পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণা, চক্রের পাণ্ডা-সহ বর্ধমানে গ্রেফতার ৫

সিআইডি অফিসার পরিচয় দিয়ে বর্ধমান থানার নান্দুরে ঘরভাড়া নিয়েছিল প্রতারকরা। রীতিমতো অফিসও খোলা হয়েছিল। চাকরি প্রার্থীদের অফিসে নিয়ে এসে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হত। এমনকি ব্যারাকপুরে পুলিস ট্রেনিং ইনস্টিটিউটেও নিয়ে যাওয়া হত চাকরি প্রার্থীদের। ইনস্টিটিউটের বাইরে থেকে ঘুরিয়ে আনা হত তাঁদের। এই চক্রের শিকার হয়েছে এমন ১৩ জনের হদিস পেয়েছে পুলিশ।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: রীতিমতো অফিস খুলে পুলিশে চাকরি দেওয়ার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারণার চক্র চলছিল রমরমিয়ে। শেষরক্ষা হল না। পুলিশের জালে ধরা পড়ে গেল প্রতারক চক্রের পাণ্ডা রাজেন হাজরা ও তার সঙ্গীরা।

সিআইডি অফিসার পরিচয় দিয়ে বর্ধমান থানার নান্দুরে ঘরভাড়া নিয়েছিল রাজেন। রীতিমতো অফিসও খোলা হয়েছিল। চাকরি প্রার্থীদের অফিসে নিয়ে এসে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হত। এমনকি ব্যারাকপুরে পুলিস ট্রেনিং ইনস্টিটিউটেও নিয়ে যাওয়া হত চাকরি প্রার্থীদের। ইনস্টিটিউটের বাইরে থেকে ঘুরিয়ে আনা হত তাঁদের। এই চক্রের শিকার হয়েছে এমন ১৩ জনের হদিস পেয়েছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকারও বেশি প্রতারকরা হাতিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ।

রায়না থানার ভগবতীপুরের বাসিন্দা বাপ্পাদিত্য পোড়েলের কাছ থেকে সম্প্রতি কনস্টেবলের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এই প্রতারকরা ৩ লক্ষ টাকা নেয় বলে অভিযোগ। তাঁকে একটি ইন্টারভিউ লেটারও দেয় ওই দুষ্কৃতীরা। সেটি জাল জানতে পেরে বাপ্পাদিত্য থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরেই রায়না থানার ওসি পুলক মণ্ডল তদন্তে নেমে রাজেন, সত্যজিৎ, নাজেম ও জানারুলকে গ্রেফতার করে। ধৃতদের কাছ থেকে কনস্টেবল ও হোমগার্ডের কয়েকটি জাল নিয়োগপত্র উদ্ধার হয়। এছাড়াও হোমগার্ডের চাকরির আবেদনপত্র ও পুলিসের স্ট্যাম্প বাজেয়াপ্ত করে পুলিস। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে চাকরি করে দেওয়ার নাম করে বেকার ছেলেদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লক্ষ টাকা করে নেয় রাজেন ও তার দলবল।

পুলিশ জানিয়েছে, হেফাজতে থাকা রাজেনকে নিয়ে নান্দুরের ভাড়াবাড়িতে হানা দিয়ে বেশ কয়েকটি পুলিশের পোশাক উদ্ধার করা হয়। মেলে পুলিশের বেল্ট, টুপি, জুতো, রাজ্য পুলিশের লোগো, আই কার্ড ও লালবাজারের নকল গেটপাস। ট্রেনিং শেষে চাকরি প্রার্থীদের পোশাক দেওয়া হত। চক্রের জাল বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত বলেই পুলিশের অনুমান। রাজেনকে সঙ্গে নিয়ে ব্যারাকপুর পুলিস কমিশনারেটে রহড়ার কল্যাণনগরে হানা দিয়ে চক্রের আরও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিস। ধৃতের নাম আকাশ কুমার সাউ। সে চাকরি প্রার্থীদের ব্যারাকপুর ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে নিয়ে যেত বলে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছে পুলিস।

৩ দিনের পুলিসি হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার রাজেনকে ফের আদালতে পেশ করা হয়। তার সঙ্গেই পেশ করা হয় আকাশ, সত্যজিৎ বিট্টার, নাজেম মল্লিক ও শেখ জানারুলকে। চক্রের বাকিদের হদিশ পেতে এবং হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারের জন্য রাজেনকে ফের ১১ দিন হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানায় পুলিশ। একই সঙ্গে আকাশকেও ১১ দিন হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানানো হয়। তাদের ৭ দিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন সিজেএম রতনকুমার গুপ্তা। বাকিদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ১৪ জুলাই ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন বিচারক।

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

You might also like

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.

This website uses cookies to improve your experience. We'll assume you're ok with this, but you can opt-out if you wish. Accept Read More