রাজ আমলের প্রথা মেনে এখনও দোলের দিন নয়, পরের দিন রং খেলায় মাতে বর্ধমান

দোলের দিন শুধু ঠাকুরের হোলি হবে। পরের দিন ঠাকুরের পায়ের রং দিয়ে হোলিতে মাতবে বর্ধমানের আপামর মানুষ। এমনটাই ছিল নিয়ম।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো,বর্ধমান: গোটা বাংলা আজ দোলের রঙে রঙিন হবে। রঙের আনন্দে মাতবে বাংলার সমস্ত প্রান্ত। ব্যতিক্রম বর্ধনাম। দোলের দিন রঙের ধারে পাশেও যাবেন না এখানকার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই প্রথা আজও কঠোরভাবে মেনে চলেন বর্ধমানের বাসিন্দারা। ঠাকুরের পায়ে আবির না দেওয়া পর্যন্ত রঙের আনন্দ থেকে দূরেই থাকেন তাঁরা।

    বর্ধমানের রাজার আমল থেকে চলছে এই প্রথা। বর্ধমানের রাজারা ছিলেন অবাঙালি। তাদের উপাস্য দেবতা ছিলেন লক্ষীনারায়ণজিউ। এই লক্ষ্মীনারায়ণজিউয়ের মন্দিরে দোলের দিন ঠাকুরের পায়ে রং দেওয়া হত। হোলিকে ঘিরে হত নানা উৎসব, আচার-অনুষ্ঠান। এইসব করতে করতে গড়িয়ে যেত বেলা। প্রজাদের সেদিন আর রং খেলা হত না। তাই বর্ধমান রাজ পরিবার থেকে এই প্রথা চালু করা হয়েছিল যে, দোলের দিন শুধু ঠাকুরের হোলি হবে। পরের দিন ঠাকুরের পায়ের রং দিয়ে হোলিতে মাতবে বর্ধমানের আপামর মানুষ।

    রাজ আমল শেষ হয়েছে সেই কবে। তবুও প্রজন্মের পর প্রজন্ম বহন করে আসছে এই প্রথা। বিকল্প ভাবার চেষ্টা হলেও তা নাকি সফল হয়নি। রাজপরিবারের পুরোহিত জানান, একসময় লক্ষ্মীনারায়ণজিউয়ের মন্দিরে মহাধূমধামে পালিত হত দোল। গোটা শহর ও সংলগ্ন এলাকার মানুষ অংশ নিতেন সেই দোল উৎসবে। তিনি বলেন,‘‘জমিদারি প্রথার অবসানের পর রাজপরিবারের দোলে সেই জৌলুস আর নেই। তবুও এখনও কিছু মানুষ আছেন। তারা ঠাকুরের এই দোলের দিনে লক্ষীনারায়ণ মন্দিরে আসেন।’’

    কিন্তু পরের দিন দোল খেলার প্রথা আজও রয়ে গেছে। আজ ঠাকুরের দোল, কাল মানুষের দোল। এটাই মেনে আসছেন এখানকার মানুষ। এখন আর কেউ রাজপরিবারের প্রজা নন। তবুও আজ নয়, রং আবিরে মঙ্গলবারই রঙিন হবে বর্ধমান শহর ও লাগোয়া গ্রামগুলি। এমনকী বর্ধমান জেলাশাসকের অফিসের দোল খেলাও হবে মঙ্গলবারই।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More