উত্তরপ্রদেশ থেকে চার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছতেই কান্নার রোল পুরুলিয়ার গ্রামে

দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টার পর অবশেষে একটি লরিতে চেপে শুক্রবার বাড়ির দিকে রওনা হয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু বাড়ি আর ফেরা হল না তাঁদের। এসে পৌঁছল দুঃসংবাদ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: অন্ধকার নামল পুরুলিয়া মফস্বল থানার দুমদুমি গ্রামে। দুই পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর খবর আসতেই কান্নার রোল উঠেছে গ্রামে। উত্তরপ্রদেশের আউরিয়ায় পথ দুর্ঘটনায় মৃত ২৪ জন পরিযায়ী শ্রমিকের মধ্যে ৪ জন পুরুলিয়া জেলার বাসিন্দা। মৃত অপর দুই শ্রমিকের একজন কোটশিলা থানার উপরবাটরি গ্রামের বাসিন্দা। আর একজনের নাম জানা গেলেও কোন এলাকার বাসিন্দা তা এখনও জানা যায়নি।

    দুমদুমি গ্রামের বাসিন্দা চন্দন রাজোয়ার(২৮) ও মিলন বাদ্যকার(৩২) রাজস্থানের জয়পুর জেলার মেলা থানা এলাকায় একটি মার্বেল কারখানায় কাজ করতেন। লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই সেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টার পর অবশেষে একটি লরিতে চেপে শুক্রবার বাড়ির দিকে রওনা হয়েছিলেন তাঁরা। সঙ্গে ছিলেন পুরুলিয়া জেলারই বাসিন্দা আরও দুই শ্রমিক কোটশিলা থানার উপরবাটরি গ্রামের অজিত মাহাতো ও গণেশ রাজোয়ার।

    কিন্তু বাড়ি আর ফেরা হল না। তাঁদের অপেক্ষায় থাকা ঘরের মানুষের কাছে এসে পৌঁছল দুঃসংবাদ। উত্তরপ্রদেশের লখনউ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে আউরাইয়া জেলায় দু’টি ট্রাকের মুখোমুখি ধাক্কায় মারা গেছেন তাঁরা। জানা গিয়েছে, শুক্রবার  রাত ৩টে নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার বেলা গড়ালে সেই খবর এসে পৌঁছয় পুরুলিয়ায়।

    খবর আসতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া। খবর পেয়ে দমদুমি গ্রামে মৃত দুই পরিযায়ী শ্রমিকের বাড়ি যান জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় ব্যানার্জি। মৃতদের নিকটাত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মৃতদের পরিবারকে দু’ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। সুজয়বাবু বলেন, ‘‘খবর পেয়েই আমি আমাদের জেলাশাসকের সঙ্গে কথা বলি। উত্তরপ্রদেশ সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম আমরা। ওই শ্রমিকদের মৃতদেহ ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এখনই মৃতদের পরিবারপিছু দু’লক্ষ টাকা করে সাহায্য দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হল।’’

    সুজয়বাবু জানান,পুরুলিয়া জেলার চারজন মারা গেছেন বলে প্রাথমিক ভাবে তাঁদের কাছে খবর এসেছিল। এই চারজনের নাম জানতে পারলেও গণেশ রাজোয়ার নামে একজনের ঠিকানা এখনও উদ্ধার করতে পারেননি তাঁরা। ওই শ্রমিকের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রত্যেকের পরিবারকেই আপৎকালীন সাহায্য করা হবে। পরে এই পরিবারগুলির যদি আরও সাহায্য দরকার হয় তখনও এ রাজ্যের প্রশাসন তাঁদের পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More