পাহাড়ি পথে উঠছে না খাবার, লকডাউনের জেরে বক্সায় খাদ্য সঙ্কটের আশঙ্কা

বিষয়টি আঁচ করেই তড়িঘড়ি ওই সমস্ত এলাকায় খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: লকডাউনের জেরে আলিপুরদুয়ার জেলায় বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় ব্যাপক খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি আঁচ করেই তড়িঘড়ি ওই সমস্ত এলাকায় খাবার পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিলেন জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা। তিনি বলেন, “জেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় খাদ্যদ্রব্য কীভাবে পৌঁছে দেওয়া যায় তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বক্সা পাহাড়ের সান্তালাবাড়ি থেকে খাদ্যদ্রব্য ওপরে তোলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে প্রশাসন কুলি নিয়োগ করে পাহাড়ে খাবার তুলবে। কারও কোনও অসুবিধে হবে না।”

    ২৩ মার্চ সারা দেশের সঙ্গেই আলিপুরদুয়ার ও জয়গাঁ এই দুই শহরে লকডাউন শুরু হয়। পরের দিন থেকে লকডাউন শুরু হয় জেলার সমস্ত জায়গাতেই। আর লকডাউন শুরু হতেই সম্পুর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে আলিপুরদুয়ার জেলার বক্সা পাহাড়ের ১৩টি গ্রামের মানুষ। সাধারণ অবস্থায় আলিপুরদুয়ার শহর থেকে চাল, ডাল, তেল, নুন সহ নানান নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস সান্তালাবাড়িতে পৌঁছয়। সান্তালাবাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে খাদ্যদ্রব্য নিয়ে যাওয়া হয় বক্সা পাহাড়ের ১৩টি গ্রামে ।  কিন্তু বর্তমানে লকডাউনের জেরে তা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাহাড়ের ছোট ছোট দোকানে যে সামান্য খাবার মজুত ছিল তা একেবারে শেষ হওয়ার পথে। আগামী দিনগুলোতে কী হবে তাই নিয়ে দুশ্চিন্তায় বক্সা পাহাড়ের বাসিন্দারা।

    বক্সা পাহাড়ে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ফ্যামিলি প্ল্যানিং অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার কর্মীরা। এই সংস্থার কর্তা তুষার চক্রবর্তী বলেন, “আমরা বক্সা পাহাড়ের বিভিন্ন এলাকায় ওষুধ মজুত করেছি। ফলে সামান্য জ্বর, সর্দিকাশি, পেটখারাপের ওষুধ নিয়ে কোনও চিন্তা করতে হবে না। কিন্তু লক ডাউনের জন্য বক্সা পাহাড়ের মঙ্গলবারের দু’টো হাট বাতিল হয়ে গেছে। কেনাকাটা করতে পারেননি বক্সা পাহাড়ের ১৩টি গ্রামের মানুষজন। এই অবস্থায় চরম খাদ্য সংকট তৈরি হতে পারে। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার জেলা প্রশাসনের।’’

    শুধু বক্সা পাহাড় নয়, একই সমস্যায় রয়েছে ভুটান পাহাড়ের কোলে টোটোপাড়াও। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের জয়ন্তী ও কাইজালি বস্তিও জেলার দুর্গম এলাকায়। জয়ন্তীর সঙ্গে জেলা সদরের নিয়মিত যোগাযোগ থাকলেও লকডাউনে পরিস্থিতি অনেকটাই বেসামাল বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল। টোটোপাড়ার বাসিন্দা ভবেশ টোটো বলেন, “টোটোপাড়ার বেশিরভাগ মানুষের সুপারি বাগান রয়েছে। এছাড়া প্রত্যেকেই নিজেদের বাগানে সামান্য হলেও সবজি চাষ করেন। তাই সবজির অসুবিধে হচ্ছে না। কিন্তু এবার তামাক গুটকা বন্ধ হওয়ায় সুপারির কদর নেই। এই অবস্থায় দূরে গিয়ে চাল, ডাল, তেল নুন কিনতে মানুষেরা অসুবিধেয় পড়বেন। এখানেও লকডাউনের কারণে মঙ্গলবারের হাট হয়নি। ফলে জমা খাদ্য শস্য ফুরিয়ে সংকট তৈরি করবে।”

    জানা গিয়েছে জেলার দুর্গম এলাকায় খাদ্য সংকট যাতে তৈরি না হয় সেই ব্যবস্থা নিতে তৎপর জেলা প্রশাসন। প্রশাসনিক কর্তারা কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে জেলার বিভিন্ন দুর্গম এলাকার মানুষেরা।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More