মোড়লের নির্দেশ অমান্য করার ‘শাস্তি’, ৫৪ বছরের মহিলাকে গণধর্ষণ ভাতারে

মহিলার অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধের সময় মোড়ল সোম মুর্মু দলবল নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর ওই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও অভিযুক্তদের দাবি, পূর্বের গন্ডগোলের জেরে মিথ্যা মামলা করে তাদের ফাঁসানো হয়েছে।

৩৪

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ৫৪ বছরের এক আদিবাসী প্রৌঢ়াকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল ভাতারে। অভিযুক্ত মোড়ল সহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে ভাতার থানার পুলিশ।

ওই প্রৌঢ়াকে যৌন নির্যাতন এবং তাঁকে ও তাঁর স্বামীকে মারধরের অভিযোগে মোড়ল সোম মুর্মু, মঙ্গল বেসরা ওরফে কাঠি, সুনীল মাড্ডি ও ডিঙ্গা মুর্মুকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ডিঙ্গার বাড়ি ওড়গ্রামের লাইনপাড় এলাকায়। বাকিদের বাড়ি পাহাড়পুরে। বুধবার রাতে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। বৃহস্পতিবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের প্রয়োজনে ধৃতদের ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিশ। ধৃতদের দু’দিন পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম। ধৃতদের মেডিকেল পরীক্ষা করানোর জন্যেও আবেদন জানান তদন্তকারী অফিসার। তা মঞ্জুর করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক স্টেট মেডিসিনের বিভাগীয় প্রধানকে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

মহিলার অভিযোগ, মঙ্গলবার সন্ধের সময় মোড়ল সোম মুর্মু দলবল নিয়ে তাঁর বাড়িতে চড়াও হয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে। মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করার পর ওই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও অভিযুক্তদের দাবি, পূর্বের গন্ডগোলের জেরে মিথ্যা মামলা করে তাদের ফাঁসানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক মাস আগে বছর চুয়ান্নর ওই প্রৌঢ়ার ছোট মেয়ে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। এ নিয়ে সালিশি সভা বসে। মোড়ল সোম মুর্মু প্রৌঢ়ার মেয়েকে গ্রাম ছাড়া করে দেওয়ার নিদান দেয়। বাধ্য হয়ে মেয়েকে ভাতার থানার রাধামোহনপুরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন প্রৌঢ়া। কিন্তু দিনকয়েক আগে ওই তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেজন্য মেয়েকে কয়েকদিনের জন্য বাড়িতে নিয়ে আসার অনুমতি চান মোড়লের কাছে। কিন্তু মোড়ল অনুমতি দেয়নি।

এরই মধ্যে প্রৌঢ়ার মেয়ে ফিরে এসেছে বলে এলাকায় খবর রটে। মঙ্গলবার রাতে প্রৌঢ়া, তাঁর স্বামী ও দুই নাতিকে নিয়ে ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। রাত ১০টা নাগাদ অভিযুক্ত চারজন বাড়ির ভিতরে ঢোকে। প্রৌঢ়া ও তাঁর স্বামীকে ডাকাডাকি করে। ঘুম ভেঙে যায় প্রৌঢ়ার। কাউকে কিছু না বলে সোম মুর্মু ঘরের ভিতরে ঢুকে প্রৌঢ়ার মেয়ে এসেছে কি না তা খুঁজতে থাকে। এরপর বেরিয়ে সে প্রৌঢ়ার স্বামীকে মারধর করে। লাথি মেরে প্রৌঢ়ার স্বামীকে উঠানে ফেলে দেয় মোড়ল। বাকি তিনজন প্রৌঢ়াকে ধরে টানাটানি করে। মারধর করে। প্রৌঢ়াকে চেপে ধরে সুনীল ও ডিঙ্গা। প্রৌঢ়ার উপর যৌন নির্যাতন চালানোর জন্য উঠানে দাঁড়িয়ে নির্দেশ দেয় মোড়ল। এরপর তারা চলে যায়।

প্রতিবেশীরা তাঁদের চিৎকার শুনে ছুটে আসেন। তাঁরাই প্রৌঢ়াকে উদ্ধার করে গুসকরা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বিশেষ প্রহরায় সেখানেই এখন চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। হাসপাতালেই তাঁর বয়ান নথিভুক্ত করে পুলিশ। তার ভিত্তিতে ধৃতদের বিরুদ্ধে বাড়িতে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অন্যায়ভাবে আটকে রাখা, পদের অপব্যবহার করে যৌন নির্যাতন, মারধর ও হুমকির অভিযোগ এনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More