করোনা শঙ্কায় বন্ধ বাসন্তী পুজোও, প্রতিমার অর্ডার বাতিল হওয়ায় হাহাকার মৃৎশিল্পীদের ঘরে

জলপাইগুড়ি জেলায় মহা ধুমধামে হয় বাসন্তী পুজো, করোনার ধাক্কায় এ বার পুজো বন্ধ

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বাতিল হচ্ছে একের পর এক বারোয়ারি বাসন্তী পুজো। হতাশায় মুখ শুকিয়ে গেল জেলার মৃৎশিল্পীদের।

২৯ শে মার্চ বাসন্তী পঞ্চমী। প্রতিবছর ওই দিন জলপাইগুড়ি জেলার বিভিন্ন ব্লকে মহা ধুমধাম করে বাসন্তী প্রতিমা নিয়ে যায় বারোয়ারি পুজো কমিটিগুলি। এবার করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করেছে সরকার। ফলে পুজোও বন্ধ। আর এর জেরে মাথায় হাত জেলার মৃৎ শিল্পীদের। শুধু বাসন্তী প্রতিমাই নয়। সামনেই রয়েছে নববর্ষ ও হালখাতা। ওইদিন জলপাইগুড়ির বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন বড় করে গনেশপুজো করে। বাসন্তী এবং গনেশ পুজোর মাঝে চৈত্র মাসে শিব, মঙ্গলচণ্ডীর প্রতিমাও তৈরি করেন মৃৎশিল্পীরা। এবার প্রতিমা বানিয়ে ফেললেও নেওয়ার লোক নেই। উল্টে  বাতিল হচ্ছে সেই প্রতিমার জন্য দেওয়া অর্ডারও।

সুভাষ পাল নামে এক প্রতিমা শিল্পী বলেন, ‘‘আমার কারখানায় তিনটি বাসন্তী প্রতিমা অর্ডার পেয়েছিল। প্রতিমার মাটির কাজ প্রায় শেষ। এখন একের পর এক অর্ডার বাতিল হয়ে গেল। এবার আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।’’

তাঁরা জানিয়েছেন, জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ছোট বড় দু’শোরও বেশি প্রতিমা শিল্পীর কারখানায় শতাধিক বাসন্তী প্রতিমা, অন্তত ৭০ টি বড় গণেশ প্রতিমা, এছাড়া কয়েক হাজার শিব, মঙ্গলচণ্ডী প্রতিমার অর্ডার বাতিল হয়েছে। তাঁদের আরও দাবি, একেকটি বাসন্তী বা গনেশ প্রতিমার দাম ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২৫ হাজার টাকা। ছোট প্রতিমাগুলি ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা, মাঝারি সাইজের প্রতিমা দেড় হাজার টাকা থেকে সাত হাজার টাকা। সবমিলিয়ে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় দু’কোটি টাকা।

উদ্ভুত সমস্যার জেরে আর্থিক সাহায্য চেয়ে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে মৃৎশিল্পীদের সংগঠন। সংগঠনের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক রঞ্জিত বর্মন বলেন, ‘‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের জেরে  আমাদের সমস্ত প্রতিমার অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে। হাহাকার পড়ে গেছে কারখানাগুলিতে। সরকারের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছি আমরা।’’

জলপাইগুড়ি আদরপাড়ার সার্বজনীন বাসন্তী পূজো গত কয়েক বছর ধরে নজর কাড়ছে। বেশ কয়েক লক্ষ টাকা বাজেট থাকে তাদের। সেই পূজো কমিটিও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় পুজো বন্ধের কথা জানিয়ে দিয়েছেন সদর মহকুমাশাসককে। পূজো কমিটির দুই সম্পাদক লক্ষ্মী ভট্টাচার্য, রাজু দাস নামে বলেন, ‘‘এখন লকডাউন পরিস্থিতিতে নানা সরকারি বিধিনিষেধ থাকায় পুজো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। সামনের বছর দেখা যাবে।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More