তিস্তার জল নামলেও জলবন্দি জলপাইগুড়ির তিনটি ওয়ার্ডের মানুষ, প্লাবিত তুফানগঞ্জ-মেখলিগঞ্জও

গজলডোবায় জল নামলেও বাংলাদেশ হয়ে প্রবাহিত তিস্তার জলে প্লাবিত হয়েছে মেখলিগঞ্জের কুচলিবাড়ি এলাকা। বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘরে জল ঢুকে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু মানুষ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

    দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটানা বৃষ্টির জেরে জল বাড়ায় গজলডোবায় তিস্তার অসংরক্ষিত এলাকায় রবিবার লাল সংকেত জারি হয়েছিল। হলুদ সংকেত জারি হয়েছিল সংরক্ষিত এলাকায়। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় সোমবার তা তুলে নেওয়া হল। জলঢাকার অসংরক্ষিত এলাকায় জারি হওয়া হলুদ সংকেতও তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে টানা বৃষ্টিতে প্লাবিত হয়েছে জলপাইগুড়ি শহরের তিনটি ওয়ার্ড।

    প্রতিবছরই তিস্তার জল ব্যাক ফ্লো হয়ে ঢুকে পরে করলা নদীতে। ফলে ভাসে করলা নদীর তীরবর্তী অঞ্চল। এবারও করলার জলে জলমগ্ন জলপাইগুড়ি শহরের দিনবাজার, বোয়ালমাড়ি, হাসপাতালপাড়া, রায়কতপাড়ার একাংশ। জলপাইগুড়ি সদরের বিডিও তাপসী সাহা জানান, জেলাশাসকের নির্দেশে এনডিআরএফের একটি টিম ওই সমস্ত এলাকায় গিয়ে প্রায় আট হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে এনেছে। বিভিন্ন উঁচু জায়গায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে তাঁদের। রবিবার শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছিল তাঁদের। সোমবার রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছে। তবে ফ্লাড সেন্টারে রাখা হয়নি কাউকেই। কারণ তিস্তার জল নামতে শুরু করায় করলাতেও জল নামবে বলেই আশা। তখন ঘরে ফিরে যেতে পারবেন দুর্গতরা।

    গজলডোবায় জল নামলেও বাংলাদেশ হয়ে প্রবাহিত তিস্তার জলে প্লাবিত হয়েছে মেখলিগঞ্জের কুচলিবাড়ি এলাকা। বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ঘরে জল ঢুকে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বহু মানুষ। অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি ঘরে তালা দিয়ে হাতের সম্বলটুকু নিয়ে উঠে এসেছেন উঁচু জায়গায়।

    একনাগাড়ে বৃষ্টির জেরে জল বাড়ছে কোচবিহারের প্রায় সবকটি নদীতেই। রবিবার বিকাল থেকেই জল বাড়তে শুরু করে বিভিন্ন নদীতে। মেখলিগঞ্জ-ধাপড়া রাজ্য সড়কের উপর দিয়ে বইতে থাকে জল। প্লাবিত হয় রাজ্য সড়ক লাগোয়া এলাকা। জলবন্দি হয়ে পড়ে প্রায় শতাধিক পরিবার। বাংলাদেশের দহগ্রাম-আঙ্গারপোতা এলাকায় কোনও নদী বাঁধ না থাকায় বাংলাদেশের দিক থেকে তিস্তার জল ঢুকে কুচলিবাড়ি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বহু মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন স্কুল ও উঁচু জায়গায়।

    রায়ডাক নদীর জল ঢুকে প্লাবিত হয়েছে তুফানগঞ্জ পুরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড। একাধিক বাড়িতে জল ঢোকায় নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাসিন্দাদের। গদাধর নদীর জলে ভেসেছে বালাঘাটের বিস্তীর্ণ এলাকা। গজলডোবায় তিস্তার জল নামলেও তার প্রভাব এখানে এসে পৌঁছতে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগে। তাই তিস্তার জল নেমে যাওয়ার খবরে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে কোচবিহারের ভিটেছাড়া মানুষ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More