এই দিনে তাঁকে  জামাই আদরেই বরণ করে নেই আমরা। এ বছরে লকডাউনে মন্দির বন্ধ আছে। তার উপর আবার ঝড়। সে কারণে তেমন  জাঁকজমক করতে পারিনি। কোনওরকম ভাবে রীতি মেনে পালন করলাম দিনটা।’’

    বিষ্ণুপ্রিয়া সেবা সমিতির সম্পাদক জয়ন্ত গোস্বামী বলেন, ‘‘আমরা গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সহধর্মিনী বিষ্ণুপ্রিয়াদেবীর ভাইয়ের বংশধর। সে কারণে উনি আমাদের কাছে বাড়ির জামাই। সারাবছর এই মন্দির দর্শন করতে ছুটে আসেন কত মানুষ। কিন্তু প্রায় দু’মাস লকডাউনের জন্য আমরা প্রভুর মন্দির বন্ধ রেখেছি। আজকের এই অনুষ্ঠানে ভক্তদের কোনও উপস্থিতি নেই। মন্দির শুনশান। শুধু আমরা কয়েকজন মিলে আজকের এই দিনটা পালন করলাম।

    প্রাচীন এই শহরে লুকিয়ে আছে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুকে নিয়ে কত গল্পগাথা। নদিয়ার ঘরের ছেলে তিনি। আবার জামাইও। তাঁর পূর্ববঙ্গ সফরকালে সাপের ছোবলে মৃত্যু হয়েছিল চৈতন্যদেবের প্রথম স্ত্রী লক্ষীপ্রিয়ার। তারপরেই মায়ের অনুরোধে তিনি বিয়ে করেছিলেন বিষ্ণুপ্রিয়াকে। বাবা জগন্নাথ মিশ্রের মৃত্যুর পর গয়ায় পিণ্ড দিতে গিয়ে স্বামী ঈশ্বরপুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল তাঁর। তারপরেই ঘুরে গিয়েছিল শচিমায়ের আদরের সন্তানের জীবনের গতিপথ। কৃষ্ণভাবময় ভক্তরূপে প্রকাশ ঘটল চৈতন্যদেবের। তাঁর ভক্তি আন্দোলনে ভেসে গেলেন মানুষ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More