শাসকদলের দুই নেতার কাজিয়ায় তেতে উঠল গুসকরা, থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন দুজনেই

সিপিএম ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া অরূপ মির্ধার বিরুদ্ধে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন গুসকরা পুরসভার বিদায়ী কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। যদিও অরূপবাবু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনিও পাল্টা অভিযোগ এনেছেন নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: শাসকদলের দুই নেতার কাজিয়ায় ফের সরগরম গুসকরা। দুই নেতাই একে অপরের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

সিপিএম ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়া অরূপ মির্ধার বিরুদ্ধে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন গুসকরা পুরসভার বিদায়ী কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়। সোমবার গুসকরা পুলিশ ফাঁড়িতে অরূপবাবুর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি। প্রবীণ তৃণমূল কংগ্রেস নেতা নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের ভাল্কি অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অরূপবাবু তাঁকে ফোনে খুনের হুমকি দিয়েছেন। যদিও অরূপবাবু অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনিও পাল্টা অভিযোগ এনেছেন নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। সব মিলে দলেরই দুই নেতার অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে শাসকদের কাজিয়া প্রকাশ্যে।

গুসকরা পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় সোমবার পুলিশকে জানান, রবিবার রাত ন’টা নাগাদ তাঁর মোবাইলে ফোন আসে। অরূপ মির্ধা পরিচয় দিয়ে প্রথমে অকথ্য ভাষায় তাঁকে গালিগালাজ করা হয়। তারপর গুসকরায় গিয়ে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়। নিত্যানন্দবাবু বলেন, ‘‘প্রথমবার ফোন করার পর ফের রাত ১০ টা নাগাদ ওই একই নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করে আমাকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। ওই মোবাইল নম্বরটি অরূপ মির্ধার এটা নিশ্চিত হওয়ার পরেই আমি ওঁর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।’’ ভাল্কি অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি অরূপ মির্ধার পাল্টা দাবি, নিত্যানন্দবাবুই টেলিফোনে তাঁকে গালিগালাজ করেছেন। এই অভিযোগে নিত্যানন্দবাবুর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনিও। অরূপ মির্ধা বলেন, ‘‘আমি নিত্যানন্দকে হুমকি দিইনি। উনিই আমাকে উল্টোপাল্টা গালিগালাজ করে হুমকি দিয়েছেন।’’

কিন্তু কেন এই দ্বন্দ্ব? রাজনৈতিক মহলে খবর, সম্প্রতি তৃণমূলের রাজ্য কমিটি থেকে পুর্ব বর্ধমান জেলায় সমন্বয় কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি দলের পর্যবেক্ষকের পদও তুলে দেয়। আউশগ্রাম বিধানসভা এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক ছিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। সাংগঠনিক পরিবর্তনের পর এই বিধানসভা এলাকার কো অর্ডিনেটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ভাতারের বিধায়ক সুভাষ মণ্ডলকে। আর তা নিয়েই কয়েকদিন ধরেই আউশগ্রামে দলের মধ্যেই চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অরূপ মির্ধার দাবি, ‘‘আমি অনুব্রত মণ্ডলের অনুগামী। তাঁর হাত ধরেই তৃণমূলে এসেছি। কিন্তু  নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় আমার নেতার উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করায় প্রতিবাদ করেছিলাম।”

যদিও নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকেই দলে রয়েছেন। পুরসভার কাউন্সিলরের পাশাপাশি এক সময়ে তিনি গুসকরা শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতিও ছিলেন। গত বছর জুলাই মাসে সিপিএমের ডাকসাইটে নেতা অরূপ মির্ধা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। আর তারপর থেকেই এলাকায় শাসকদলের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। এলাকার এক বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতার অভিযোগ, অরূপ মির্ধা বাম আমলে এলাকায় ত্রাস ছিল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পরও একের পর এক ঝামেলা অশান্তি সৃষ্টি করেছে। বাড়ি ঘর ভাঙচুর থেকে আগুন লাগানো। আর এখন সেই সিপিএম নেতাই ভাল্কি মাচান অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি। ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে বালি ব্যবসায়ী শেখ লালনকে আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের কার্যকরী সভাপতি করা নিয়েও। বাম আমলে ওই এলাকায় শেখ লালন ও অরূপ মির্ধা শেষ কথা বলতেন। মাস খানেক আগে সেখ লালনকে দলের দায়িত্বে আনা হয়। ফলে ক্ষোভ উগড়ে দিচ্ছেন এলাকার সাধারণ কর্মী সমর্থকরা।

নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি পুলিশের কাছে দাবি করেছি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হোক।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More