ট্রুনাট পরীক্ষায় করোনায় মৃত পুলিশ কর্মীর সংক্রমণ ধরা না পড়ায় চিন্তা আলিপুরদুয়ারে

তবে আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য দফতরের ডেপুটি সিএমওএইচ (২) সুবর্ণ গোস্বামি অবশ্য এই ঘটনায় অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘‘শুধু ট্রুনাট মেশিন নয়, যে কোনও টেস্টিং ব্যবস্থাতেই এমনটা হতে পারে। লালারসে ভাইরাসের উপস্থিতির মাত্রা অনেক সময় এই গন্ডগোল ঘটিয়ে দেয়।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: ট্রুনাট মেশিনে পজেটিভ রিপোর্ট আসার পরেও আরটিপিসিআর (রিয়েল টাইম পিসিআর) টেস্টে করোনা নেগেটিভ আসার ঘটনা আকছার ঘটছে। কিন্তু ট্রুনাট মেশিনে নেগেটিভ রিপোর্ট আসার পরেও আরটিপিসিআর টেস্টে রিপোর্ট পজেটিভ আসায় সংশয় তৈরি হয়েছে জেলার স্বাস্থ্যকর্তাদের মধ্যে। আলিপুরদুয়ার শহরেই ঘটেছে এমন ঘটনা। তাই প্রশ্ন উঠছে এই সব পরীক্ষার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে।

আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম থানার বারোবিশা পুলিশ আউটপোস্টের কনস্টেবল বিনোদ বর্মন ৫ অগষ্ট আলিপুরদুয়ার জেলা সদর হাসপাতালে মারা যান। সেই দিন আলিপুরদুয়ার জেলা সদর হাসপাতালের ট্রুনাট মেশিনে ওই করোনা যোদ্ধার কোভিড টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। যা দেখে কার্যত আশ্বস্ত হয়েছিলেন ওই কনস্টেবলের পরিবার ও অন্যান্য পুলিশ কর্মীরা। কিন্তু সেদিনই হাসপাতালে মারা যান ফ্রন্ট লাইনে থেকে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করা ওই পুলিশ কনস্টেবল।

আর তারপরেই ৭ অগস্ট আরটিপিসিআর টেস্টের ফলাফল দেখে অনেকেরই চক্ষু চরকগাছ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। মৃত করোনা যোদ্ধা পুলিশ কর্মী করোনা পজেটিভ ছিলেন। তারপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে হইচই শুরু হয়েছে। অনেকেরই প্রশ্ন ট্রুনাট মেশিনে পরীক্ষায় যদি করোনা ধরাই না পরে তাহলে তো কোভিডের চিকিৎসাই শুরু করবেন না চিকিৎসকরা। আর চিকিৎসা শুরু না হলে রোগীর অবস্থাতো দিন দিন খারাপ হতে পারে।

তবে আলিপুরদুয়ার জেলা স্বাস্থ্য দফতরের ডেপুটি সিএমওএইচ (২) সুবর্ণ গোস্বামী অবশ্য এই ঘটনায় অস্বাভাবিক কিছু দেখছেন না। তিনি বলেন, ‘‘শুধু ট্রুনাট মেশিন নয়, যে কোনও টেস্টিং ব্যবস্থাতেই এমনটা হতে পারে। লালারসে ভাইরাসের উপস্থিতির মাত্রা অনেক সময় এই গন্ডগোল ঘটিয়ে দেয়। ফলে এমন ঘটনা যে ঘটছে না তা আমরা বলব না। বরং কিছু ক্ষেত্রে তা ঘটছে। তবে তা খুবই সামান্য।”

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ফ্রন্ট লাইনে থাকা করোনা যোদ্ধাদের মৃত্যুতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার নানান সুযোগ সুবিধার কথা ঘোষণা করেছেন। তাহলে একই ব্যক্তির দুই রকম রিপোর্টে পরিবারের ক্ষতিপূরণ পেতে কোনও অসুবিধে হবে কি না, তা নিয়ে মৃত করোনা যোদ্ধাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও সংশয় তৈরি হওয়াটাও অমুলক নয়। তবে সেই সংশয় দূর করেছেন পুলিশ আধিকারিক। কুমারগ্রাম থানার আইসি বাসুদেব সরকার বলেন, ‘‘আরটিপিসিআরের রিপোর্টকেই আমরা চুড়ান্ত রিপোর্ট ধরব। মৃত ওই পুলিশ কর্মীর পরিবারের সদস্যদের সরকার ঘোষিত সুযোগ সুবিধে পেতে কোনও অসুবিধা হবে না।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More