হাই ভাইরাল লোড থাকা করোনা রোগীর সংখ্যাবৃদ্ধিতে উদ্বেগ জলপাইগুড়িতে

২০ নিচে ভাইরাল লোড থাকা করোনা আক্রান্ত রোগীরা মানুষের মধ্যে বেশি করে করোনা ছড়িয়ে দিতে পারে। আর গত এক সপ্তাহে জলপাইগুড়িতে এই ধরনের রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: করোনার গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। তাই শারদোৎসব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন উত্তরবঙ্গে করোনা মোকাবিলার দায়িত্বে থাকা অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাক্তার সুশান্ত রায়।

গত একমাসে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যবিধি মানতে চুড়ান্ত সতর্কতা জারি করলো স্বাস্থ্য দফতর। একমাসের রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করে অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি ডাক্তার সুশান্ত রায় জানালেন, জলপাইগুড়ির করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ঠিকঠাক স্বাস্থ্যবিধি না মানলে মাটি হয়ে যেতে পারে আসন্ন শারদোৎসব।

খোদ স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী শুরু থেকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জলপাইগুড়ি জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৭১৬ জন। মৃত্যু হয় ৫৫ জনের। করোনা হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা পেয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন মোট ৫০৯৪ জন। এখনও চিকিৎসাধীন ৬১২ জন। স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, ‘‘আপাতত জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ মানুষ ভাবছে সব ঠিকঠাক আছে। কিন্তু দুটো বিষয় চিকিৎসক মহল ও স্বাস্থ্য দফতরকে নাড়া দিয়েছে। সেই দুটি বিষয় হল করোনায় পজিটিভিটি বৃদ্ধির হার এবং হাই ভাইরাস লোডে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি।’’

গত চার সপ্তাহের প্রথম সপ্তাহে করোনা পজিটিভিটি বৃদ্ধির হার ছিল ৪.৯৪%। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫.৮২%। তৃতীয় সপ্তাহে এই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫.৯৫%। আর চতুর্থ সপ্তাহে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৭৭%। অন্যদিকে গত একমাসে হাই ভাইরাস লোড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে সমানতালে। যা অত্যন্ত উদ্বেগের।

তিনি জানান, ভাইরাল লোড সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জলপাইগুড়ি জেলায় লাগাতার কাজ করে চলেছে। ২০ নিচে ভাইরাল লোড থাকা করোনা আক্রান্ত রোগীরা মানুষের মধ্যে বেশি করে করোনা ছড়িয়ে দিতে পারে। আর গত এক সপ্তাহে এই ধরনের রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। এরফলে সাধারণ সর্দি কাশি থাকলে রোগী সুস্থ হয়ে যাবে। কিন্তু যেই সমস্ত রোগীর সুগার বা প্রেশার আছে তাদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে পারে।

স্বাস্থ্যকর্তার আশঙ্কা, এই বৃদ্ধির জেরে জলপাইগুড়ি জেলার করোনা পরিস্থিতি যখন তখন মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। আসন্ন শারদোৎসব পণ্ড হতে পারে। তাঁর কথায়, ‘‘করোনা হাসপাতাল থেকে শুরু করে ডাক্তার সব কিছু আছে আমাদের। কিন্তু মানুষ সতর্ক না হলে ডাক্তারবাবু কতদূর পর্যন্ত করতে পারবে! মাথায় রাখা দরকার ডাক্তারদের চিকিৎসার কিন্তু একটা সীমা আছে। তাই করোনা প্রতিরোধে সমস্ত সামাজিক বিধি মেনে চলা দরকার।’’

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More