পরিযায়ী শ্রমিকদের হাতের কড়ে আঙুলে কালির চিহ্ন দিয়ে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ বর্ধমানে

প্রতিদিনই একের পর এক ট্রেন ঢুকছে বর্ধমান স্টেশনে। শ’য়ে শ'য়ে মানুষ ফিরছেন। পাল্লা দিয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন থেকে কেউ যাতে পালিয়ে বাড়ি চলে যেতে না পারে তারজন্য তাঁদের হাতের কড়ে আঙুলেও কালি লাগানোর সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রশাসন।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: প্রতিদিনই একের পর এক ট্রেন ঢুকছে বর্ধমান স্টেশনে। শ’য়ে শ’য়ে মানুষ ফিরছেন। পাল্লা দিয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও বাড়ছে। ভিনরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের বাড়ি ফেরা শুরু হতেই এভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় উদ্বিগ্ন প্রশাসন। এতদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের চিহ্নিত করতে তাঁদের হাতের বুড়ো আঙুলে কালি লাগানো হচ্ছিল। এবার বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন থেকে কেউ যাতে পালিয়ে বাড়ি চলে যেতে না পারে তারজন্য তাঁদের হাতের কড়ে আঙুলেও কালি লাগানোর সিদ্ধান্ত নিল জেলা প্রশাসন।

    গত পাঁচ দিনে পূর্ব বর্ধমান করোনা আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে ৭১ এ পৌঁছেছে। যার মধ্যে ৫৮ জন এই জেলার বাসিন্দা। বুধবার একদিনে ২১ জনের লালারসের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বৃহস্পতিবার ফের ১৪ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এরা সকলেই পরিযায়ী শ্রমিক।

    দেশের হাইরিস্ক জোন হিসেবে চিহ্নিত পাঁচ রাজ্য মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থান থেকে ইতিমধ্যে প্রায় ১৪০০ পরিযায়ী শ্রমিক পূর্ব বর্ধমানে ফিরেছেন। জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেন, ‘‘এই পাঁচ রাজ্য থেকে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হবে। সেই নির্দেশ অমান্য করে কেউ যাতে বাড়ি চলে যেতে না পারে তাই তাঁদের চিহ্নিত করতে কড়ে আঙুলে কালি লাগানোর জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। সেই নির্দেশিকা মেনে কালি লাগানোর কাজ শুরুও করে দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর ।

    জেলাশাসক জানান, দেশের হাইরিস্ক জোন ওই পাঁচ রাজ্য থেকে আসা প্রত্যেকের উপর আলাদা নজরদারি রাখার জন্যই কড়ে আঙুলে কালি লাগানোর ব্যবস্থা। কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে পালিয়ে এই শ্রমিকদের কেউ বাড়ি চলে গেলেও তাঁদের চিহ্নিত করতে অসুবিধা হবে না। কড়ে আঙুলের কালি দেখে তাঁদের ফের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে পাঠানো হবে। তবে এক্ষেত্রে পরিযায়ী শ্রমিক বা বাইরে থেকে আসা যাত্রীরা দূরের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের বদলে বাড়ির কাছের গ্রামের স্কুলের কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকতে পারবেন। এই ব্যাপারে ইতিমধ্যেই বিশেষ টাস্ক ফোর্স তৈরি করা হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More