অব্যবস্থায় হতাশ খোদ স্বাস্থ্যকর্তা, বন্ড সই করে বেরিয়ে এলেন কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে

জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ (১) বিশ্বজিৎ রায় দিন কয়েক আগে বুকের ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। হঠাৎ করেই কমে গিয়েছিল তাঁর রক্তের প্লেটলেট। নিজে ডাক্তার হওয়ার সুবাদে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তারদের বারবার তাঁর ডেঙ্গু টেস্ট করতে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁরা তা শোনেননি বলে বিশ্বজিৎবাবুর অভিযোগ। শুক্রবার বন্ড সই করে হাসপাতাল ছাড়লেন তিনি

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, কোচবিহার: অব্যবস্থার কারণে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বন্ড সই করে বেরিয়ে এসে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে গেলেন কোচবিহার স্বাস্থ্য দফতরের এক শীর্ষ কর্তা। মেডিক্যাল কলেজের পরিষেবা নিয়ে তুললেন একাধিক অভিযোগ। আর এই নিয়ে চাঞ্চল্য কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গণ্ডি পার করে ছড়াল জেলা স্বাস্থ্য দফতরের অন্দরে।

জেলার ডেপুটি সিএমওএইচ (১) বিশ্বজিৎ রায় দিন কয়েক আগে বুকের ব্যথা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। হঠাৎ করেই কমে গিয়েছিল তাঁর রক্তের প্লেটলেট। নিজে ডাক্তার হওয়ার সুবাদে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তারদের বারবার তাঁর ডেঙ্গু টেস্ট করতে বলেছিলেন। কিন্তু তাঁরা তা শোনেননি বলে বিশ্বজিৎবাবুর অভিযোগ।

তিনি জানান, তাঁর চিকিৎসার কাজে নিযুক্ত ডাক্তাররা কোনওরকম সহযোগিতা করছিলেন না। বরং খুবই দায়সারা গোছের কাজ করছিলেন। অনেকবার বলার পর অবশেষে হয় ডেঙ্গু টেস্ট। রিপোর্টে তাঁর ডেঙ্গু ধরা পরে। শুক্রবার সকালে এই নিয়ে মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক ডাক্তার দেবব্রত সাহা সিসিইউতে গিয়ে তাঁকে উদ্দেশ্য করে বেশ কিছু কটূ কথা বলেন বলেও ওই স্বাস্থ্য আধিকারিকের অভিযোগ। এসবের পরেই এ দিন দুপুরে মেডিক্যাল কলেজের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা স্বাস্থ্য আধিকারিক নিজেই বন্ড সই করে সরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন।

হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে বিশ্বজিৎ রায় একরাশ অভিযোগ তোলেন মেডিক্যাল কলেজের অব্যবস্থা নিয়ে। তিনি বলেন, ‘‘আমার হার্টের সমস্যা রয়েছে। পেরি কার্ডিয়াল ইনফ্রাকশন। তারজন্য কলকাতায় গিয়ে চিকিৎসাও করিয়েছি। কিন্তু এই কোভিড পরিস্থিতিতে উপয়ুক্ত বিশ্রাম নেওয়া সম্ভব হয়নি। দু’দিন আগে আমার প্লেটলেট কাউন্ট খুবই কমে যায়। তারপরেই এখানে ভর্তি হয়েছিলাম। কিন্তু যে অভিজ্ঞতা হল তা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। ফিজিশিয়ানরা ঠিক মতো আসেন না। কে আমার চিকিৎসা করবে তা নিয়ে কনফিউশন। বারবার বলছি আমার ডেঙ্গি টেস্ট করানো হোক, কেউ কানে তুলছিলেন না। শেষমেশ ডেঙ্গি রিপোর্ট তো পজেটিভই এলো।’’ যে ভাষায় আমার সঙ্গে কথা বলেছেন ডাক্তাররা তাই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘‘আমার যদি এসব শুনতে হয় তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হবে তা আন্দাজ করে যায়।  একসময় এই হাসপাতাল কেন্দ্রের কায়াকল্প পুরস্কার পেয়েছিল। আজ পরিষেবার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে বলেও অভিযোগ উঠেছে।’’

কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজের অব্যবস্থা নিয়ে খোদ উপ মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের এই অভিযোগ যথেষ্ট বেকায়দায় ফেলে দিয়েছে জেলার স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের। কারণ জেলায় করোনার বিরুদ্ধে সামনে থেকে লড়াইয়ের ব্যাপারে বিশ্বজিৎবাবুর  ভূমিকা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। মাসখানেক আগে তিনি অসুস্থ হওয়ায় কলকাতায় চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন। ডাক্তাররা তাঁকে পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে বললেও কিছুদিনের মধ্যেই তিনি আবার করোনা মোকাবিলার কাজে নেমে পড়েন। ১ তারিখ আবার অসুস্থ হয়ে পড়ায় কোচবিহার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁরই এমন অভিযোগে রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দফতরে।

বর্তমানে এই মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি ছুটিতে। তাঁর জায়গায় থাকা আধিকারিক দেবব্রত সাহা জানান, উপ মুখ্য আধিকারিক কেন এমন বলেছেন তা তিনি জানেন না। তবে ডেঙ্গু পরীক্ষা নিয়ে যে একটা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল তা অস্বীকার করেননি তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More